বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১১

বিশেষ স্কিমে মার্চেন্ট ব্যাংকের কাছে তথ্য আহ্বান

ঢাকা, ডিসেম্বর ২৮: প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করণে গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটি সকল মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে মার্জিন ও ননমার্জিন হিসাবসমূহের বেশ কিছু তথ্য চেয়ে চিঠি ইস্যু করেছে।

আজ বুধবার বিশেষ স্কিম কমিটির সদস্য ও সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠি সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসে পাঠানো হয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসকে ১০ পাতা সম্বলিত ছক প্রস্তুত করে আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে সিডিসহ এক্সেল ফরমেটে সংশ্লিষ্ট তথ্য স্কিম কমিটির কাছে পাঠাতে চিঠিতে উল্লেখ রয়েছে।

চিঠিতে নন মার্জিন হিসাবধারীদের জন্য সর্বনিম্ন ১ লাখ, ১লাখ টাকা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার, ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৫ লাখ, ৫ লাখ থেকে ১০ লাখ এবং ১০ লাখ টাকার উর্ধ্বে এমন ৫ স্তরে যারা বিনিয়োগ করেছেন তাদের তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ওই ফরমেটে যে সব বিষয় জানাতে বলা হয়েছে তা হলো, সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট ব্যাংক বা ব্রোকারেজ হাউসের নাম, একক বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব, হিসাব খোলার সময় (১ জানুয়ারি, ২০০৯) ইক্যুইটির পরিমাণ, ওই তারিখ থেকে ৩০ নভেম্বর, ২০১১ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট হিসাবে জমার পরিমাণ (প্রাথমিক জমা, পুন:জমা ও অর্থ হস্তান্তর), ১.১.২০০৯ থেকে ৩০.১১.২০১১ পর্যন্ত সময়ের অর্থ উত্তোলনের হিসাব (অর্থ উত্তোলন ও অর্থ হস্তান্তর), মোট জমা (ডিপোজিট), ৩০ নভেম্বর, ২০১১ তারিখে খোলা পোর্টফোলিওর বর্তমান বাজারমূল্য, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ওই সব হিসাবধারীর ক্ষতির পরিমাণ, একই সময়ে মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউস কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন ফি ও চার্জের পরিমাণ।

এর আগে বিশেষ স্কিম কমিটি বিশেষ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির পরিমাণ, কোন শ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের বিশেষ স্কিমের আওতায় আনা হবে, কোন সময় থেকে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে তা জানতে চিঠি ইস্যু করা হয়। ইতিমধ্যে এসইসির চেয়ারম্যানসহ বিশেষ কয়েকজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তাঁদের মতামত জানিয়েছে বলে জানা যায়। আর এরই আলোকে আজ বিশেষ স্কিম কমিটি মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসের কাছে চিঠি ইস্যু করেছে।

এর আগে গত ৫ ডিসেম্বর বিশেষ স্কিম কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় এবং ২৭ নভেম্বর সরকারের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণে বিশেষ স্কিম প্রণয়নের লক্ষে ছয় সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তিতে কমিটির কাজের সুবিধার্তে একজন সদস্য বাড়ানো হয়।

রবিবার, ২০ নভেম্বর, ২০১১

পুঁজিবাজার স্থিতিশীলে প্যাকেজ আসছে



Sun, Nov 20th, 2011 7:04 pm BdST
ঢাকা, নভেম্বর ২০ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ 'উদ্ধারে' একটি প্যাকেজ দুই-এক দিনের মধ্যে ঘোষণা করা হবে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের বৈঠক শেষে রোববার রাতে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ সংস্থা এসইসির সদস্য হেলালউদ্দিন নিজামী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

আড়াই ঘণ্টার এ বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) এ সদস্য।

হেলালউদ্দিন বলেন, "পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতার ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংককে যে যে পদক্ষেপ নিতে প্রস্তাব করা হয়েছিলো, সে সব বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতিগতভাবে একমত হয়েছে।"

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের 'ক্ষতি' পোষানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ এ বৈঠকে চূড়ান্ত হবে বলে অর্থমন্ত্রী দুপুরে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে এসইসি সদস্য বলেন, "ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের চিহ্নিত করতে সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে। এ জন্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে দুই-এক দনি সময় প্রয়োজন।"

প্যাকেজে কী কী থাকছে- জানতে চাইলে এ মুহূর্তে কিছু বলতে অপারগতা জানিয়ে তিনি বলেন, সংবাদ সম্মেলন করেই এর বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

"প্রধানমন্ত্রী আগেই বলেছেন, যা যা করা প্রয়োজন, তা তার সবই করা হবে," বলেন হেলালউদ্দিন।

পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ব্যাখ্যা দেবে বলে জানান তিনি।

শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা চত্বর এলাকায় এনইসি-২ এ রোববার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ বৈঠকে বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

টানা কয়েকদিনের দরপতন ও বিনিয়োগকারীদের বিক্ষোভের পর বুধবার বাজার সংশ্লিষ্ট ২০ জনেরও বেশি কর্মকর্তার সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে থেকে 'পুঁজিবাজারের জন্য যা যা প্রয়োজন' তা করার ঘোষণা আসে। এর তিন দিন পর বাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসলেন অর্থমন্ত্রী।


পুঁজিবাজার বিষয়ক উপদেষ্টা পরিষদের আহ্বায়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গর্ভনর মো. ফরাসউদ্দিন এবং দুই সদস্য এসইসির সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও আইনজীবী আনিসুল হক এ বৈঠকে ছিলেন।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এসইসি চেয়ারম্যান এম খায়রুল হোসেন, এসইসির চার সদস্য হেলালউদ্দিন নিজামী, আমজাদ হোসেন, এ সালাম সিকদার ও আরিফ খান, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি শাকিল রিজভী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি ফখরউদ্দিন আলী আহমেদ এবং দুই স্টক এক্সচেঞ্জের দুই জন করে পরিচালকও অংশ নেন এ বৈঠকে।

বৈঠকে ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ তারেক, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব শফিকুর রহমান পাটোয়ারি, পুবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হাফিজ আহমেদ মজুমদার, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ।

এফবিসিসিআই সভাপতি এ কে আজাদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনস অব ব্যাংকসের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার, অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি কে মাহমুদ সাত্তার, বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ কবির হোসেন, ইন্সুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান শেফায়েত উল¬াহ, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ-আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান, সিডিবিএল'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বা প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বৈঠকে যোগ দেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পক্ষ থেকে মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান খান এ বৈঠকে অংশ নেন।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এআরএইচ/এসআইটি/আরবি/এমআই/২২৩০ ঘ.

দু-এক দিনেই এক গুচ্ছ ঘোষনা : নিজামী






ঢাকা, নভেম্বর ২০: পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে এক গুচ্ছ প্যাকেজ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন সিকিউরিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জেষ্ঠ্য সদস্য প্রফেসর হেলাল উদ্দিন নিজামী। অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকশেষে এক সংবাদ ব্রিফিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সন্ধ্যা ৭টায় শুরু হয়ে বৈঠক চলে রাত ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত।


তিনি বলেন, আমাদের দীর্ঘ আলোচনা সফল, স্বার্থক ও ফলপ্রশু হয়েছে।

তিনি বলেন, দু-এক দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিষয়ে ঘোষনা দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে পূর্বের বিষয় গুলো নিয়ে আজকের বৈঠকে আবারো আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আলোচনায় উত্থাপিত সুপারিশ গুলো আন্তরিকতা ও সহভুতির সঙ্গে মেনে নিয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) ও নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানোর বিষয়ে নমনীয় হবে বলে জানান তিনি।

হেলাল উদ্দিন বলেন, বৈঠকে কালো টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, কালো টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে কোন প্রকার প্রশ্ন তুলা হবে না। আর দুই এক দিনের মধ্যে এ সংক্রান্ত বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে জানান তিনি।

এছাড়া বৈঠকে অর্থমন্ত্রী বিএবি ও এবিকে পুঁজিবাজারে সাধ্যমতো বিনিয়োগ করার আনুরোধ জানা। আর অর্থমন্ত্রীর আনুরোধের প্রেক্ষিতে সংগঠন দুটি যথাযথ বিনিয়োগ করা হবে বলে আশ্বস্ত করে।

এদিকে ২০১০ সালে বাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টদের গত ১৬ নভেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় গণভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা দরকার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাজারে আবার কোনো কারসাজির অভিযোগ মেনে নেয়া হবে না। সেই সঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে তাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন। আর এরই ধারাবাহিকতায় আজ সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শেরে বাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনের এনএইসি-২ বিল্ডিংয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় ।


শেয়ারনিউজ২৪/এন/২০৩৫ঘ.

শনিবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১১

২৮ লাখ বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রীর দিকে




ঢাকা, নভেম্বর ১৯: পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই ২৮ লাখ বিনিয়োগকারীর দৃষ্টি এখন প্রধানমন্ত্রীর দিকে।

গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে নেয়া গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো কার্যকর করতে আগামীকাল রোববার প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সরকার কর্তৃক ঘোষণা দেয়া হয়েছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিধিবদ্ধ জমার হার (এসএলআর) ও নগদ জমার হার (সিআরআর) কমানো, বিনা প্রশ্নে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ, ব্যাংকের তারল্য সংকট নিরসনের লক্ষ্যে কয়েক দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।

কিন্তু পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক ঘোষিত এ আশ্বাসে এখনও পুরোপুরি আশ্বস্থ হননি বিনিয়োগকারীরা। কারণ অতীতের দিনগুলোর আর্তনাদ এখনও ভুলে উঠতে পারেননি অনেকেই।

তাদের মতে, বাজারকে স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ খুবই ইতিবাচক। আগামী রোববার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনানুয়ায়ী এসইসি কি ঘোষণা দিতে যাচ্ছে তার অপেক্ষায় রয়েছে লাখো নি:স্ব বিনিয়োগকারী।

এর আগে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এসইসিসহ বিভিন্ন পক্ষ গত ১০ মাসে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেন। তবে এর বেশিরভাগ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা রয়েই যায়। তাই সরকারকর্তৃক যেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ঘোষণা দিয়েছে তা কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবায়ন করলেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও বাজার উভয়ই স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

এ বিষয়ে তত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ-উপদেষ্টা ড. এবি মির্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে এর জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারের সূচক বৃদ্ধি প্রত্যাশিত হলেও তা যেন আগের মতো কোন কারণ ছাড়া আট হাজার পয়েন্টে উঠে না আসে। তবে তা হবে ঝুঁকিপূর্ণ।

অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর বিনিয়োগাকরীরা পুরোপুরি আশ্বস্ত হয়েছে কি-না তা এখনই বলা যাবে না। এর জন্য রোববার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাগুলোর বাস্তবায়নের উপরও নির্ভর করছে বাজারের ভবিষ্যৎ।

এদিকে ২০১০ সালে বাজার ধসের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টদের গত ১৬ নভেম্বর (বুধবার) সন্ধ্যায় গণভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় যা যা দরকার করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজারে সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন। শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাজারে আবার কোনো কারসাজির অভিযোগ মেনে নেয়া হবে না। সেই সঙ্গে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা হলে তাকে অবহিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।


শেয়ারনিউজ২৪/এস/পিএস/১৭১০ঘ.

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রণোদনা চায় ব্যাংকগুলো

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবিবি
নগদ অর্থের সংকট সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীরা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ওই বিনিয়োগ কম স্বীকার করে তাঁরা এর পরিমাণ বাড়াতে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে শেয়ারে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ, বিধিবদ্ধ নগদ জমা কমানো ও মুনাফার ওপর কর কমানোসহ বেশ কিছু প্রণোদনা দাবি করেন। শেয়ারবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে না_এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি কে মাহমুদ সাত্তার। বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ সংগঠনের নেতারা এর আগে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে তাঁদের প্রস্তাবনা পেশ করেন।
অব্যাহত দরপতনে শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ কোটি টাকার নিচে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংক গড়ে পাঁচ কোটি টাকা করেও শেয়ারে বিনিয়োগ করত, তাহলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা বাড়ত। এ ছাড়া ৪২টি বীমা, ১৯টি আর্থিক ও ৩০টি বিনিয়োগ কম্পানিরও দিনে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে।
অবশ্য গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ সাত্তার বলেন, নগদ অর্থের সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংকের পক্ষেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শেয়ার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও সাধ্যমতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগে কেনা শেয়ারে লোকসানে থাকলেও বর্তমানে বাজার থেকে শেয়ার কেনা অব্যাহত রেখেছে ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে আপাতত কোনো শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে না। এবিবি সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিমাণে তা কম। কোনো কোনো ব্যাংক কলমানি মার্কেট থেকে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ সুদে টাকা নিয়েও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে। এ অবস্থায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিনিয়োগে অনীহা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এবিবির সদস্য ৩০টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এসইসিকে জানান, বর্তমান বাজার বিনিয়োগের অনুকূল। ভালো কম্পানির শেয়ারের দর যেখানে নেমেছে, তাতে বিনিয়োগ করলে মুনাফা করা সম্ভব। বর্তমানে ব্যাংকগুলো বাজারে ক্রেতার ভূমিকায় রয়েছে এবং বিক্রি একেবারেই বন্ধ রেখেছে। ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছা ও সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
কে মাহমুদ সাত্তার আরো বলেন, ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। বর্তমানে কলমানি মার্কেটে সুদের হারও অনেক বেশি। তাই এ অবস্থায় তারল্য সংকট কাটাতে এসইসির কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু প্রণোদনা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুনাফার ওপর কর ছাড় দেওয়া হলে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে অথবা 'নেট অফ'-এর সুযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এবিবি সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তাঁরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। এ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকলে তা দূর করার বিষয়েও এসইসিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে নতুন অর্থ আসবে। প্রতিটি ব্যাংকেরই নিজস্ব কিছু যোগাযোগ রয়েছে। এসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বাস দিলে এ বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নিতে পারবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর করা এবং শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবিবির পক্ষ থেকে সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) ও এসএলআর (স্ট্যাটুটরি লিকুইডিটি রেশিও) কমানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে এসইসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে নীতিগতভাবে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যার বৈঠকে এসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

