বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

পুঁজিবাজারে ১৮শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বিআইএ

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০১১
অর্থনৈতিক রিপোর্টার: পুঁজিবাজারের মন্দা মোকাবিলায় বিনিয়োগযোগ্য জীবন বীমা তহবিলের ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)। গতকাল এসইসি চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের কাছে লিখিতভাবে সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এ প্রস্তাব দেন। শেয়ারবাজারে বীমা তহবিলের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পাশাপাশি এসইসির কাছে ৩টি সুবিধা চেয়েছে বিআইএ। এগুলো হলো- আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবসিডিয়ারি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি গঠনে লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দান। বিআইয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৭টি বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানির ১৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৮০ লাখ টাকা তহবিলের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য। ইতিমধ্যে বীমা তহবিলের ১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগযোগ্য এ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হলে চলমান তারল্য সঙ্কট কাটনোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে যেহেতু বীমা তহবিলের অর্থ পলিসি হোল্ডারদের, সেজন্য তহবিলের অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিআইএ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের নিরাপত্তার স্বার্থে ৩টি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআইয়ের নির্বাহী কমিটির সভায় এ প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে বলে বিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হলো- মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসাবে মার্চেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রদান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে অনুমতি দান। বৈঠক শেষে বীমা তহবিল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আহসান ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব প্রস্তাবগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে বলে এসইসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেন টিটু। তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার এসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানোর কথা রয়েছে। সে সিদ্ধান্তের আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ১৭টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য ৩৭০ কোটি ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ডেলটা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ৩৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ১২ কোটি টাকা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৩৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ২৬ কোটি টাকা, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪১ কোটি টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকার মধ্যে ২২ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪২ কোটির মধ্যে ১৫ কোটি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৮৪ কোটি ১২ লাখ টাকার মধ্যে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭১ কোটি টাকার মধ্যে ৬২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার মধ্যে ৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬২ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা এবং গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে।