মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১২

পপুলার লাইফ ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত বীমা খাতের দুই কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কোম্পানি দুইটি হচ্ছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আজ কোম্পানির বোর্ড মিটিংএ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩৭ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে । ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আজ কোম্পানির বোর্ড মিটিংএ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২.৩৫ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারন সভা (এজিএম) ২৮ জুন ও রেকর্ড ডেট ৮ মে আহবান করেছে।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৩.৯৮ টাকা।

ইউনিক হোটেলের আবেদন চলছে

প্রিমিয়ামসহ আইপিওতে সাড়া দিচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রিমিয়াম দিয়ে প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তিনটি কোম্পানির আইপিওতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে (আন্ডারসাবস্ক্রাইবড)। এ অবস্থায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামে রবিবার থেকে ইউনিক হোটেলের প্রাথমিক শেয়ারের আবেদন জমা শুরু হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কতোটা সাড়া দিবে সে বিষয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।  

এর আগে বিএসসি, জিবিবি পাওয়ার ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা তেমন একটা সাড়া দেননি। এ তিন কোম্পানির আবেদনে নির্ধারিত কোটার চেয়ে কম আবেদন জমা হয়।

শেয়ার নিউজের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক মার্কেট নিয়ে এখন অনেক সচেতন। ফলে কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজারের যোগসাজশে অধিক প্রিমিয়াম নেয়া হলেও তারা তা বর্জন করছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আইপিও আবেদন করেন।

এদিকে গতকাল থেকে ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল) এর আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের বিপরীতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৭৫ টাকা নিচ্ছে। স্থানীয় আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা ১৯ এপ্রিল এবং  প্রবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৮ এপ্রিল আবেদন জমা নেয়া হবে।


ইউনিক হোটেল আইপিওর মাধ্যমে ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে সর্বমোট ১৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে ২৬ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ামের মাধ্যমে ১৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

 এর আগে জিবিবি পাওয়ারের আইপিওতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম আবেদন (আন্ডার সাবস্ক্রাইব) জমা পড়ায় লটারী ছাড়াই অ্যালোটমেন্ট পেপার বিতরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ৮২ কোটি টাকার শেয়ারের বিপরীতে ৭২ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে।  যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৫ লাখ শেয়ার ছেড়ে বা ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ লট ছেড়ে ৮২ কোটি টাকা সংগ্রহের কথা ছিলো। কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৪০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ৩০ টাকা প্রিমিয়াম নেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আইপিও আন্ডারসাব্সক্রাইব হয়।

সাবমেরিন ক্যাবলের আইপিওতে স্থানীয় বিনিয়োগকারী কোটায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়ে (আন্ডার সাবস্ক্রাইবড)।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৮৪ কোটি টাকার শেয়ার নির্ধারিত থাকলেও আবেদন জমা পড়ে ৭৫ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।

একইভাবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের বিপরীতে আবেদন জমা হয় ৫ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকার। সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

আইপিওর জন্য কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। মাত্র ২৫ টাকা ২৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়ার কারণে এ কোম্পানির আইপিওতে কম  আবেদন জমা পড়ে।

এছাড়া বিএসসির  রিপিট আইপিওতেও কম আবেদন জমা পড়ে।  

উল্লেখ্য ইউনিক হোটেলস বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার জন্য ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর এসইসিতে আবেদন করেছিল। ওই সময় কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮৫ টাকা। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করা হলে এই কোম্পানির আইপিও আটকে যায়।

পরবর্তীতে কোম্পানিটি বুকবিল্ডিংয়ের পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর এসইসিতে পুনরায় আবেদন করে। এতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ১১৫ টাকা প্রিমিয়াম চাওয়া হয়। তবে এতো উচ্চমূল্যে কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে এসইসি। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেই প্রস্তাবিত মূল্যকে অস্বাভাবিক বলে মত দেয়া হয়। সর্বশেষ সব পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিকের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৭৫ টাকায় অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইউনিক হোটেলস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৪৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ওই সময় কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ টাকা নেয়া হয়।

দুই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভা ১৯ এপ্রিল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- ব্যাংকিং খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।