১৮শ কোটি টাকা বিনিয়োগে ৩ সুবিধা চেয়েছে বিআইএ



শেয়ারবাজারে জীবনবীমা তহবিলের ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের জন্য ৩ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। গতকাল এসইসি চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে লিখিতভাবে সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এ প্রস্তাব দেন।
শেয়ারবাজারে বীমা তহবিলের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পাশাপাশি এসইসির কাছে ৩টি সুবিধা চেয়েছে বিআইএ। এগুলো হলো- আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবসিডিয়ারি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি গঠনে লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দান।
বিআইয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৭ টি বেসরকারি জীবনবীমা কোম্পানির ১৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৮০ লাখ টাকা তহবিলের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য। ইতোমধ্যে বীমা তহবিলের ১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগযোগ্য এ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হলে চলমান তারল্য সঙ্কট কাটনোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে যেহেতু বীমা তহবিলের অর্থ পলিসি হোল্ডারদের, সেজন্য তহবিলের অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
বিআইএ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের নিরাপত্তার স্বার্থে ৩টি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআইয়ের নির্বাহী কমিটির সভায় এ প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে বলে বিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৈঠক শেষে বীমা তহবিল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আহসান ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব প্রস্তাবগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে বলে এসইসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেন টিটু। তিনি আরো বলেন, আগামী রোববার এসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানোর কথা রয়েছে। সে সিদ্ধান্তের আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি।
২০১০ সালের ৩১ ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ১৭টি জীবনবীমা কোম্পানির মধ্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য ৩৭০ কোটি ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ৩৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ১২ কোটি টাকা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৩৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ২৬ কোটি টাকা, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোমপানির ৪১ কোটি টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকার মধ্যে ২২ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোমপানির ২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪২ কোটির মধ্যে ১৫ কোটি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোমপানির ২৮৪ কোটি ১২ লাখ টাকার মধ্যে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭১ কোটি টাকার মধ্যে ৬২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার মধ্যে ৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, প্রগতি লাইফ ইন্সুরেন্সের ৬২ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্সুৗরেন্সের ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা এবং গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোমপানির ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে।

অর্থমন্ত্রীর পরিবর্তে সাবেক গভর্নর ফরাসউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০১১
অর্থনৈতিক রিপোর্টার: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের পরিবর্তে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনকে আহ্বায়ক করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। এ জন্য গত ১৬ই অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপনের আংশিক সংশোধন করে গতকাল বৃহস্পতিবার নতুন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গতকাল অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ হতে এ প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়। শেয়ারবাজারকে দক্ষ, স্বচ্ছ এবং স্থিতিশীল করার লক্ষ্যে এ উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। উপদেষ্টা পরিষদে সাবেক গভর্নর মো. ফরাসউদ্দিন আহমেদ ছাড়াও এসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী ও এডভোকেট আনিসুল হক এবং মেজর জেনারেল পর্যায়ের একজন সেনা কর্মকর্তা এ কমিটির সদস্য হবেন। অর্থমন্ত্রালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এতে সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন। উপদেষ্টা পরিষদ শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন, বিধি-বিধানসহ প্রাসঙ্গিক সব বিষয়ে উপদেশ প্রদান করবেন। এছাড়া উপদেষ্টা পরিষদ প্রয়োজনে অতিরিক্ত সদস্য নিতে পারবেন। প্রসঙ্গত, গত ১৭ই অক্টোবর অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের এ উপদেষ্টা কমিটির ঘোষণা দেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন। অর্থমন্ত্রীর সম্মতিতে ওই পরিষদ গঠন করা হলেও পরদিন অর্থমন্ত্রী আহ্বায়ক পদে থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেন। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে কমিটির অন্য কোন সদস্যকে আহ্বায়ক রাখা হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। প্রায় এক মাস পর আগের জারি করা প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মো. ফরাসউদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। শেয়ারবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করতে একটি শেয়ারবাজার পরামর্শক কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে বলে এসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. খায়রুল হোসেন জানান। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই কমিটির সদস্যরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবেন। তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শেয়ারবাজার নিয়মিত তদারকি করা, আরও বেশি দায়িত্ব নেয়া এবং শেয়ারবাজারকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কাউন্সিল গঠনের মূল উদ্দেশ্য। শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক দরপতনের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তিশ্রেণীর বিনিয়োগকারীদের অনশন এবং রাতভর বিক্ষোভের দরুন গত ১৬ই অক্টোবর রাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কয়েক দফা আলোচনা করে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের বিষয়টি জানায় এসইসি।

