ইত্তেফাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইত্তেফাক লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১২

দুই বাজারেই সূচক কমেছে

সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সাধারণ সূচক কিছুটা কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাইকোর্টের রুলের পরদিন ডিএসইতে দরপতন হয়েছে। গতকাল ডিএসইতে মোট  ২৫৬টি কোমপানির ১১ কোটি ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ৭৮টি শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৬৮৮ কোটি ৮৫ লাখ ৪৮ হাজার ৯৬৪ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৯ কোটি ৪ লাখ টাকা বেশি।  ডিএসইর সাধারণ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৭ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট কমে  ৫ হাজার ৯৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ডিএসই-২০ মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ৫ দশমিক ২৫ পয়েন্ট  কমে  ৩ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনকৃত ২৫৬টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৩ টির কমেছে ১১৬২ টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১১ টি কোম্পানির শেয়ারের।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মোট  ১৮৬ টি কোমপানির ১ কোটি ২৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৫ টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৮৫ লাখ ২৩ হাজার ৫৬৬ দশমিক ১০ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি ০১ লাখ ৯০ হাজার ৭০৭ দশমিক ৪৫ টাকা বেশি।  সিএসইতে সার্বিক মূল্য সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট  কমে ১৪ হাজার ৮৬৫ দশমিক ৬২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের শেয়ার সংরক্ষণের শেষ সময় ২১ মে

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের ব্যক্তিগতভাবে শতকরা ২ ভাগ এবং সমস্টিগতভাবে কোম্পানির শতকরা ৩০ ভাগ শেয়ার ক্রয়ের সময়সীমা কমবেশি ৩০ কার্যদিবস অর্থাত্ আগামী ২১শে মে’র মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
 পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ের সময়সীমা নিয়ে সপ্তাহের শুরুর দিন গত রবিবার  গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, হাইকোর্টে রীট কিংবা রুলজারি করা হয়েছে। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে এসইসিকে শেয়ার ধারণ ক্ষমতার আদেশকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তার ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য এই রুলজারি হয়েছে। এ খবরে সূচক ৭৮ পয়েন্ট বৃদ্ধি থেকে নামতে নামতে ১১ পয়েন্ট থেকে ১৮ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে যায়।
গত দু’বছর আগে পুঁজিবাজার যখন তুঙ্গে ছিল তখন এক শ্রেণীর পরিচালকরা নিজেদের হাতে রাখা শেয়ার বিক্রি করে কমবেশি ২২ হাজার কোটি টাকা পুঁজিবাজার থেকে নিয়ে গেছে। এরপর এক শ্রেণীর অসাধু উদ্যোক্তারা প্লেসমেন্টের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রি করে কমবেশি ৮ হাজার কোটি টাকা বিনাসুদে এবং বিনালাভে নিজেদের ব্যবসা বাণিজ্য এবং কলকারখানায় খাটাচ্ছেন। এ নিয়ে সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) তাদের চেয়ে শক্তিশালী উদ্যোক্তাদের ভয়ে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও যারা বুক বিল্ডিং পদ্ধতির মাধ্যমে ১০ টাকার শেয়ার ২শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন তাদের শেয়ার বর্তমানে বাজার মূল্য ৪০/৫০ টাকায় নেমে এসেছে। ডিএসই’র সভাপতি রকিবুর রহমানের সাথে পরিচালকদের শেয়ার ধারণের ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গত দু’বছর এখানে বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য কোম্পানির প্রায় ১৫শ’ পরিচালক নিজেদের হাতে রাখা শেয়ার পুঁজিবাজারে বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। ডিএসই এবং এসইসির বিষয়টি নজরে আসার পর গত বছরের ২২শে নভেম্বর এসইসি আগামী ২১শে মে’র মধ্যে পরিচালকদের শেয়ার ধারণ বাধ্যতামূলক করে দেন। এর মধ্যে ডিএসই বিষয়টি পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য এসইসির নিকট একটি চিঠি দিয়েছে। তিনি বলেন, ১৫/১৬ শ’ পরিচালকের মধ্যে ইতিমধ্যে ৮শ’  থেকে সাড়ে ৮শ’ পরিচালক শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়ে শেয়ার ক্রয় শুরু করে দিয়েছেন।  মার্চেন্ট ব্যাংক এসোসিয়েশন সভাপতি এম. এ. হাফিজের সাথে  যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পরিচালকদের শেয়ার ক্রয় শেষ হলেই পুঁজিবাজারে অস্থিরতা কাটবে। সেই সাথে এই সংক্রান্ত গুজবেরও অবসান হবে বলে তিনি মনে করেন।