ব্যাংকিং খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ২৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিলো।
ব্যাংকিং খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে ১৯৯৮ সালে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ১ হাজার কোটি ও ৫৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৫৮৯৩৩৭১৯৯টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৪৭.৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫.৩৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৭.১৮ শতাংশ শেয়ার।

বীমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিলো।
বীমা খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ৫০ কোটি ও ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩৪৬৫১৭৯০টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৪৮.২৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯.২৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১২.৫৩ শতাংশ শেয়ার।

৭ কোম্পানির পরিচালককে জরিমানা করল এসইসি

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সাতটি কোম্পানির পরিচালকদের পৃথকভাবে জরিমানা করেছে এসইসি। আজ মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসইসির মূখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও সজিব নিটওয়্যার অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ২০১০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য রাসপিট ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিশেনস লিমিটেড, ফাহাদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আমাম সি ফুড লিমিটেড, মিতা টেক্সটাইলস লিমিটেড ও রোজ হ্যাভেন বল পেন লিমিটেডের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

দুই পরিচালকের শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মিসেস হাসিনা নাজিম এ প্রতিষ্ঠানের ৪৮ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ২১ মের মধ্যে এবং গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মনোজ কুমার রায় এ প্রতিষ্ঠানের ৬৭ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ১২ হাজার ৮২০টি শেয়ার এবং গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০টি শেয়ার রয়েছে।

৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা জমা দেবে স্কিম কমিটি

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেবে বিশেষ স্কিম কমিটি। তবে তালিকা জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্কিম কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সম্মেলন কক্ষে বিশেষ স্কিম প্রণয়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ফায়েকুজ্জামান বলেন, গত ১ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এ সময়ের মধ্যে সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তথ্য জমা দিতে না পাড়ায় গত ২ এপ্রিল ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিলো। এ পনের দিন সময়ের মধ্যেই প্রায় সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ কমিটির কাছে তথ্য সরবরাহ করেছে। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এসইসিতে জমা দেয়া হবে। তবে এ সময় থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে কোটা বরাদ্দ পেতে চাইলে কেবল সংশ্লিষ্ট কোটায় আবেদন করতে হবে। কোনো বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে সাধারণ ও কোটায় আবেদন করতে পারবেন না বলে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফায়েকুজ্জামান আরো বলেন, কতিপয় হাউজ থেকে পরিপূর্ণ তথ্য আসেনি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি বাকি তথ্যগুলো আসে তবে সেগুলো যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় সংযোজন করা হবে।  

এর আগে স্কিম কমিটি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য চায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও সূত্র জানায়।

এর আগের গত ১৯ মার্চ বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান মো. ফায়েকুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১ এপ্রিলের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর তালিকা প্রণয়নের হিসাব দিতে বলা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য এ-১ ও বি-১ দুইটি ফরম পাঠানো হয়। এতে মার্জিন ঋণ নেয়া বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-১ ও নন মার্জিন বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-২ বিতরণ করা হয়। এ দু’ধরনের বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করে চূড়ান্ত হিসাব করার জন্য আরেকটি ফরম এ-২ ও বি-২ পূরণ করতে বলা হয়।
১৯ মার্চ এ চিঠি দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি এসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর এসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ স্কিম প্রণয়নের ঘোষণা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ মার্চ ১০ লাখ টাকার নিচে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। পাশাপাশি আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ব্রোকারেজ হাউসের প্রতি ডিএসইর ৩২ অনুরোধ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ৩২ দফা অত্যাবশ্যকীয় পালনীয় বিষয় সম্বলিত একটি পত্র দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘পুঁজিবাজারকে অধিকতর গতিশীল ও কার্যকর করতে আপনার সদস্য কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপদ রাখতে কয়েকটি বিষয় যথাযথভাবে পালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে’।

