মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১২

পপুলার লাইফ ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্সের ডিভিডেন্ড ঘোষণা

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত বীমা খাতের দুই কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কোম্পানি দুইটি হচ্ছে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৪০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আজ কোম্পানির বোর্ড মিটিংএ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৩৭ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে।

কর্ণফুলি ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে । ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আজ কোম্পানির বোর্ড মিটিংএ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২.৩৫ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারন সভা (এজিএম) ২৮ জুন ও রেকর্ড ডেট ৮ মে আহবান করেছে।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৩.৯৮ টাকা।

ইউনিক হোটেলের আবেদন চলছে

প্রিমিয়ামসহ আইপিওতে সাড়া দিচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা

প্রাথমিক গণ প্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে প্রিমিয়াম দিয়ে প্রাথমিক শেয়ার বরাদ্দ নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে তিনটি কোম্পানির আইপিওতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়েছে (আন্ডারসাবস্ক্রাইবড)। এ অবস্থায় ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের শেয়ারের বিপরীতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামে রবিবার থেকে ইউনিক হোটেলের প্রাথমিক শেয়ারের আবেদন জমা শুরু হয়েছে। কোম্পানিটির আইপিওতে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা কতোটা সাড়া দিবে সে বিষয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করছেন।  

এর আগে বিএসসি, জিবিবি পাওয়ার ও বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের আইপিওতে বিনিয়োগকারীরা তেমন একটা সাড়া দেননি। এ তিন কোম্পানির আবেদনে নির্ধারিত কোটার চেয়ে কম আবেদন জমা হয়।

শেয়ার নিউজের এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, বিনিয়োগকারীরা প্রাথমিক মার্কেট নিয়ে এখন অনেক সচেতন। ফলে কোম্পানি ও ইস্যু ম্যানেজারের যোগসাজশে অধিক প্রিমিয়াম নেয়া হলেও তারা তা বর্জন করছেন। বিনিয়োগকারীরা এখন কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে আইপিও আবেদন করেন।

এদিকে গতকাল থেকে ৬৫ টাকা প্রিমিয়াম নিয়ে ইউনিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস লিমিটেড (ওয়েস্টিন হোটেল) এর আবেদন জমা নেয়া হচ্ছে।

কোম্পানিটি ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের বিপরীতে ৬৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৭৫ টাকা নিচ্ছে। স্থানীয় আগ্রহী বিনিয়োগকারীরা ১৯ এপ্রিল এবং  প্রবাসী বাংলাদেশী (এনআরবি) বিনিয়োগকারীদের জন্য ২৮ এপ্রিল আবেদন জমা নেয়া হবে।


ইউনিক হোটেল আইপিওর মাধ্যমে ২ কোটি ৬০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে সর্বমোট ১৯৫ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। কোম্পানিটি অভিহিত মূল্যে ২৬ কোটি টাকা এবং প্রিমিয়ামের মাধ্যমে ১৬৪ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে।

 এর আগে জিবিবি পাওয়ারের আইপিওতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম আবেদন (আন্ডার সাবস্ক্রাইব) জমা পড়ায় লটারী ছাড়াই অ্যালোটমেন্ট পেপার বিতরণ করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির ৮২ কোটি টাকার শেয়ারের বিপরীতে ৭২ কোটি টাকার আবেদন জমা পড়ে।  যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৩ শতাংশ কম।

পুঁজিবাজারে ২ কোটি ৫ লাখ শেয়ার ছেড়ে বা ১ লাখ ২ হাজার ৫০০ লট ছেড়ে ৮২ কোটি টাকা সংগ্রহের কথা ছিলো। কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারে ৩০ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ৪০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়। ৩০ টাকা প্রিমিয়াম নেয়ায় প্রতিষ্ঠানটির আইপিও আন্ডারসাব্সক্রাইব হয়।

সাবমেরিন ক্যাবলের আইপিওতে স্থানীয় বিনিয়োগকারী কোটায় কাঙ্খিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম আবেদন জমা পড়ে (আন্ডার সাবস্ক্রাইবড)।

স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য মোট ৮৪ কোটি টাকার শেয়ার নির্ধারিত থাকলেও আবেদন জমা পড়ে ৭৫ কোটি ২৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকার।

একইভাবে প্রবাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য ১০ কোটি ৫০ লাখ টাকার শেয়ারের বিপরীতে আবেদন জমা হয় ৫ কোটি ২২ লাখ ২০ হাজার টাকার। সাবমেরিন কেবল কোম্পানি ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার ছেড়ে পুঁজিবাজার থেকে ১০৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছে।

আইপিওর জন্য কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের জন্য ২৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ ৩৫ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে বাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করে। মাত্র ২৫ টাকা ২৫ টাকা প্রিমিয়াম নেয়ার কারণে এ কোম্পানির আইপিওতে কম  আবেদন জমা পড়ে।

এছাড়া বিএসসির  রিপিট আইপিওতেও কম আবেদন জমা পড়ে।  

উল্লেখ্য ইউনিক হোটেলস বুকবিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের মূল্য নির্ধারণ করে আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার জন্য ২০১০ সালের ৩ অক্টোবর এসইসিতে আবেদন করেছিল। ওই সময় কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের নির্দেশক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮৫ টাকা। কিন্তু শেয়ারবাজারে বিপর্যয়ের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে বুকবিল্ডিং পদ্ধতির কার্যকারিতা স্থগিত করা হলে এই কোম্পানির আইপিও আটকে যায়।

পরবর্তীতে কোম্পানিটি বুকবিল্ডিংয়ের পরিবর্তে নির্ধারিত মূল্য পদ্ধতিতে বাজারে আসার জন্য গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর এসইসিতে পুনরায় আবেদন করে। এতে প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১০৫ টাকা প্রিমিয়ামসহ মোট ১১৫ টাকা প্রিমিয়াম চাওয়া হয়। তবে এতো উচ্চমূল্যে কোম্পানির আইপিওর অনুমোদন দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে এসইসি। দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকেই প্রস্তাবিত মূল্যকে অস্বাভাবিক বলে মত দেয়া হয়। সর্বশেষ সব পক্ষের সমঝোতার ভিত্তিতে ইউনিকের প্রতিটি শেয়ারের মূল্য ৭৫ টাকায় অনুমোদন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ইউনিক হোটেলস প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ৩ কোটি শেয়ার বিক্রি করে ৪৮০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। ওই সময় কোম্পানির ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ১৫০ টাকা প্রিমিয়ামসহ বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মোট ১৬০ টাকা নেয়া হয়।

দুই প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভা ১৯ এপ্রিল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দুই প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো- ব্যাংকিং খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও বীমা খাতের ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স।

ব্যাংকিং খাতের আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ২৬ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিলো।
ব্যাংকিং খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে ১৯৯৮ সালে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ১ হাজার কোটি ও ৫৮৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৫৮৯৩৩৭১৯৯টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৪৭.৪৯ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৫.৩৩ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ৩৭.১৮ শতাংশ শেয়ার।

বীমা খাতের ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১৯ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ৬০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিলো।
বীমা খাতের এ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে ১৯৯৫ সালে তালিকাভুক্ত হয়। এর অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধন যথাক্রমে ৫০ কোটি ও ৩৪ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটির মোট ৩৪৬৫১৭৯০টি শেয়ারের মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের কাছে ৪৮.২৩ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ৩৯.২৪ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে ১২.৫৩ শতাংশ শেয়ার।

৭ কোম্পানির পরিচালককে জরিমানা করল এসইসি

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) নির্ধারিত সময়ে নিরীক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় সাতটি কোম্পানির পরিচালকদের পৃথকভাবে জরিমানা করেছে এসইসি। আজ মঙ্গলবার কমিশনের নিয়মিত সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসইসির মূখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা যায়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৩০ জুন শেষ হওয়া অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় ফার্মাকো ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও সজিব নিটওয়্যার অ্যান্ড গার্মেন্টস লিমিটেডের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে গত ২০১০ সালের ৩০ জুন সমাপ্ত বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থতার জন্য রাসপিট ডাটা ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেলিকমিউনিশেনস লিমিটেড, ফাহাদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, আমাম সি ফুড লিমিটেড, মিতা টেক্সটাইলস লিমিটেড ও রোজ হ্যাভেন বল পেন লিমিটেডের প্রত্যেক পরিচালককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে বলে ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।