পুঁজিবাজারে ১৮শ’ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে বিআইএ

শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০১১
অর্থনৈতিক রিপোর্টার: পুঁজিবাজারের মন্দা মোকাবিলায় বিনিয়োগযোগ্য জীবন বীমা তহবিলের ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ)। গতকাল এসইসি চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হোসেনের কাছে লিখিতভাবে সংগঠনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এ প্রস্তাব দেন। শেয়ারবাজারে বীমা তহবিলের বিনিয়োগ প্রস্তাবের পাশাপাশি এসইসির কাছে ৩টি সুবিধা চেয়েছে বিআইএ। এগুলো হলো- আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির সাবসিডিয়ারি হিসেবে মার্চেন্ট ব্যাংক এবং অ্যাসেট ম্যানেজম্যান্ট কোম্পানি গঠনে লাইসেন্স প্রদানের অনুমতি দান। বিআইয়ের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৭টি বেসরকারি জীবন বীমা কোম্পানির ১৩ হাজার ৪৯২ কোটি ৮০ লাখ টাকা তহবিলের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য। ইতিমধ্যে বীমা তহবিলের ১ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। বাকি ১ হাজার ৭৯৫ কোটি ৬০ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। বিনিয়োগযোগ্য এ অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হলে চলমান তারল্য সঙ্কট কাটনোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে যেহেতু বীমা তহবিলের অর্থ পলিসি হোল্ডারদের, সেজন্য তহবিলের অর্থের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিআইএ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য তহবিলের নিরাপত্তার স্বার্থে ৩টি সুবিধা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিআইয়ের নির্বাহী কমিটির সভায় এ প্রস্তাবগুলো গৃহীত হয়েছে বলে বিআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। প্রস্তাবগুলো হলো- মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মতো ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি হিসাবে মার্চেন্ট ব্যাংকিং লাইসেন্স প্রদান এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হিসাবে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিকে অনুমতি দান। বৈঠক শেষে বীমা তহবিল শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আহসান ইসলাম টিটু সাংবাদিকদের বলেন, আমরা এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করে আমাদের প্রস্তাব দিয়েছি। এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব প্রস্তাবগুলো সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হবে বলে এসইসি চেয়ারম্যান আশ্বস্ত করেছেন বলেও জানান তিনি। তবে এগুলো বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ বলেও মন্তব্য করেন টিটু। তিনি আরও বলেন, আগামী রোববার এসইসির পক্ষ থেকে পুঁজিবাজার বিষয়ে বেশকিছু সিদ্ধান্তের কথা জানানোর কথা রয়েছে। সে সিদ্ধান্তের আগে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে আমরা আমাদের প্রস্তাবনা তুলে ধরেছি। ২০১০ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী ১৭টি জীবন বীমা কোম্পানির মধ্যে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য ৩৭০ কোটি ২৪ লাখ টাকার মধ্যে ৯৯ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, ডেলটা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২৭ কোটি ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে ৩৮৫ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, আমেরিকান লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৮০০ কোটি টাকার মধ্যে ১২ কোটি টাকা, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৩৭ কোটি ৬৫ লাখ টাকার মধ্যে ২৬ কোটি টাকা, হোমল্যান্ড লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪১ কোটি টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা, মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ১৫৬ কোটি ২২ লাখ টাকার মধ্যে ২২ কোটি টাকা, সানফ্লাওয়ার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার মধ্যে ৫ কোটি টাকা, প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৪২ কোটির মধ্যে ১৫ কোটি, ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২৮৪ কোটি ১২ লাখ টাকার মধ্যে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ টাকা, প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৭১ কোটি টাকার মধ্যে ৬২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ২৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকার মধ্যে ৭৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৬২ কোটি টাকার মধ্যে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকা, পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪২ কোটি ৭৮ লাখ টাকার মধ্যে ৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে ২২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ৩৯ কোটি ৭২ লাখ টাকার মধ্যে ২৫ কোটি টাকা, বায়রা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ১৪ কোটি ৪২ লাখ টাকার মধ্যে ৫০ লাখ টাকা এবং গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ২০ কোটি ৭৬ লাখ টাকার মধ্যে ৩ কোটি ১২ লাখ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে পুঁজিবাজারে স্বস্তি : ২ দিনে সূচক বেড়েছে ৫ শ’ পয়েন্ট বাড়ল বাজার সূচক

