বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে পুঁজিবাজারে স্বস্তি : ২ দিনে সূচক বেড়েছে ৫ শ’ পয়েন্ট বাড়ল বাজার সূচক

দীর্ঘ দরপতনে অসি'র পুঁজিবাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। গত বুধবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুঁজিবাজারের অসি'রতা রোধে করণীয় নির্ধারণে সংশ্লিষ্টদের সাথে বৈঠকে আশ্বস্ত করেন যে পুঁজিবাজারের সি'তিশীলতা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব কিছু করা হবে। তার এ আশ্বাসের ফল ফলতে সময় লাগেনি। গতকাল দুই পুঁজিবাজারে ছিল সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বুধবারও বৈঠকের খবরে মূল্যবৃদ্ধির ধারায় ছিল দুই বাজার। আর এ দুই দিনে ডিএসই সূচক বেড়েছে ৫১৭ দশমিক ৬২ পয়েন্ট। জুলাই মাসের পর টানা দুই দিন পুঁজিবাজারে এ ধরনের মূল্যবৃদ্ধি এই প্রথম।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক মনোভাব সার্বিক বাজার পরিসি'তির উন্নতি ঘটাতে সাহায্য করবে। এ বৈঠক বিনিয়োগকারীদের মাঝে আস'ার ঘাটতি অনেকাংশে দূর করবে। গত দুই দিনের বাজার আচরণই তার প্রমাণ।
বুধবার প্রধানমন্ত্রীর সাথে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের বৈঠকে দু’টি বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়। এর একটি ছিল ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের লোকসান কিভাবে পুষিয়ে দেয়া যায়। দ্বিতীয়টি ছিল বাজারে তারল্যপ্রবাহ কিভাবে বাড়ানো যায়। এ ব্যাপারে বৈঠকে বিনা প্রশ্নে পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দেয়ার বিষয়টি প্রধান্য পায়। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক ব্যাংকগুলোর জন্য নির্ধারিত এসএলআর ও সিআরআর-এর হার কমানোর সুপারিশ নিয়েও আলোচনা হয় বৈঠকে। শুক্র ও শনিবার এ দু’টি বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে আলাপ-আলোচনার পর রোববার সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত জানাবেন পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস'া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান।
গতকাল লেনদেনের শুরুতেই ঊর্ধ্বমুখী ছিল দুই বাজার। বুধবারের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই শুরু হয় লেনদেন। প্রথম পাঁচ মিনিটে ডিএসই সূচক বেড়ে যায় ১৫০ পয়েন্টের মতো। বুধবার শেষ হওয়া ডিএসই সূচকের চার হাজার ৯৮৭ পয়েন্ট থেকে লেনদেন শুরু হয়ে ৫ মিনিটের মাথায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচক পৌঁছে যায় পাঁচ হাজার ১৩৮ পয়েন্টে। বেলা যতই বাড়ছিল ততই কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর বৃদ্ধি পাচ্ছিল। দুপুর সাড়ে ১২টায় সূচকটি দিনের সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ২৩৮ পয়েন্টে পৌঁছে। মূল্যবৃদ্ধির এ পর্যায়ে কেউ কেউ লাভ তুলে নিতে গেলে বিক্রয় চাপ দেখা দেয় এবং কমতে থাকে বাজার সূচক। তবে এ দর কমার হার ছিল খুবই সীমিত। দিনশেষে সাধারণ সূচকের ১৭৯ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট উন্নতি দিয়ে লেনদেন শেষ করে ডিএসই। চট্টগ্রামে সিএসসিএক্স সূচক বৃদ্ধি পায় ২২১ দশমিক ৭১ পয়েন্ট।
দিনের লেনদেন শেষে কয়েকজন বিনিয়োগকারীর সাথে আলাপ করলে তারা নয়া দিগন্তকে জানান, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাস বাজারের আস'ার ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর করবে। নিজেদের বিনিয়োগ সক্ষমতা নেই উল্লেখ করে তারা বলেন, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি করলে এ সঙ্কট কেটে যাবে।
লেনদেনে গতকালও প্রাধান্য ধরে রাখে ব্যাংকিং খাত। মূল্যস্তর কমে যাওয়ায় এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি। দিনের বেশির ভাগ সময় এ খাতের কোম্পানিগুলোর শতভাগ ছিল মূল্যবৃদ্ধির ধারায়। তবে শেষ দিকে দু’টি কোম্পানি সামান্য দর হারায়। এ দিনে ডিএসইর শীর্ষ ২০ কোম্পানির ১২টিই ছিল ব্যাংক। আর শীর্ষ দশে জায়গা করে নেয় চারটি কোম্পানি। তবে এক নম্বরে ছিল বেক্সিমকো লিমিটেড। গ্রামীণ ফোন ধরে রাখে দ্বিতীয় স'ানটি। শীর্ষ দশের অন্য কোম্পানিগুলো ছিল এনবিএল, এসআইবিএল, ইউসিবি, ফুওয়াং ফুড, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, তিতাস গ্যাস, বেক্সিমকো ফার্মা ও সামিট পাওয়ার।
গতকাল মূল্যবৃদ্ধিতে শীর্ষ কোম্পানিগুলো ছিল বিচ হ্যাচারি, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স, মালেক স্পিনিং, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ, আফতাব অটোমোবাইলস, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, লিগেসি ফুট ওয়্যার, বিডি ফিন্যান্স, সাংহাম টেক্সটাইল ও রূপালী ইন্স্যুরেন্স। কোম্পানিগুলোর মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল ১০ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশের মধ্যে।