দুই পরিচালকের শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বীমা খাতের মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক মিসেস হাসিনা নাজিম এ প্রতিষ্ঠানের ৪৮ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ২১ মের মধ্যে এবং গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক মনোজ কুমার রায় এ প্রতিষ্ঠানের ৬৭ হাজার শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ১২ হাজার ৮২০টি শেয়ার এবং গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালকের কাছে এ প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৩২ হাজার ৭৫০টি শেয়ার রয়েছে।

৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা জমা দেবে স্কিম কমিটি

ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেবে বিশেষ স্কিম কমিটি। তবে তালিকা জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্কিম কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সম্মেলন কক্ষে বিশেষ স্কিম প্রণয়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ফায়েকুজ্জামান বলেন, গত ১ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এ সময়ের মধ্যে সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তথ্য জমা দিতে না পাড়ায় গত ২ এপ্রিল ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিলো। এ পনের দিন সময়ের মধ্যেই প্রায় সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ কমিটির কাছে তথ্য সরবরাহ করেছে। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এসইসিতে জমা দেয়া হবে। তবে এ সময় থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে কোটা বরাদ্দ পেতে চাইলে কেবল সংশ্লিষ্ট কোটায় আবেদন করতে হবে। কোনো বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে সাধারণ ও কোটায় আবেদন করতে পারবেন না বলে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

ফায়েকুজ্জামান আরো বলেন, কতিপয় হাউজ থেকে পরিপূর্ণ তথ্য আসেনি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি বাকি তথ্যগুলো আসে তবে সেগুলো যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় সংযোজন করা হবে।  

এর আগে স্কিম কমিটি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য চায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও সূত্র জানায়।

এর আগের গত ১৯ মার্চ বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান মো. ফায়েকুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১ এপ্রিলের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর তালিকা প্রণয়নের হিসাব দিতে বলা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য এ-১ ও বি-১ দুইটি ফরম পাঠানো হয়। এতে মার্জিন ঋণ নেয়া বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-১ ও নন মার্জিন বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-২ বিতরণ করা হয়। এ দু’ধরনের বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করে চূড়ান্ত হিসাব করার জন্য আরেকটি ফরম এ-২ ও বি-২ পূরণ করতে বলা হয়।
১৯ মার্চ এ চিঠি দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি এসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর এসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ স্কিম প্রণয়নের ঘোষণা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ মার্চ ১০ লাখ টাকার নিচে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। পাশাপাশি আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ব্রোকারেজ হাউসের প্রতি ডিএসইর ৩২ অনুরোধ

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সদস্য ব্রোকারেজ হাউসগুলোকে ৩২ দফা অত্যাবশ্যকীয় পালনীয় বিষয় সম্বলিত একটি পত্র দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ‘পুঁজিবাজারকে অধিকতর গতিশীল ও কার্যকর করতে আপনার সদস্য কোম্পানি এবং বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ নিরাপদ রাখতে কয়েকটি বিষয় যথাযথভাবে পালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা যাচ্ছে’।

আজ মঙ্গলবার ডিএসইর মনিটরিং, ইনভেস্টিগেশন এবং কমপ্লায়েন্স বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক খন্দকার আসাদ উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর ইতিমধ্যে পাঠানো হয়েছে। ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমান এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চিঠিতে যে সব বিষয় পরিপালনের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: বিনিয়োগের অর্থ কনসোলিডেটেড কাস্টমার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সঠিকভাবে সংরক্ষিত থাকতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ অন্য খাতে ব্যবহার করা যাবে না; সদস্য কোম্পানি গ্রাহকদের নিকট থেকে পাঁচ লাখ টাকার অধিক অর্থ নগদ গ্রহণ করা যাবেনা এবং একইভাবে গ্রাহকদেরকে পাঁচ লাখ টাকার অধিক অর্থ নগদে প্রদান করা যাবে না, যা অত্যাবশ্যকীয় পালনীয়; বিনিয়োগকারীদের মার্জিন সুবিধা প্রদান করতে চাইলে কোম্পানির নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান করতে হবে এবং উক্ত বিষয়সমূহ ব্যালান্স শিটে প্রদর্শন করতে হবে, কনসোলিডেটেড কাস্টমার অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত অর্থ কোনো অবস্থাতেই মার্জিন সুবিধার জন্য ব্যবহার করা যাবে না; ব্রোকারেজ হাউসকে নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্সের হিসাব ডিএসইতে প্রেরণ করতে হবে; সদস্য কোম্পানিকে অধিকতর নিরাপদ রাখতে রিস্ক-বেসড ক্যাপিটল এডিকোয়েসি রিকোয়ারমেন্ট সঠিকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

এ ছাড়া আরও উল্লেখ যোগ্য বিষয় হলো, কোম্পানির পরিচালকদের নিজ নামে অথবা আত্মীয় স্বজনদের নামে গ্রাহক হিসাব থাকতে পারে, তবে কোনো অবস্থাতেই উক্ত হিসাবে মার্জিন সুবিধা প্রদান করা যাবে না; সংশ্লিষ্ট হাউসগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রাহক হিসাবে মার্জিন সুবিধা প্রদান করা যাবে না; অনুমোদিত প্রতিনিধিগণ কর্মরত কোম্পানিতে নিজের নামে বা আত্মীয়-স্বজনদের নামে বা বেনামে কোনো অবস্থাতেই বিও হিসাব খুলতে পারবে না; বিনিয়োগকারীর আবেদন সাপেক্ষে তার হিসাবে রক্ষিত সিকিউরিটিজসমূহ লিংক হিসাবে স্থানান্তর করার পূর্বে বিনিয়োগকারীর প্রদত্ত স্বাক্ষর অবশ্যই সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে; অনুমোদন ব্যতীত অফ-মার্কেটে সিকিউরিটিজ কোনো অবস্থাতেই স্থানান্তর করা যাবে না; একজন বিনিয়োগকারীর বিও হিসাবে রক্ষিত অর্থ ও সিকিউরিটিজ অন্য বিনিয়োগকারীর হিসাবে কোনো অবস্থাতেই স্থানান্তর করা যাবে না; 

মার্কেট লট ভেঙ্গে সিকিউরিটিজ অড লট হিসেবে বিক্রি করা যাবে না, তাছাড়া মার্কেট লট করার জন্য যে পরিমাণ সিকিউরিটিজ প্রয়োজন তার অতিরিক্ত সিকিউরিটিজ ক্রয় করা যাবে না; কোনো বিনিয়োগকারীকে ঋণ সুবিধা প্রদান করলে মার্জিন রুলস ১৯৯৯ এর ধারা-৩(২) অনুযায়ী মার্জিন চূক্তি করতে হবে এবং মার্জিন ঋণের বিধি বিধান সঠিকভাবে পালন করতে হবে; একজন বিনিয়োগকারীকে ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী গড় নিট ক্যাপিটাল ব্যালান্স ২৫ শতাংশ অনুসরণ করতে হবে; এসইসির আদেশ অনুযায়ী এ বি জি ও এন ক্যাটাগরির সিকিউরিটিজসমূহ বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ ম্যাচিউরড হওয়ার পূর্বে জেড ক্যাটাগরির শেয়ার কোনো অবস্থায় ক্রয় করা যাবে না; ২০০৫ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি এসইসির আদেশ অনুযায়ী কোনো সিকিউরিটিজ বিক্রি করে বিক্রয়লব্ধ অর্থ একই সিকিউরিটিজ ক্রয় করার ক্ষেত্রে নিটিং করা যাবে না; এসইসির নির্দেশ মোতাবেক বর্তমান মূল্য আয়ের অনুপাত (পিই) অনুসরণ করে মার্জিন সুবিধা প্রদান করতে হবে; গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে এসইসি কর্তৃক জারিকৃত নির্দেশনা অনুযায়ী ঋণ অনুপাত হার সঠিকভাবে বজায় রাখতে হবে, উক্ত হার কোনো অবস্থাতেই অতিক্রম করা যাবে না; কোনো সিকিউরিটিজের ক্যাটাগরি পরিবর্তন হলে এবং নতুন সিকিউরিটিজ তালিকাভুক্ত হলে প্রথম কার্য দিব থেকে ৩০ কার্য দিবস পর্যন্ত উক্ত সিকিউরিটিজ ক্রয়ের জন্য গ্রাহকদের ঋণ সুবিধা প্রদান করা যাবে না।

