ঢাকা, নভেম্বর ১৯: পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি এখন প্রধানমন্ত্রীর দিকে।
গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নেয়া গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে আগামীকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সরকার কর্তৃক ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) ও নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানো, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যাংকের তারল্য সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কয়েক দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
কিন্তু পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ঘোষিত এ আশ্বাসে এখনও পুরোপুরি আশ্বস্থ হননি বিনিয়োগকারীরা। কারণ অতীতের দিনগুলোর আর্তনাদ এখনও ভুলে উঠতে পারেননি অনেকেই।
তাদের মতে, বাজারকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক। আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুয়ায়ী এসইসি কি ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার অপেক্ষায় রয়েছে লাখো নি:স্ব বিনিয়োগকারী।
এর আগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসইসিসহ বিভিন্ন পক্ষ গত ১০ মাসে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেন। তবে এর বেশিরভাগ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা রয়েই যায়। তাই সরকারকর্তৃক যেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছে তা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজার উভয়ই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
এ বিষয়ে তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ-উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে এর জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সূচক বৃদ্ধি প্রত্যাশিত হলেও তা যেন আগের মতো কোন কারণ ছাড়া আট হাজার পয়েন্টে উঠে না আসে। তবে তা হবে ঝুঁকিপূর্ণ।
অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বিনিয়োগাকরীরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হয়েছে কি-না তা এখনই বলা যাবে না। এর জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়নের উপরও নির্ভর করছে বাজারের ভবিষ্যৎ।
এদিকে ২০১০ সালে বাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টদের গত ১৬ নভেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় গণভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা দরকার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাজারে আবার কোনো কারসাজির অভিযোগ মেনে নেয়া হবে না। সেই সঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে তাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।
শেয়ারনিউজ২৪/এস/পিএস/১৭১০ঘ.
