নয়াদিগন্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
নয়াদিগন্ত লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১২

পুঁজিবাজার : দিনের শুরম্নতে অস্থির শেষে স্থির

বড় ধরনের অস্থিরতা দিয়ে গতকাল সোমবার দিনের লেনদেন শুরম্ন করেও অনেকটা স্থির অবস্থানে থেকেই লেনদেন শেষ করেছে দেশের দুই শেয়ারবাজার। পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙচেঞ্জ কমিশনের প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাইকোর্টের রুল জারির কারণে দিনের শুরম্নতে এ অস্থিরতা সৃষ্টি হলেও একপর্যায়ে তা কাটিয়ে ওঠে। দিন শেষে ঢাকার সাধারণ সূচক ৭ দশমিক ৭২ পয়েন্ট অবনতি ঘটে। চট্টগ্রাম স্টকে সিএসসিএঙ সূচক পড়ে যায় ১৩ দশমিক ১৩ পয়েন্ট। তবে উভয় বাজারেই সূচকের ওঠানামা ছিল লৰণীয়।
সোমবার সকালে ঢাকা স্টক এঙচেঞ্জে লেনদেন শুরুর পর পাঁচ মিনিটে সাধারণ সূচক কমে ৬৩ পয়েন্ট। রোববার শেষ করা ডিএসই সূচকের পাঁচ হাজার ১০৬ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরম্ন হলেও এ সময় সূচক নেমে আসে পাঁচ হাজার ৪৩ পয়েন্টে। লেনদেন হওয়া কোম্পানির বেশির ভাগই তখন বড় ধরনের দর হারায়। কিন্তু নেতিবাচক এ প্রবণতা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ১১টা ২০ মিনিট থেকে সূচক বাড়তে থাকে। দিনের বাকি সময় কাটে সূচকের ওঠানামায়। তবে শুরম্নর দিকে বাজারে যে বিক্রয় চাপ ছিল তা আর দেখা যায়নি। দুপুর ১২টার পর সূচকের সামান্য উন্নতি ঘটতে দেখা যায়। বড় ধরনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এপর্যায়ে বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়। বেলা দেড়টায় সূচক আগের দিন অপেৰা ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে যায়। তবে শেষ দিকে এসে সমন্বয় ঘটলে সাধারণ সূচকের ৭ দশমিক ৭২ পয়েন্ট হারিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই।
দিনশেষে লেনদেন হওয়া ২৫৬টি কোমপানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ৮৩টির, কমেছে ১৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১১টির দাম। লেনদেন হয়েছে ৬৮৮ কোটি টাকার শেয়ার, যা গত দিনের চেয়ে ৯ কোটি টাকা বেশি। রোববার এখানে ৬৭৯ কোটি টাকার শেয়ার বেচাকেনা হয়। লেনদেন বৃদ্ধি পায় চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জেও। এখানে রোববারের ৫৬ কোটি টাকার লেনদেন গতকাল ৬৭ কোটি টাকায় পৌঁছে।
বাজার সংশিস্নষ্টরা মনে করছেন, রোববারের করা রিট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে, যার প্রমাণ মেলে দিনের লেনদেনের শুরম্নতে। কিন্তু ডিএসই নেতৃবৃন্দের বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে আতঙ্ক কাটিয়ে আবার স্বাভাবিক আচরণে ফিরে বাজার। তাদের মতে, যতৰণ বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কিত না হবেন ততৰণ বাজারে বড় ধরনের দরপতনের আশঙ্কা নেই। কারণ এখনো বাজার মূল্যসৱরের দিক থেকে ভালো অবস্থানেই রয়েছে।
এর আগে সকালেই অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে দেখা করেন ডিএসই প্রেসিডেন্ট মো: রকিবুর রহমান। অ্যাটর্নি জেনারেল ডিএসইর প্রেসিডেন্টকে আশ্বসৱ করেন। বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে বিষয়টি উঠে এলে অস্থিরতা কাটিয়ে ওঠে বাজার। একপর্যায়ে আবার মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ফিরে। অথচ রোববার রিট আবেদনের পর থেকেই বাজার নিয়ে বড় ধরনের সংশয়ে ছিলেন ুদ্র বিনিয়োগকারীরা।
গত রোববার এক আদেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এঙচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এঙচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক শেখ আবদুল মোমিনের রিট আবেদন গ্রহণ করে এ রম্নল জারি করেন হাইকোর্ট।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনটি গত বছরের ২২ নভেম্বর জারি করেছিল এসইসি।
ওই আদেশে বলা হয়, একটি কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকতে হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেক পরিচালকের হাতে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে, তা না হলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন।

বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে পুঁজিবাজারে স্বস্তি : ২ দিনে সূচক বেড়েছে ৫ শ’ পয়েন্ট বাড়ল বাজার সূচক

দীর্ঘ দরপতনে অসি'র পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারের অসি'রতা রোধে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকে আশ্বস্ত করেন যে পুঁজিবাজারের সি'তিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে। তার এ আশ্বাসের ফল ফলতে সময় লাগেনি। গতকাল দুই পুঁজিবাজারে ছিল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বুধবারও বৈঠকের খবরে মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছিল দুই বাজার। আর এ দুই দিনে ডিএসই সূচক বেড়েছে ৫১৭ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। জুলাই মাসের পর টানা দুই দিন পুঁজিবাজারে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এই প্রথম।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব সার্বিক বাজার পরিসি'তির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে। এ বৈঠক বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস'ার ঘাটতি অনেকাংশে দূর করবে। গত দুই দিনের বাজার আচরণই তার প্রমাণ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে দু’টি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়। এর একটি ছিল ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান কিভাবে পুষিয়ে দেয়া যায়। দ্বিতীয়টি ছিল বাজারে তারল্যপ্রবাহ কিভাবে বাড়ানো যায়। এ ব্যাপারে বৈঠকে বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি প্রধান্য পায়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআর-এর হার কমানোর সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। শুক্র ও শনিবার এ দু’টি বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর রোববার সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত জানাবেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস'া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল দুই বাজার। বুধবারের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শুরু হয় লেনদেন। প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসই সূচক বেড়ে যায় ১৫০ পয়েন্টের মতো। বুধবার শেষ হওয়া ডিএসই সূচকের চার হাজার ৯৮৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু হয়ে ৫ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। বেলা যতই বাড়ছিল ততই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে পৌঁছে। মূল্যবৃদ্ধির এ পর্যায়ে কেউ কেউ লাভ তুলে নিতে গেলে বিক্রয় চাপ দেখা দেয় এবং কমতে থাকে বাজার সূচক। তবে এ দর কমার হার ছিল খুবই সীমিত। দিনশেষে সাধারণ সূচকের ১৭৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট উন্নতি দিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই। চট্টগ্রামে সিএসসিএক্স সূচক বৃদ্ধি পায় ২২১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।
দিনের লেনদেন শেষে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপ করলে তারা নয়া দিগন্তকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাজারের আস'ার ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর করবে। নিজেদের বিনিয়োগ সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে তারা বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে এ সঙ্কট কেটে যাবে।
লেনদেনে গতকালও প্রাধান্য ধরে রাখে ব্যাংকিং খাত। মূল্যস্তর কমে যাওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। দিনের বেশির ভাগ সময় এ খাতের কোম্পানিগুলোর শতভাগ ছিল মূল্যবৃদ্ধির ধারায়। তবে শেষ দিকে দু’টি কোম্পানি সামান্য দর হারায়। এ দিনে ডিএসইর শীর্ষ ২০ কোম্পানির ১২টিই ছিল ব্যাংক। আর শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় চারটি কোম্পানি। তবে এক নম্বরে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গ্রামীণ ফোন ধরে রাখে দ্বিতীয় স'ানটি। শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো ছিল এনবিএল, এসআইবিএল, ইউসিবি, ফুওয়াং ফুড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো ফার্মা ও সামিট পাওয়ার।
গতকাল মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল বিচ হ্যাচারি, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, আফতাব অটোমোবাইলস, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, লিগেসি ফুট ওয়্যার, বিডি ফিন্যান্স, সাংহাম টেক্সটাইল ও রূপালী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশের মধ্যে।