এ ছাড়াও সিকিউরিটিজ সংক্রান্ত আইন-কানুন, আদেশ ও নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিপালনের জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে পাঠানো চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে।

রবিবার, ১৫ এপ্রিল, ২০১২

রংপুর ডেইরির ১২% স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ১২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে রোববার জানানো হয়, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপনী বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৬ মে দুপুর ৩টায় রংপুরের বালদিপুকুরের সালাইপুরের কারখানা প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল।

ডিএসই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সমাপনী বছরে রংপুর ডেইরি অ্যান্ড ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ২৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৮ টাকা ৮৬ পয়সা।

ইসলামী ব্যাংকের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ২৫ শতাংশ স্টক ও ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ইসলামি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে রোববার জানানো হয়, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপনী বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৫ মে বেলা ১০টায় শেরেবাংলানগরের আগারগাঁওয়ের বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ এপ্রিল।

ডিএসই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সমাপনী বছরে ইসলামী ব্যাংকের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ৪ টাকা ৮৪ পয়সা। শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ২৭ টাকা ৭৮ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১০ সালের সমাপনী বছরে ৩৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

২৩% স্টক লভ্যাংশ দেবে যমুনা ব্যাংক

শেয়ারহোল্ডারদের ২৩ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ।

২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপনী বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে বলে রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে জানানো হয়।

যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৩ মে বেলা ১০টায় ২৬ বেইলি রোডের অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ মে।

ডিএসই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সমাপনী বছরে যমুনা ব্যাংক লিমিটেডের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ৩ টাকা ৬৫ পয়সা। শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ৯৬ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১০ সালের সমাপনী বছরে ২২ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ইনটেক অনলাইনের বোর্ডসভার সময় নির্ধারণ

 শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত ইনটেক অনলাইন কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সভার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। সভা আগামী ১৮ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৩টায় অফিস কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে। আজ রোববার ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

চার সিকিউরিটিজ হাউস পরিদর্শনে যাচ্ছে এসইসি

চারটি সিকিউরিটিজ হাউস পরিদর্শনে যাচ্ছে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) গঠিত  টিম। গত বৃহষ্পতিবার এ লক্ষ্যে আট  সদস্যের চারটিটি টিম গঠন করেছে কমিশন।
স্টক ডিলার ও স্টক ব্রোকার এবং ডিপোজিটরী প্রবিধানমালা অমান্য করায় এসইসি হাউস পরিদর্শনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।  হাউসগুলো হলো- এসআর ক্যাপিটাল লিমিটেড, ব্যাংক এশিয়া সিকিউরিটিজ লিমিটেড, এমটিবি সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং সিলনেট  সিকিউরিটিজ লিমিটেড।
রবিবার ও সোমবার (১৫ও ১৬ এপ্রিল) এসআর কাপিটাল লিমিটেড পরিদর্শন করছে এসইসির উপপরিচালক মো: হোসেন খান ও মো; সেলিম কবির।
আগামী ২২ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যাংক এশিয়া পরিদর্শন করবে এসইসির পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম ও প্রদীপ কুমার বসাক।
এমটিবি সিকিউরিটিজ হাউস পরিদর্শন করা হবে ২৪ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত। এ হাউস পরিদর্শন করবে এসইসির পরিচালক মো: সাইফুল আজম ও মো: আবু হেনা।
সিলনেট সিকিউরিটিজ হাউসে পরিদর্শনে যাবে এসইসির উপপরিচালক মো: ইউসুফ ভুইয়া ও ওহিদুল ইসলাম। এ হাউস পরিদর্শন করা হবে  ২৪ থেকে ২৬  এপ্রিল পর্যন্ত।

গুজব ঠেকাতে সক্রিয় এসইসি-ডিএসই

পুঁজিবাজারের ছড়ানো গুজব ঠেকাতে তৎপর নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। গত বুধবার সংস্থা দুটির পক্ষ থেকে পৃথকভাবে এই বিষয়টি পরিষ্কার করা হয়।
ওইদিন এসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেনের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা দেখা করে তাঁর কাছে বিভিন্ন সময়ে বাজারে ছড়িয়ে পড়া গুজব সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় তিনি বলেন, একটি চক্র বিভিন্ন সময় বিনিয়োগকারীদের মাঝে গুজব ছড়িয়ে দিয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করে থাকে। এমনকি এই চক্র পরিচালকদের শেয়ার কেনার-বিষয়েও নানা গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটার চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের কোনো প্রকার গুজবে কান না দিয়ে বরং নিজে বুঝে শুনে নিজের অর্থ বিনিয়োগের পরামর্শ দেন তিনি।
এ সময় গুজব সম্পর্কে উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে খায়রুল হোসেন বলেন, গুজব ঠেকাতে এসইসি সক্রিয় রয়েছে। কেউ কোনো গুজব শুনলে তাঁকে সরাসরি এসইসির মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করেন এবং এসইসির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে বলেও জানান তিনি। এসময় এসইসির সদস্য আরিফ খান ও মুখপাত্র সাইফুর রহমানও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আরিফ খানও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ‘কোনো গুজব শুনলে সাংবাদিকদের উচিত হবে প্রথমেই মুখপাত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা। মুখপাত্র বিষয়টি নিয়ে কমিশনে আলাপ করে তাৎক্ষণিক গুজবের বিষয়টি পরিষ্কার করবেন’।
এদিকে একইদিন বিকেলে এক ব্রিফিংয়ে ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমানও কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিনিয়োগকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। গুজব ঠেকাতে ডিএসই সক্রিয় রয়েছে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন ‘গুজব দ্বারা যেন বাজার পরিচালিত না হয়। এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে’।
পরে ডিএসইর জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আহমেদ রশিদ লালী বলেন, ‘আগামী ১৬ এপ্রিল ডিএসইর বোর্ড মিটিং রয়েছে। ওই মিটিংয়ে গুজব ঠেকাতে একটি প্রস্তাব পেশ করা হবে। কেউ কোনো হাউসে গিয়ে গুজব ছড়ানোর চেষ্টা করলে ওই ব্যক্তিকে সংশ্লিষ্ট হাউসের সিইও বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে নিয়ে যেতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সুরাহা করবেন। এবং বিষয়টির সত্যতা না থাকলে তাৎক্ষণিক অন্য বিনিয়োগকারীদের অবহিত করবেন’।
লালী আরও বলেন, ‘গ্যাম্বলাররা গুজব ছড়িয়ে বাজার থেকে ফায়দা লুটে থাকে। সারা বিশ্বেই এর প্রচলন রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে আমাদের উচিত হবে গুজবে কান না দেওয়া’। সব বিনিয়োগকারীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ করেন তিনি।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বাজারে গুজব থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে কোনো প্রকার গুজবে কান না দেওয়া। অন্যথায় তাঁদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হবে। এর দায় নিজেকেই নিতে হবে।

১ হাজার ২শ কোটি টাকা ছাড়ালো লেনদেন

দেশের পুঁজিবাজারে আজ রোববার সপ্তাহের প্রথম দিনে সূচক ও লেনদেন দুই-ই বেড়েছে। দিন শেষে প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন ১২০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন হয়েছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।
বাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া অব্যাহত দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ক্রয় ক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছিল। গত বেশ কয়েকদিন ধরে বাজার তুলনামূলক ভাল থাকায় বিনিয়োগকারীদের ক্রয় ক্ষমতা কিছুটা বেড়েছে। এর ফলে ওই সব বিনিয়োগকারী নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন।
এছাড়া সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২১ মে পরিচালকদের ন্যুনতম শেয়ার ধারণের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এ উপলক্ষে অনেক পরিচালক শেয়ার কেনা অব্যাহত রেখেছেন। এ বিষয়টিও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা যায়, আজ দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ১২০.৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ৫৪৬৪.১৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে আজ ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয়, যা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল।
ডিএসইতে আজ ২৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৭টির দাম বেড়েছে। কমেছে ৯৯টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে আটটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ এক হাজার ২০১ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের চেয়ে ১২৩ কোটি টাকা বেশি। এ দিকে আজ ডিএসইতে গত সাড়ে আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ লেনদেন  হয়েছে। এর আগে গত বছরের ৩১ জুলাই সর্বশেষ ১৩৪১ কোটি টাকা লেনদেন হয়।
দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠান হলো:  গ্রামীণফোন, বেক্সিমকো, মেঘনা পেট্রোলিয়াম, যমুনা অয়েল, তিতাস গ্যাস, স্কয়ার ফার্মা, আফতাব অটো, আরএন স্পিনিং, এমআই সিমেন্ট ও বেক্সিমকো ফার্মা।