দীর্ঘ দরপতনে অসি'র পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারের অসি'রতা রোধে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকে আশ্বস্ত করেন যে পুঁজিবাজারের সি'তিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে। তার এ আশ্বাসের ফল ফলতে সময় লাগেনি। গতকাল দুই পুঁজিবাজারে ছিল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বুধবারও বৈঠকের খবরে মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছিল দুই বাজার। আর এ দুই দিনে ডিএসই সূচক বেড়েছে ৫১৭ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। জুলাই মাসের পর টানা দুই দিন পুঁজিবাজারে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এই প্রথম।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব সার্বিক বাজার পরিসি'তির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে। এ বৈঠক বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস'ার ঘাটতি অনেকাংশে দূর করবে। গত দুই দিনের বাজার আচরণই তার প্রমাণ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে দু’টি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়। এর একটি ছিল ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান কিভাবে পুষিয়ে দেয়া যায়। দ্বিতীয়টি ছিল বাজারে তারল্যপ্রবাহ কিভাবে বাড়ানো যায়। এ ব্যাপারে বৈঠকে বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি প্রধান্য পায়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআর-এর হার কমানোর সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। শুক্র ও শনিবার এ দু’টি বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর রোববার সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত জানাবেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস'া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল দুই বাজার। বুধবারের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শুরু হয় লেনদেন। প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসই সূচক বেড়ে যায় ১৫০ পয়েন্টের মতো। বুধবার শেষ হওয়া ডিএসই সূচকের চার হাজার ৯৮৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু হয়ে ৫ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। বেলা যতই বাড়ছিল ততই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে পৌঁছে। মূল্যবৃদ্ধির এ পর্যায়ে কেউ কেউ লাভ তুলে নিতে গেলে বিক্রয় চাপ দেখা দেয় এবং কমতে থাকে বাজার সূচক। তবে এ দর কমার হার ছিল খুবই সীমিত। দিনশেষে সাধারণ সূচকের ১৭৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট উন্নতি দিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই। চট্টগ্রামে সিএসসিএক্স সূচক বৃদ্ধি পায় ২২১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।
দিনের লেনদেন শেষে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপ করলে তারা নয়া দিগন্তকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাজারের আস'ার ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর করবে। নিজেদের বিনিয়োগ সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে তারা বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে এ সঙ্কট কেটে যাবে।
লেনদেনে গতকালও প্রাধান্য ধরে রাখে ব্যাংকিং খাত। মূল্যস্তর কমে যাওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। দিনের বেশির ভাগ সময় এ খাতের কোম্পানিগুলোর শতভাগ ছিল মূল্যবৃদ্ধির ধারায়। তবে শেষ দিকে দু’টি কোম্পানি সামান্য দর হারায়। এ দিনে ডিএসইর শীর্ষ ২০ কোম্পানির ১২টিই ছিল ব্যাংক। আর শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় চারটি কোম্পানি। তবে এক নম্বরে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গ্রামীণ ফোন ধরে রাখে দ্বিতীয় স'ানটি। শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো ছিল এনবিএল, এসআইবিএল, ইউসিবি, ফুওয়াং ফুড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো ফার্মা ও সামিট পাওয়ার।
গতকাল মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল বিচ হ্যাচারি, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, আফতাব অটোমোবাইলস, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, লিগেসি ফুট ওয়্যার, বিডি ফিন্যান্স, সাংহাম টেক্সটাইল ও রূপালী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশের মধ্যে।

এসইসির কাছে বিআইএর ৩ প্রস্তাব

Thu, Nov 17th, 2011 5:17 pm BdST

ঢাকা, নভেম্বর ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- বীমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে তিনটি প্রস্তাব রেখেছে বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এসইসির সঙ্গে বিআইএ -এর নেতাদের বৈঠকে প্রস্তাবগুলো রাখা হয়।


প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে, নতুন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসার ক্ষেত্রে মিউচুয়াল ফান্ডের মতো ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ শতাংশ কোটা রাখা; ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে ব্যাংকের মতো পূর্ণ মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স দেওয়া এবং ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (এএমসি) লাইসেন্স দেওয়া।


বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন এবং দুই সদস্য আহসানুল ইসলাম ও নাসির উদ্দিন দুপুরে এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তাবগুলো রাখেন।


লিখিত প্রস্তাবে বলা হয়, ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর কাছে থাকা দুই হাজার ৮৩৩ কোটি টাকার মধ্যে এক হাজার কোটি টাকার বেশি ইতিমধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে। এই মুহুর্তে তাদের হাতে প্রায় এক হাজার ৮০০ কোটি বিনিয়োগযোগ্য অর্থ রয়েছে।


তিন প্রস্তাব গৃহীত হলে ইন্সুরেন্স কোম্পানিগুলোর হাতে থাকা ওই অর্থ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে বলে উল্লেখ করা হয়।


পুঁজিবাজারে লাইফ ফান্ডের টাকা বিনিয়োগের বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল ইসলাম বলেন, "লাইফ ফান্ডের টাকা সরাসরি শেয়ারবাজারে না এনে আমারা তিনটি প্রস্তাব দিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ওই টাকা বিনিয়োগ অনেক ঝুঁকিমুক্ত হবে।"


বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/এফএফ/এসইউ/১৭১২ ঘ.