আজ মঙ্গলবার ডিএসইর মনিটরিং, ইনভেস্টিগেশন এবং কমপ্লায়েন্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক খন্দকার আসাদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে যে সব বিষয় পরিপালনের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বিনিয়োগের অর্থ কনসোলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে না; সদস্য কোম্পানি গ্রাহকদের নিকট থেকে পাঁচ লাখ টাকার অধিক অর্থ নগদ গ্রহণ করা যাবেনা এবং একইভাবে গ্রাহকদেরকে পাঁচ লাখ টাকার অধিক অর্থ নগদে প্রদান করা যাবে না, যা অত্যাবশ্যকীয় পালনীয়; বিনিয়োগকারীদের মার্জিন সুবিধা প্রদান করতে চাইলে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত বিষয়সমূহ ব্যালান্স শিটে প্রদর্শন করতে হবে, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থ কোনো অবস্থাতেই মার্জিন সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যাবে না; ব্রোকারেজ হাউসকে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্সের হিসাব ডিএসইতে প্রেরণ করতে হবে; সদস্য কোম্পানিকে অধিকতর নিরাপদ রাখতে রিস্ক-বেসড ক্যাপিটল এডিকোয়েসি রিকোয়ারমেন্ট সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া আরও উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো, কোম্পানির পরিচালকদের নিজ নামে অথবা আত্মীয় স্বজনদের নামে গ্রাহক হিসাব থাকতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই উক্ত হিসাবে মার্জিন সুবিধা প্রদান করা যাবে না; সংশ্লিষ্ট হাউসগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রাহক হিসাবে মার্জিন সুবিধা প্রদান করা যাবে না; অনুমোদিত প্রতিনিধিগণ কর্মরত কোম্পানিতে নিজের নামে বা আত্মীয়-স্বজনদের নামে বা বেনামে কোনো অবস্থাতেই বিও হিসাব খুলতে পারবে না; বিনিয়োগকারীর আবেদন সাপেক্ষে তার হিসাবে রক্ষিত সিকিউরিটিজসমূহ লিংক হিসাবে স্থানান্তর করার পূর্বে বিনিয়োগকারীর প্রদত্ত স্বাক্ষর অবশ্যই সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে; অনুমোদন ব্যতীত অফ-মার্কেটে সিকিউরিটিজ কোনো অবস্থাতেই স্থানান্তর করা যাবে না; একজন বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে রক্ষিত অর্থ ও সিকিউরিটিজ অন্য বিনিয়োগকারীর হিসাবে কোনো অবস্থাতেই স্থানান্তর করা যাবে না; 

মার্কেট লট ভেঙ্গে সিকিউরিটিজ অড লট হিসেবে বিক্রি করা যাবে না, তাছাড়া মার্কেট লট করার জন্য যে পরিমাণ সিকিউরিটিজ প্রয়োজন তার অতিরিক্ত সিকিউরিটিজ ক্রয় করা যাবে না; কোনো বিনিয়োগকারীকে ঋণ সুবিধা প্রদান করলে মার্জিন রুলস ১৯৯৯ এর ধারা-৩(২) অনুযায়ী মার্জিন চূক্তি করতে হবে এবং মার্জিন ঋণের বিধি বিধান সঠিকভাবে পালন করতে হবে; একজন বিনিয়োগকারীকে ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী গড় নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ২৫ শতাংশ অনুসরণ করতে হবে; এসইসির আদেশ অনুযায়ী এ বি জি ও এন ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজসমূহ বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ম্যাচিউরড হওয়ার পূর্বে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কোনো অবস্থায় ক্রয় করা যাবে না; ২০০৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এসইসির আদেশ অনুযায়ী কোনো সিকিউরিটিজ বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ একই সিকিউরিটিজ ক্রয় করার ক্ষেত্রে নিটিং করা যাবে না; এসইসির নির্দেশ মোতাবেক বর্তমান মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই) অনুসরণ করে মার্জিন সুবিধা প্রদান করতে হবে; গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এসইসি কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ অনুপাত হার সঠিকভাবে বজায় রাখতে হবে, উক্ত হার কোনো অবস্থাতেই অতিক্রম করা যাবে না; কোনো সিকিউরিটিজের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হলে এবং নতুন সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্ত হলে প্রথম কার্য দিব থেকে ৩০ কার্য দিবস পর্যন্ত উক্ত সিকিউরিটিজ ক্রয়ের জন্য গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।

এ ছাড়াও সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন-কানুন, আদেশ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।