আইবিবিএল মুদারাবা বন্ডের ১৩.২০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ইসলামী ব্যাংকের অধীন আইবিবিএল মুদারাবা পারপাচ্যুয়াল বন্ডের ১৩.২০  শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সালের আর্থিক বিবরণী পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য এ লভাংশ ঘোষণা করে।  রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪ এপ্রিল। বন্ডটি ইসলামী ব্যাংকের অধীনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় ইসলামী ব্যাংকের বার্ষিক সাধারণ সভার (যা ১৫ মে অনুষ্ঠিত হবে) পর ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বরাদ্দ শেষ করা হবে। করপোরেট ঘোষণার কারণে আজ  রোববার এ ব-ের ইউনিটের কোনো মূল্যসীমা থাকবে না।

সাফকো স্পিনিংয়ের ১০ শতাংশ স্টক লভাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের সাফকো স্পিনিংয়ের ১০ শতাংশ স্টক লভাংশ ঘোষণা করেছে। কোম্পানির  পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের এ লভাংশ ঘোষণা করেছে। আজ রোববার  কোম্পানির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.০৫ টাকা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ৫.৩৮ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে আগামী ২০ মে ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের রাইট ও লভাংশ ঘোষণা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত বীমা খাতের রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের ১০ শতাংশ স্টক ও ৫ টাকা প্রিমিয়ামে একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ঘোষণা করেছে। কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদেও জন্য এ রাইট শেয়ার ও লভাংশ ঘোষণা করেছে। এসইসি’র অনুমতিক্রমে রাইট শেয়ার প্রদান করা হবে।  আজ রোববার কোম্পানির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.৭৩ টাকা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ১৩.৬১ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৩১ মে ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ মে।

পূবালী ব্যাংক পরিচালকের শেয়ার গ্রহণের সিদ্ধান্ত

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত পূবালী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক মূসা আহমেদ নিজ কোম্পানির শেয়ার উপহার গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ওয়েবসাইট সূত্রে আারো জানা গেছে , পূবালী ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচলক মূসা আহমেদ তার বোন ফারজানা জাহান আহমেদের কাছ থেকে নিজ কোম্পানির ১৩ লাখ ৪১ হাজার ৫২২টি শেয়ার উপহার হিসেবে গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বর্তমানে তার কাছে ৫১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬টি শেয়ার রয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ঘোষিত নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ২১ মে তারিখের মধ্যে তিনি এ শেয়ার গ্রহণ সম্পন্ন করবেন।

এক উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ন্যাশনাল হাউজিং ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লি. কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক তার পূর্ব ঘোষিত শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করেছেন। জামশেদ সানিয়াত আহমেদ চৌধুরী তার পূর্ব ঘোষিত দুই লাখ ৪০ হাজার শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করেছেন। আজ রোববার ডিএসই ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সোনালী আঁশের তিন পরিচালকের শেয়ার গ্রহণ সম্পন্ন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সোনালী আঁশ কোম্পানির তিন উদ্যোক্তা পরিচালক তাদের পূর্বঘোষিত শেয়ার উপহার হিসেবে গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন। আজ রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, সোনালী আঁশ কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালক মো. মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী পূর্বঘোষিত এক লাখ, মহসিনা পাটওয়ারী ৫০ হাজার এবং নাবিলা পাটওয়ালী ৫০ হাজার শেয়ার গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।
তারা সবাই পিতা নুরুল ইসলাম পাটওয়ারীর কাছ থেকে এ শেয়ার গ্রহণ সম্পন্ন করেছেন।

পদ্মা অয়েলের এজিএম’র তারিখ ঘোষণা

পদ্মা ওয়েল কোম্পানি বার্ষিক সাধারণ সভার (এজিএম)  তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সভা আগামী ১২ মে অনুষ্ঠিত হবে। আজ রোববার সন্ধ্যায় কোম্পানির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ২০১১ সালের ৪ এপ্রিল ঘোষণাকৃত লভ্যাংশই হাইকোর্টের নির্দেশনায় বহাল থাকায় আজ এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে কোম্পানি সচিব মহিউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের ঘোষণা  ৫০ শতাংশ নগদ ও ৫০ শতাংশ বোনাস শেয়ারই শেয়ারহোল্ডারগণ পাবেন। এজন্য ইতোপূর্বেকার রেকর্ড ডেটে যাদের শেয়ার রয়েছে তারাই এ লভ্যাংশ পাবেন।

মঙ্গলবার স্কিম কমিটির বৈঠক

 আগামী  মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য গঠিত বিশেষ স্কিম কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।  সকাল সাড়ে ১০ টায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) বোর্ড রুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে আজ রোববার জানা গেছে।
পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি তালিকাভূক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের কোটা র্নিধারণের জন্য ব্রোকারেজ হাউজগুলো থেকে পুনরায় বিনিয়োগকারীদের তথ্য জমা দেওয়ার সময় শেষ হচ্ছে সোমবার। এরইমধ্যে অধিকাংশ ব্রোকারেজ হাউজ তাদের তথ্য জমা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সোমবার ডিএসই ও সিএসইর পৃথক বৈঠক

শেয়ার ধারণে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জের (এসইসি) নির্দেশনার বিরুদ্ধে এক পরিচালকের হাইকোর্টে করা রিটের জবাবের বিষয়ে আগামীকাল সোমবার  ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদ আলাদা আলাদাভাবে বৈঠক করবেন। বৈঠকে আইন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কিভাবে রিটের জবাব সঠিক ভাবে দেয়া যায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

তাকাফুল, রিপাবলিক ও সাফকোর ডিভিডেন্ড ঘোষণা

আজ শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। কোম্পানি তিনটি হচ্ছে তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স ও সাফকো স্পিনিং।

তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স: ইন্স্যুরেন্স খাতের তাকাফুল ইসলামী ইন্স্যুরেন্স শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৭ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

আজ কোম্পানির বোর্ড মিটিংএ এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৩.৪৫ টাকা।

রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স : বীমা খাতের রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক ও ৫ টাকা প্রিমিয়ামে একটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে একটি রাইট শেয়ার ঘোষণা করেছে। এসইসি’র অনুমতিক্রমে রাইট শেয়ার প্রদান করা হবে।  আজ কোম্পানির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.৭৩ টাকা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ১৩.৬১ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে আগামী ৩১ মে ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ মে।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয় ১.৬৯৫ টাকা।

সাফকো স্পিনিং: টেক্সটাইল খাতের সাফকো স্পিনিংয়ের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে। আজ কোম্পানির বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১.০৫ টাকা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ৫.৩৮ টাকা। কোম্পানিটি বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আহ্বান করা হয়েছে আগামী ২০ মে ও রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ এপ্রিল।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১৬ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানির শেয়ার প্রতি আয় হয় ঋণাত্মক ০.৬০ টাকা।

১৮ এপ্রিল পদ্মা ইসলামী লাইফ ও জিপিএইচ ইস্পাতের লেনদেন শুরু

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সদ্য শেয়ারবাজারে অনুমোদন পাওয়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জিপিএইচ ইস্পাতের লেনদেন আগামী ১৮ এপ্রিল শুরু হবে। এর আগে গত ৮ এপ্রিল এ দুটি কোম্পানির তালিকাভুক্তির অনুমোদন দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালনা পর্ষদ।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানি দুইটিকে লটারী শেষে শেয়ারহোল্ডারদের বিও একাউন্টে এসব কোম্পানির শেয়ার জমা হওয়ার পরই লেনদেনের সময় নির্ধারন করা হবে বলে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ সিদ্বান্ত নেয়। এ অবস্থায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও জিপিএইচ ইস্পাতের কর্তৃপক্ষ লটারীর শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে জমা করে। এ প্রেক্ষিতে ডিএসইর পরিচালনা পর্ষদ কোম্পানি দুইটির বিষয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