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে লেনদেন বেড়েছে পুঁজিবাজারে

Thu, Nov 17th, 2011 11:39 am BdST
ঢাকা, নভেম্বর ১৭ (বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম)- পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জরুরি বৈঠক করার পর দেশের দুই পুঁজিবাজারে লেনদেন বেড়েছে। সূচকের ঊর্ধ্বগতিতে বেড়েছে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম।

বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪১৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বেশি।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে ৪৯ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার, যা আগের দিনের চেয়ে ১৪ কোটি ২৪ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেন বাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে সিএসই সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমদ বলেন, "গতকাল প্রধানমন্ত্রী প্রায় চার ঘণ্টা ধরে আমাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।"

বুধবার রাতে পুঁজিবাজার সংশি¬ষ্টদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর জরুরি বৈঠক শেষে জানানো হয়, পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা এবং ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখে দু-এক দিনের মধ্যে তিন মেয়াদের পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।

এছাড়া কোনো প্রশ্ন ছাড়াই অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ থাকবে এবং ব্যাংকগুলো আরো বিনিয়োগ বাড়াবে বলে বৈঠক শেষে জানানো হয়।

এসব খবরে বৃহস্পতিবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দিয়ে লেনদেন শুরু হয় দুই পুঁজিবাজারে। পাঁচ মিনিটে ডিএসই সাধারণ সূচক ১৫০ পয়েন্টেরও বেশি বাড়ে। লেনদেন শেষে সাধারণ সূচক দাড়ায় ৫ হাজার ১৬৬ পয়েন্টে, যা গতদিনের চেয়ে ১৭৯ পয়েন্ট বেশি।

সিএসই-র বাছাই সূচক (সিএসসিএক্স) আগের দিনের চেয়ে ২২১ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ৯ হাজার ৩৫৮ পয়েন্ট।

ডিএসইতে লেনদেন হওয়া শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ২৩৮টির, কমেছে ১৬টির। ১টি শেয়ারের দাম পাল্টায়নি।

দর বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমায় (সার্কিট ব্রেকার) ওঠায় অনেক শেয়ার বিক্রেতাশুন্য হয়ে পড়ে।

সপ্তাহের প্রথম তিনদিনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচক ৫৫৯ পয়েন্ট পড়ে।

টানা দরপতনের পর পুঁজিবাজার নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জরুরি বৈঠক ডাকার প্রেক্ষাপটে বুধবার দেশের দুই পুঁজিবাজারে বেশিরভাগ শেয়ারের দাম বাড়ে।

বুধবার লেনদেন শেষে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচক ৩৩৮ দশমিক ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৭৮ দশমিক ৫৬ পয়েন্ট দাঁড়ায়।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/আরবি/এসইউ/১৯৫১ ঘ.

৬ লাখ বিনিয়োগকারীর জন্য বিশেষ সুবিধা দেয়ার উদ্যোগ

রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের উদ্যোগ
ঢাকা, নভেম্বর ১৭ : শেয়ারবাজারে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এমন বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বাজারে এ ধরনের বিনিয়োগকারীর সংখ্য ৬ লাখ ৩৭ হাজার ৫৫২ জন। এখন পর্যন্ত তা চূড়ান্ত না হলেও এসব বিনিয়োগকারীর মার্জিন ঋণের অতীত সুদ মওকুফ, আগামী এক বছর সুদমুক্ত মার্জিন ঋণ প্রদান এবং সরকারী কোম্পানির আইপিওতে বিশেষ কোটা প্রদান করা হতে পারে।

গত বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকা বৈঠকে অতি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের জন্য এসব সুবিধা প্রদান নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে আগামী রবিবার সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হতে পারে।

জানা গেছে, বুধবারের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। এরমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যক্ষ কোন সহায়তা দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এ ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি ২৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পুঁজির ৭৬ হাজার বিনিয়োগকারীর জন্যও কিছু করা যায় কিনা তা বিবেচনা করা হচ্ছে।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে করণীয় সম্পর্কে বেশ কিছু প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। এরমধ্যে বাজার ধসের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নেয়া মার্জিন ঋণের সুদ সম্পূর্ণ মওকুফ করার বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হবে।