প্রসঙ্গত এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর গত জানুয়ারি মাসে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে এক কোটি ২০ লাখ শেয়ার ছেড়ে ১২ কোটি টাকা সংগ্রহ করে। তবে গত ৩ এপ্রিল খসড়া প্রসপেক্টাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ না করায় পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও ইস্যু ম্যানেজার ইউনিয়ন ক্যাপিটালকে সতর্ক করে এসইসি।

এদিকে গত বছরের ৩০ নভেম্বর শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের জন্য জিপিএইচ ইস্পাত এর প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদন দেয় এসইসি। প্রতিষ্ঠানটিকে ২ কোটি শেয়ার ছেড়ে বাজার থেকে ৬০ কোটি টাকা সংগ্রহের অনুমতি দেয়া হয়। ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি শেয়ারের দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা (২০ টাকা প্রিমিয়ামসহ)।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) ৩.৬৬ টাকা এবং শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য হচ্ছে ১২.২৩ টাকা। আইপিও পরবর্তী কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন দাড়ায় ৯০ কোটি টাকা। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করছে এএএ কনসালট্যান্টস লিমিটেড।

শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে, বিশেষ বেঞ্চ গঠনে আইনমন্ত্রীর আশ্বাস

শেয়ারবাজার সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। আজ রোববার দুপুরে আইন মন্ত্রণালয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, শেয়াবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির বিরুদ্ধে যে মামলা হয় তা নিষ্পতির জন্য দীর্ঘ সময় লাগে। এতে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এজন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তির জন্য ডিএসইর পক্ষ থেকে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে এ ধরনের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২ টায় সচিবালয়ে আইনমন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বৈঠক শুরু হয়। প্রায় ২ ঘন্টাব্যাপী বৈঠকে পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং করণীয় নির্ধারণে উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। এতে পুঁজিবাজারের উন্নয়নে ডিএসইর পক্ষ থেকে বেশ কয়েক দফা সুপারিশ পেশ করা হয়েছে। সুপারিশের জবাবে আইনমন্ত্রী পুঁজিবাজারের স্বার্থে ডিএসইর প্রস্তাবে সম্মতি প্রকাশ করেছেন।

বৈঠক শেষে ডিএসইর সভাপতি রকিবুর রহমান জানান, পুঁজিবাজারের স্বার্থে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলার দীর্ঘ সূত্রিতা, বাইব্যাক, অডিট ফার্ম, ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন এবং কোম্পানির ভ্যালুয়েশন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন পরিবর্তনের বিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় সম্মত হয়েছেন। শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, কোনো কোম্পানির এক পরিচালক আরেক পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা করলে তা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসময় লাগে। এতে দীর্ঘদিন ধরে ওই কোম্পানির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) স্থগিত থাকে। ফলে বিনিয়োগকারীরা ডিভিডেন্ড থেকে বঞ্চিত হন। তাই এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড  এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (এসইসি) প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। যদি কোনো কারণে কেউ এসইসির রায়ে সন্তুষ্ট না হয় তবে সে ক্ষেত্রে হাইকোর্টে রিট করতে পারে। এক্ষেত্রে হাইকোর্টে পুঁজিবাজার বিষয়ক একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

বাইব্যাকের বিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, কোম্পানিকে নিজ উদ্যোগে বাইব্যাক করতে হবে। যা দরপতনকালীন সময়ে বিনয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কোম্পানির অডিট রিপোর্ট যাতে স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক হয় সে জন্য ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব করেছে ডিএসই। রকিবুর রহমান বলেন, পুঁজিবাজারের স্বার্থে অডিট রিপোর্ট স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে ডিএসইর বিন্যস্তকরণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া কোম্পানির সম্পদ পুণঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৬ মাসের পরিবর্তে ৩ বছর পর করার ব্যাপারে ডিএসইর পক্ষ থেকে আইনমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ করা হয়। এবিষয়ে রকিবুর রহমান বলেন, ঘন ঘন সম্পদ পুনঃমূল্যায়ন করা হলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়।

সর্বশেষ উদ্যোক্তা পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ের বিরুদ্ধে এসইসির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সম্প্রতি যে রিট আবেদন করা হয়েছে সে বিষয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। খুব শিগরিগই রিটের জবাব দেয়া হবে বলে ডিএসই প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান জানিয়েছেন।

বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, আইন প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডিএসইর জেষ্ঠ্য সহ-সভাপতি আহমেদ রশিদ লালী, প্রধান আর্থনৈতিক কর্মকর্তা শুভ্রকান্তী চৌধুরীসহ ডিএসইর পরিচালনা পর্ষাদ।

বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২

বৃহস্পতিবার বে লিজিংয়ের স্বাভাবিক লেনদেন

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের বে লিজিং অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের স্বাভাবিক লেনদেন চলবে। রেকর্ড ডেটের কারণে আজ বুধবার এ প্রতিষ্ঠানটির লেনদেন দেশের উভয় বাজারে স্থগিত রয়েছে।
ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিএটিবিসির ৩৯তম বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ৩৯ তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আজ বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টায় বল রুম, সোনারগাঁও হোটেল, ঢাকায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক যে লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে তা সহ বিভিন্ন এজেন্ডা শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সমাপ্ত বছরের আর্থিক প্রতিবেদন শেয়ারহোল্ডারদের সামনে তুলে ধরা হয়।
কোম্পানির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ গোলাম মাঈনুদ্দীনের সভাপতিত্বে সভা শুরু হয়। এতে পরিচালকম-লীর মধ্যে কামরুল হাসান, কেএইচ মাসুদ সিদ্দিকী, সৈয়দ মানজুরুল ইসলাম, ফাইকুজ্জামান, শেহজাদ মুনীম. অ্যান্থনি ইয়াং, জাকির ইবনে হাই ও কোম্পানির সেক্রেটারি মো. আজিজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
সভায়  অত্যন্ত মনোরম পরিবেশে এজিএম-এর আয়োজন করায় বিভিন্ন শেয়ারহোল্ডারদের পক্ষ থেকে  কোম্পানির নতুন সেক্রেটারি মো. আজিজুর রহমানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

দুই পরিচালকের শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকি ও বীমা খাতের দুই পরিচালক শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দিয়েছেন। এরা হলেন – ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক ডা. সাহিদা আক্তার ও গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালক সাইদ বদরুল আলম ।
আজ বুধবার ডিএসই  ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য জানা যায়।
ওয়েবসাইট সূত্রে আরো জানা গেছে, ওয়ান ব্যাংকের পরিচালক ডা. সাহিদা আক্তার তার হাতে থাকা এ প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ শেয়ার  বিক্রি করবেন। বর্তমানে তার কাছে বর্তমানে ১ কোটি ৮২ লাখ ৩১ হাজার ৫০০টি শেয়ার রয়েছে।
গ্লোবাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির উদ্যেক্তা পরিচালক সাইদ বদরুল আলম ৪০ হাজার শেয়ার বিক্রি করবেন। বর্তমানে তার কাছে ১ কোটি ৪ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার রয়েছে।
এ ঘোষণা দেওয়ার পরবর্তী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে তারা  এ শেয়ার বিক্রি সম্পন্ন করবেন।

বৃহস্পতিবার তিন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত তিন প্রতিষ্ঠানের বোর্ড সভা আগামীকাল ১২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিষ্ঠান তিনটি হলো- আর্থিক খাতের জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং ব্যাংকিং খাতের যমুনা ব্যাংক।
আর্থিক খাতের জিএসপি ফাইন্যান্সে পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামীকাল ১২ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
আর্থিক খাতের প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের বোর্ড সভা আগামী ১২ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে।
ব্যাংকিং খাতের যমুনা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভা আগামী ১২ এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে।

বাটা সু’র বোর্ডসভার তারিখ নির্ধারণ

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত ট্যানারি খাতের বাটা সু-ও বোর্ডসভার তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।   সভা আগামী ১৬ এপ্রিল বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হবে। সভায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণা করা হতে পারে।

‘তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কোনো ইচ্ছা এসইসির নেই’

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, ‘অবাধ তথ্যপ্রবাহে বাধা দেয়ার কোনো ইচ্ছা বা অভিপ্রায় কমিশনের নেই। কমিশনে অনেক মূল্যসংবেদনশীল তথ্য থাকে। ইস্যু ম্যানেজারের লোকজন এসে বিভিন্ন কৌশলে সেই সব তথ্য সংগ্রহ করে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বাজারে। এই জন্য আমরা কমিশনে অবাধ যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছি। তবে সাংবাদিকদের প্রবেশ বা তথ্যপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত করার কোনো পরিকল্পনা কমিশনের নেই।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআর গণমাধ্যমকর্মীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে কি প্রক্রিয়া অবলম্বন করে সে বিষয়টি আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে পর্যালোচনা করে আশা করছি রোববার থেকে এসইসিতে প্রবেশরে ক্ষেত্রে সেই ধরনের পদক্ষেপ নিতে পারবো। এ সময় চেয়ারম্যান রোববার পর্যন্ত প্রচলিত নিয়ম মেনে চলতে সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান।
প্রসঙ্গত, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনে (এসইসি) গত রোববার এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে এসইসির কার্যালয়ে প্রবেশে বিশেষ অনুমতি লাগবে। এদিকে এসইসিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এ বিষয়ে এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা হলেও তিনি দেখা না করে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানের মাধ্যমে জানান, কোনো সাংবাদিক, এসইসির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, তিনি অনুমতি প্রদান করলে তবেই ঢুকতে পারবেন। তবে অনুমতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত গেটে অপেক্ষা করতে হবে। অথবা মুখপাত্র সাইফুর রহমানের মাধ্যমে কারো সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাইতে হবে।
কমিশনের এমন পদক্ষেপের প্রতিবাদে আজ বুধবার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেনে গণমাধ্যমকর্মীরা।
তারা চেয়ারম্যানের বক্তব্য শোনার এবং কমিশনে তাদের প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা থাকবে না- এমন আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাংবাদিকরা।

আগামীকাল থেকে স্পট মার্কেটে সিটি ইন্স্যুরেন্সের লেনদেন

আগামীকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সিটি জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্পট মার্কেটে হবে। আজ বুধবার ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার দুই কোম্পানির লেনদেন স্থগিত

আগামীকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত দুই কোম্পানির লেনদেন স্থগিত থাকবে। রেকর্ড ডেট থাকার কারণে লেনদেন স্থগিত থাকবে বলে আজ বুধবার ডিএসইর ওয়েবসাইট সূত্রে জানা গেছে।

এমটিবি ইউনিট ফান্ড বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান

এমটিবি ইউনিট ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান অ্যালায়েন্স ক্যাপিটাল অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড আজ বুধবার রাজধানীতে ফান্ড বিক্রয় প্রতিনিধিদের প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। এমটিবি ইউনিট ফান্ড একটি ওপেন-এন্ডেড ফান্ড, যার প্রাথমিক আকার ১০০ কোটি টাকা। ফান্ডের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে মিউচুয়াল ট্র্াস্ট ব্যাংক লিমিটেড ২০ কোটি টাকা প্রদান করেছে। বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এই ফান্ডের ট্রাস্টি এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড হলো কাস্টডিয়ান। ওপেন-এন্ডেড ফান্ড হওয়ায় এমটিবি ইউনিট ফান্ড স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত হবে না। ২১টি বিক্রয় প্রতিনিধির ১১৫ টি বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে সারাদেশে এই ফান্ডের ইউনিট ১৫ এপ্রিল ২০১২ থেকে প্রাথমিকভাবে বিক্রয় শুরু হবে। কোনরকম ঝক্কি, ঝামেলা ছাড়া এই কেন্দ্রগুলো হতে গ্রাহকরা ইউনিট ক্রয়, বিক্রয় অথবা হস্তান্তর করতে পারবেন। এমটিবি ইউনিট ফান্ড বাংলাদেশের প্রথম ওপেন এন্ডেড ফান্ড যার সার্টিফিকেট হবে ইলেকট্রনিক এবং এমন সময়ই এটি বাজারে আসছে যখন ডিএসই’র পি/ই অনুপাত ১৪’র আশপাশে থাকছে। এই ফান্ড সম্পর্কে বিক্রয় প্রতিনিধিদের বিস্তারিত ধারণা প্রদান করা হয়, বিশেষ করে বিক্রয়, পুন:ক্রয় ও হস্তান্তরের আবেদন গ্রহন এবং সেবা প্রদান সম্পর্কে যেহেতু তাদেরকেই বিনিয়োগকারীদের নানা ধরনের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রশিক্ষণ সম্পর্কে বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলেন, আমরা নতুন এই এই ফান্ডকে স্বাগত জানাচ্ছি এবং এই ইউনিট ফান্ড তার ব্যবসায়িক কার্যক্ষমতা এবং নীতি দিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে বলে আমরা আত্মবিশ্বাসী।

এইচআর টেক্সটাইলের বোনাস বিও অ্যাকাউন্টে জমা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত এইচআর টেক্সটাইল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার হোল্ডারদের জন্য সমাপ্ত অর্থবছরে যে ডিভিডেন্ট ঘোষণা করেছে তা তাদের বিও অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আজ বুধবার ডিএসই) ওয়েবসাইট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

হেডিলবার্গ সিমেন্টের ৪৫ শতাংশ নগদ লভাংশ ঘোষণা

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত সিমেন্ট খাতের হেডিলবার্গ সিমেন্টের ৪৫ শতাংশ নগদ লভাংশ ঘোষণা করেছে।  আজ বুধবার কোম্পানিটির বোর্ড মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ  ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বিনিয়োগকারীদের জন্য এ লভাংশ ঘোষণা করে বলে জানা গেছে। কোম্পানিটির রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ এপ্রিল। আগামী ১৪ মে  এজিএম সকাল সাড়ে ১০টায় কাঁচপুর ফ্যাক্টরি প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত হবে।  কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ১৩.৩৭ টাকা।

পাঁচ পরিচালকের শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত চার প্রতিষ্ঠানের পাঁচ জন পরিচালক শেয়ার বাজার থেকে শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। প্রতিষ্ঠান চারটি হলো- বীমা খাতের প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, ব্যাংকিং খাতের ঢাকা ব্যাংক এবং আল আরাফাহ ব্যাংক।

বীমা খাতের প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক শাহজাহান কবির এ প্রতিষ্ঠানের ১০ হাজার ৫০০টি শেয়ার, বীমা খাতের ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সর কর্পোরেট ডাইরেক্টর পাকিজা টেক্সটাইল এ প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ ৫ হাজার শেয়ার এবং ব্যাংকিং খাতের ঢাকা ব্যাংকের ২ পরিচালক মো: আমিরুল্লাহ এ প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ১০ হাজার শেয়ার ও খন্দকার জামিল উদ্দিন এ প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ৮৪ হাজার শেয়ার এবং আল-আরাফাহ ব্যাংকের পরিচালক আলহাজ্ব মো: হারুন আর রশিদ খান এ প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বাকিতে লেনদেন করায় ২৬ কোম্পানিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা

বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশ লঙ্ঘন করে বাকিতে লেনদেন করায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

সূত্র জানায়, জরিমানার শিকার হওয়া কোম্পানিগুলো লেনদেনের ক্ষেত্রে চলতি বছরে মোট ৩৯ বার আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ৪ বার ও ৩ বার করে আইন লঙ্ঘন করেছে একটি করে কোম্পানি। দুইবার আইন লঙ্ঘন করা কোম্পানির সংখ্য ৮টি এবং বাকি ১৬টি কোম্পানি একবার করে আইন লঙ্ঘন করেছে।

সূত্র মতে, আইন লঙ্ঘন করাই আইডিআরএ কোম্পানিগুলোকে শুনানিতে ডেকে ২১ বারের জন্য ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বাকি ১৮ বার আইন লঙ্ঘনের জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৪ বার আইন লঙ্ঘন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ৩ বার আইন লঙ্ঘন করায় কোম্পানিটিকে চলতি বছর আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও একটি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।