এছাড়া এই বিনিয়োগকারীদের নেয়া ঋণকে আগামী এক বছরের জন্য সুদমুক্ত রাখার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি যেসব বিনিয়োগকারী মার্জিন ঋণ নেননি তাদের জন্য কী ধরনের সুবিধা দেয়া যায় সে বিষয়েও আলোচনা এসেছে। এরমধ্যে সরকারী প্রতিষ্ঠানের আইপিওতে এসব বিনিয়োগকারীকে বিশেষ সুবিধা প্রদানসহ আরও কিছু প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসইসি সদস্য আরিফ খান বলেন, বাজারে স্থিতিশীলতা ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। দু’-একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ঘোষণা দেয়া হবে।

শেয়ার নিউজ ২৪/এন/আর আহমেদ/১৮৫০ ঘ.

শুক্রবার অর্থমন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজার নিয়ে বৈঠক

ঢাকা, নভেম্বর ১৭: অর্থমন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১১টায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়াম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচিব অংশগ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং গত বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে স্টেকহোল্ডারদের বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের লক্ষে কার্যক্রম নেয়া হবে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণায়ে একটি বৈঠক হয়।

শেয়ারনিউজ২৪/প্রতিবেদক/ডব্লিউএন/১৫০৫ঘ.

এসইসির কাছে বিআইএর তিন দফা প্রস্তাবনা

ঢাকা, নভেম্বর ১৭: বীমা কোম্পানিগুলোর জীবন তহবিলের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ব্যাপারে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কাছে লিখিত তিন দফা প্রস্তাবনা দিয়েছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)। আজ বৃহস্পতিবার সংগঠনটির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে এই প্রস্তাব দেয়া হয়।

প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে, নতুন কোম্পানি আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসার ক্ষেত্রে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ন্যায় আইপিওতে ১০ শতাংশ কোটা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে প্রদান, ইনস্যুরেন্স কোম্পানির সহযোগী কোম্পানি হিসেবে ব্যাংকের ন্যায় পূর্ণ মার্চেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স প্রদান এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির (এএমসি) লাইসেন্স প্রদান।
ওই পত্রে বলা হয়, ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর জীবন তহবিলে বর্তমানে ১৩ হাজার ৪৯২ কোটির ওপরে টাকা রয়েছে। এর মধ্যে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগযোগ্য রয়েছে ২ হাজার ৮৩৩ কোটি টাকা। ওই পত্রে আরো উল্লেখ করা হয় বর্তমানে জীবন তহবিলের ১ হাজার ৩৭ কোটি টাকার বেশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা হয়েছে।
পত্রে উল্লেখিত তথ্য থেকে জানা যায়, এসইসি অনুমোদন দিলে শেয়ারবাজারে ন্যাশনাল লাইফ ৩৭০ কোটি, ডেলটা লাইফ ৪২৭ কোটি আমেরিকান লাইফ ৮০০ কোটি, সন্ধানী লাইফ ১৩৭ কোটি, হোমল্যান্ড লাইফ ৪১ কোটি, মেঘনা লাইফ ১৫৬ কোটি, সানফ্লাওয়ার লাইফ ২৮ কোটি, প্রগ্রেসিভ লাইফ ৪২ কোটি, ফারইষ্ট ইসলামী লাইফ ২৮৪ কোটি , প্রাইম ইসলামী লাইফ ৭০ কোটি, পপুলার লাইফ ২৬৫ কোটি, প্রগতী লাইফ ৪৪ কোটি, পদ্মা ইসলামী লাইফ ৪২ কোটি, রূপালী লাইফ ৪৭ কোটি , সান লাইফ ৩৯ কোটি, বায়রা লাইফ ১৪ কোটি এবং গোল্ডেন ২০ কোটি টাকার ওপর বিনিয়োগ করতে পারবে।
উপরোক্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোর হাতে থাকা বিনিয়োগযোগ্য ওই টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা যাবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।
পুঁজিবাজারে জীবন তহবিলের টাকা বিনিয়োগ বিষয়ে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক আহসানুল ইসলাম বলেন, জীবন তহবিলে টাকা সরাসরি শেয়ারবাজারে না এনে আমারা তিনটি প্রস্তাবনা দিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়িত হলে ওই টাকা বিনিয়োগ অনেক ঝুকিমুক্ত হবে।
বীমা কোম্পানিগুলোর জীবন তহবিলের টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের বিষয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট সিমার মধ্যে থেকে যে পরিমাণ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে তা ঝুঁকিমুক্তভাবে বিনিয়োগ করতে পরলে বীমা কোম্পানি ও শেয়ারবাজার উভয়ের জন্য শুভকর হবে।

শেয়ারনিউজ২৪/শি/পিএস/১৭৪৫ঘ.