তিনবার আইন লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। এ মধ্যে দুটির শুনানী শেষ হয়েছে এবং অপরটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুইবারে কোম্পানিটিকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

দুইবার আইন লঙ্ঘন করা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে গ্রীণ ডেল্টা, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ক্রিষ্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।

এর মধ্যে আইডিআরএ দুই বার আইন লঙ্ঘন করায় গ্রীণ ডেল্টা, ক্রিষ্টাল, বিজিআইসি ও প্রগতি প্রত্যেকে মোট ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। ফেডারেলের জরিমান বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া এশিয়াকে এক বার আইন লঙ্ঘন করার জন্য দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ডকে একবারের জন্য জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং অপরটি প্রক্রিয়াধীন করয়েছে। প্রাইমের দু’টিই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একবার আইন লঙ্ঘন করাই দেড় লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে ইস্টল্যান্ড, ইউনিয়ন ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। আর ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে গ্লোবাল, ফনিক্স ও পিপলস ইন্স্যুরেন্সকে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের বীমা কোম্পানি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে একবার আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এছাড়া একবার করে আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে রিলায়েন্স, এশিয়া প্যাসেফিক, ইস্টার্ণ, রূপালী, জনতা, ইউনাইটেড, রিপাবলীক, নর্দান, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর আইডিআরএ সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম সংক্রান্ত লেনদেনের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৫ হাজার টাকার বেশি প্রিমিয়াম হলে বীমা কোম্পানিকে অবশ্যই ডিডি, পে-অর্ডার, ক্রেডিট অ্যাডভাইজ, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বীমা দলিলাদি অবশ্যই চেকের অর্থ পাওয়ার পরে ইস্যু করতে হবে।

পরিপূর্ণ প্রিমিয়াম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে কভার নোট, পলিসি, এনডোর্সমেন্ট অথবা অন্য যে কোনো বীমা বিষয়ক অংশজুড়ে দেয়ার আগে নিতে হবে। এছাড়া ডিডি, পে-অর্ডার অথবা চেক নম্বর এবং তারিখ মানি রিসিপ্টে উল্লেখ করতে হবে। যে কোনো ধরনের প্রিমিয়াম ফেরত (রিফান্ড) দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের জ্ঞাতসারে অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকে দিতে হবে।

এছাড়া বীমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে একমাত্র দাবিদারের ব্যাংক হিসাবে অ্যাকাউন্টপেয়ি চেক দিতে হবে। যা গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।

সক্রিয় হচ্ছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা

আবারো পুঁজিবাজারে সক্রিয় হয়ে উঠছেন সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা সঙ্কট কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তৎপরতা বাড়লে বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। এতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়ে লেনদেনে সক্রিয় হবেন।

সামগ্রিকভাবে হতাশা কাটিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ বিপর্যয়ের রেশ না কাটলেও শেয়ারের বর্তমান দর বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় এখান থেকেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন তারা। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের দিক থেকে প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময় শেষ হয়ে আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
জানা গেছে, দীর্ঘ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ শেয়ারের দর ক্রয়যোগ্য অবস্থানে নেমে আসায় গত মার্চ মাস থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করে। বিশ্বের নামী-দামী বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ ফান্ড বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে সক্রিয় রয়েছে। সেইসঙ্গে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। বাজারের সামগ্রিক লেনদেনেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপে তেমন কোনো কাজ না হলেও ডিএসইর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর বাজারের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকার ইতিমধ্যে বাজারের জন্য যেসব সুবিধা ঘোষণা করেছে ডিএসইর বর্তমান নেতারা সেগুলো কার্যকর করতে পারবেন। পাশাপাশি বাজারের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপরও প্রভাব রাখতে পারবেন। এর ফলে বাজারে বড় কোনো পতন হবে না। গত রোববার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের পর এসইসি ও ডিএসইর উদ্যোগে সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সফল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী নতুনভাবে বিনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলে অনেক বিনিয়োগকারীর মার্জিন ঋণ নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা শেয়ার কিনলে সামগ্রিকভাবে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।

ডিএসই ও সিএসইর বৈঠকে সিদ্ধান্ত অতিসত্বর রিটের জবাব দেয়া হবে

উদ্যোক্তা পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে বিষয়ে আদালতে রিটের পর রুল জারি করেছে আদালত। এ বিষয়ে অতিসত্তর আদালতের রুলের জবাব দেয়া হবে বলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএসই ও সিএসইর এক বৈঠকে রিটের জবাবের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

আজ বুধবার বিকেলে ডিএসই ও সিএসইর পক্ষ থেকে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে রিটের জবাব দেয়া হবে। তিনি বলেন, গত ২২ নভেম্বর এসইসি পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও একক ভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা জাতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল ডিএসইতে বৈঠক করা হবে। তিনি বলেন, এসইসির ওই নির্দেশনা জারির পর থেকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে থাকে। তাই এসইসির এ নির্দেশনা যাতে বহাল থাকে সেজন্য এ পক্ষে সকল যুক্তি তুলে ধারা হবে।

সিএসইর প্রেসিডেন্ট আল মারুফ খান বলেন, গত রোববারের আদালতের রিটের ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রিটের জবাবের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদালতে তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে আরো আলোচনার জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল সিএসইতে বৈঠক করা হবে। সেখানে আইন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কিভাবে রিটের জবাব সঠিক ভাবে দেয়া যায় সে বিষয়েও ওই বৈঠকের আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।

এ ছাড়া আজকের যৌথ সভায় করপোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালীকরণ, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের ভূমিকা, লেনদেনের সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত রোববার পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে এসইসি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রিটে বলা হয়, পরিচালক পদে থাকার জন্য এসইসি এভাবে শেয়ার থাকার শর্ত জুড়ে দিতে পারেন না। কে পরিচালক থাকবে, আর কে থাকবে না, তা নির্ধারিত হয় কোম্পানি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী। সেখানে এ ধরণের কোন কথা বলা নাই। তাই এটা আইনসম্মত নয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও জনস্বার্থে কাউকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। তাই এসইসির প্রক্রিয়াটি অবৈধ।

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের পরিচালক শেখ আব্দুল মোমিন এ সংক্রান্ত এক আবেদন করলে বিচারপতি ফরিদ আহমেগদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ গত রোববার  প্রাথমিক শুনানী শেষে এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফিদা কামাল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।

এতে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ডিএসই ও সিএসইকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২২ নভেম্বর এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ওই কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করতে পারলে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।

স্কয়ার টেক্সটাইলের ৩৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বস্ত্র খাতের স্কয়ার টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে শেয়ারহোল্ডরদের জন্য ৩৬ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বোর্ড সভায় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৬ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

শেয়ারহোল্ডারদের সর্বসম্মতিক্রমে লভ্যাংশ পাশের জন্য প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ২৯ মে সকাল সাড়ে ১০টায়, ফ্যাক্টরী প্রাঙ্গন, সারদাগঞ্জ, কাসিমপুর, গাজীপুর, ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে। রেকর্ড ডেট নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ এপ্রিল।

আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৬.৩৭ টাকা। এর আগের বছর প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারহোল্ডারদের ১৬ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিলো।

পিপলস লিজিং এর ডিভিডেন্ড ঘোষণা

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের পিপলস লিজিং শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

আজ কোম্পানিটির বোর্ড মিটিংএ এসিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কোম্পানির দেয়া তথ্য মতে, ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ি কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয়েছে ২.৭৬ টাকা ও শেয়ার প্রতি সম্পদ হয়েছে ২০.৪৪ টাকা।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডারদের ৭৫ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৯.৪৭ টাকা।

‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০৫ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর ১৯০৬২৭৩৩০টি শেয়ারের মধ্যে ৫৩.৬২ শতাংশ পরিচালকদের কাছে, ৩৯.২৬ শতাংশ জনগনের কাছে আর বাকি  ৭.১২ শতাংশ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

২ শতাংশ শেয়ার বাধ্যতামূলক নয় ফায়দা লুটতেই গুজব ছড়াচ্ছে - খায়রুল

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ এখন আর বাধ্যতামূলক নয়,বলে লেনদেন চলাকালীন সময় মতিঝিল পাড়ার ব্রোকারেজ হাউসগুলোতে চাউর ছিল।  তবে বাজারের এমন খবর সত্য নয় বলে জানিয়েছেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) চেয়ারম্যান ড. খায়রুল হক। তিনি এ ধরনের খবর গুজব ছাড়া আর কিছুই নয় বলে বুধবার সংবাদিকদের সঙ্গে সাক্ষাতকালে এ কথা বলেন।

লেনদেন চলাকালীন সময় মতিঝিল এলাকায় কিছু ব্যক্তি খবর রটায় যে পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে এসইসি তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে। এর ফলে এখন আর যে সকল পরিচালকদের একক শেয়ার ২ শতাংশের নিচে রয়েছে তাদেরকে আর তা ধারণ করতে হবে না। ওই ব্যক্তিরা আরো গুজব রটায় শুধু প্রাতিষ্ঠানিকপর্যায়ে ৩০ শতাংশ শেয়ার সংরক্ষণ করলেই চলবে। এই বিষয়ে এসইসি চেয়ারম্যানের কাছে সত্যতা জানতে চাইলে তিনি জানান, এসইসি’র পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

এসময় তিনি বলেন, নিশ্চয় কেউ তাদের ব্যক্তিগত ফায়দা হাসিলের জন্য এ ধরনের কথা বলে বেড়াচ্ছে। যাতে বাজারে এক ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। তিনি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের এ ধরনের গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য আহবান জানান।

এ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও আবেদন নামঞ্জুর অডিটর-ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে এসইসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জানানো এ্যাপালো ইস্পাত কমপ্লেসের প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন নামঞ্জুর করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সম্প্রতি এসইসি’র ৪২৫তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কমিশন সভা সূত্রে আরো জানা যায়, এ্যাপালো ইস্পাত কমপ্লেস আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ লক্ষ্যে একটি নথি এসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রেরনের লক্ষ্যে ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

এসইসি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ্যাপোলো ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর গত ২৯ মার্চ একটি চিঠি পাঠায় এসইসি। এসইসি’র পরিচালক আবুল কালাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আইপিও আবেদন নামঞ্জুর করার কারণ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, এপালো ইস্পাতের জমা দেয়া প্রসপেক্টাস অনুসারে পাবলিক ইস্যু রলস ২০০৬, ১৮ এর ৫ ধারা বলে ১৪.৯১১৫ একর জমির কাগজ পত্র দাখিল করেছেন। ওই জমির মধ্যে ০.১৮ একর জমি অগ্রীম ক্রয় করা হয়েছে এবং ১১.৩২ একর জমির ভাড়া কোম্পানি পাচ্ছে হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এছাড়াও যে অন্যান্য জমির পরিমান কতো তা প্রসপেক্টাসে দেখানো হয়নি। এছাড়া .৯৯৪০ একর এবং ০.৫৪৭৫ একর মোট ১.৫৪১৫ একর জমির মালিক যথাক্রমে এ্যাপোলো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং মো. আনসার আলী এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স। এ জমি ১৪.৭৩১৫ একর (১৪.৯১১৫ একর থেকে ০.১৮ একর বাদ দিয়ে) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ অন্যের জমি যা প্রসপেক্টাসে এ্যাপোলো ইস্পাতের নামে দেখানো হয়েছে।

এছাড়া দাখিলকৃত প্রসপেক্টাস থেকে দেখা গেছে, ১৪.৭৩১৫ একর জমিকে পুন:মূল্যায়ন করে ১৫৭ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রায়) ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। জমির মূল্যায়নকারী সংস্থার নাম- মাশিস মুহিত হক এন্ড কোম্পানি চাটার্ড এ্যাকাউনটেন্ট।

দেখা যাচ্ছে, ওই জমি পুন:মূল্যায়নের পর ১২৫ কোটি বেশি দেখানো হয়েছে এবং ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনটি অডিট করেছে জোহা জামান কবির রশিদ এন্ড কোম্পানি চাটার্ড এ্যাকাউনটেন্ট। ১৪.৭৩৪৫ একর জমির পুন:মূল্যায়নের বিষয়টি অডিটকৃত প্রতিষ্ঠান এ্যাপোলো ইস্পাতের আর্থিক প্রতিবেদনে ভূমি ও ভূমি উন্নয়নমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও জমিটি এ্যাপোলো ইস্পাতের নয়।

যার প্রেক্ষিতে কোম্পানির সম্পদ অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির সত্য ও স্বচ্ছ আবস্থা তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির সাধারণ কার্যপ্রনালী ও নগদ আয় অর্জন করার ক্ষমতাকে অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। এমনকি বিষয়গুলো প্রসপেক্টাস ও আর্থিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়েছে।

যা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, এ্যাপোলো ইস্পাত ইচ্ছাকৃত ভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ভুল তথ্য উপাত্ত দাখিল করেছে কমিশনের কাছে। ফলে এপালো ইস্পাত কমপ্লেস আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে মনে করছে কমিশন।  কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক কেন্দ্র করে অর্থমন্ত্রীকে ফরাসউদ্দিনের প্রস্তাব ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কমিটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ

পুঁজিবাজার স্থিতিশীল রাখতে উপদেষ্টা কমিটির  আসন্ন  ২৫ এপ্রিলের বৈঠকে ৬ টি ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা  হবে।  এর মধ্যে গত বছর গঠিত ডিমিউচ্যুয়ালাইজেশন কমিটি অসত্য তথ্য দেয়ায় কমিটির ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি রয়েছে । উপদেষ্টা কমিটির প্রধান ড.ফরাসউদ্দিনের চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানা গেছে। 

 গত ৫ এপ্রিল অর্থমন্ত্রীর কাছে এ সংক্রান্ত  চিঠি প্রেরণ করে ড. ফরাস উদ্দিন। যার ডায়েরি নং: এসডি -১২৬। যা বুধবার এসইসিতে আসে।

ফরাস উদ্দিনের চিঠিতে লেখা হয়েছে, আমাদের ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখের পেছানো পুঁজিবাজার বিষয়ক প্রস্তাবগুলো সম্পর্কে এসইসি ও অর্থমন্ত্রনালয় কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষন দিয়েছে জেনে আশ্বাস্ত বোধ করছি। সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাখ্যা ছাড়াও ভবিষ্যত সতর্কতা সমধিক প্রয়োজন। ইতোমধ্যে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এসেছে ২৫ এপ্রিলের অ্যাডভাইজারী কাউন্সিলের সভায় ৮ ফেব্রুয়ারির চিঠি ও প্রেরিত বিষয়বস্তুগুলো আলোচনা হতে পারে।

যেসব বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছে সেগুলো হচ্ছে,
১। অভিহিত মূল্যের বেশী দামে শেয়ার বাজারে ছাড়ার নীতিমালা আছে কি না এবং এটা বস্তুনিষ্ঠ মানদন্ডে গ্রহণযোগ্য কি না। এ বিষয়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মানদন্ডের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। হালে অনুমোদিত এ ধরনের কেইসগুলো সম্পর্কে তথ্য প্রয়োজন।

২। সম্পদ পুন:মূল্যায়নের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিচার করে তবেই তার অনুমোদন দিতে হবে। নূন্যতম ৩ বছর পার না হলে একটি সম্পদ পুন:মূল্যায়িত বিষয়ে আবার হাত দিতে পারা উচিত নয়।

৩। বুক বিল্ডিং মেথডের ব্যাপক অপব্যাবহার রোধে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এটার বাংলাদেশ সময়োপযোগী সংস্কার কতদূর এগিয়েছে তা জানা দরকার।

৪। পুঁজিবাজার সংস্কারের মূল চাবি অবশ্যই ডিমিউচ্যুলাইজেশনের মধ্যেই নিহিত রয়েছে। এ বিষয়ে গত বছর একটি হাল্কা কমিটি গঠন করে ৪ মাসের মধ্যে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে বলে আপনাকে যে বিভ্রান্তিমূলক ও অসত্য অবিশ্বাস দেয়া হয়েছিলো সে সম্পর্কে অনুসন্ধান ও দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সূচনা করার সুপারিশ করছি। তবে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ডিমিউচ্যুলাইজেশনের বিষয়ে যে সুস্পষ্ট এবং বস্তুনিষ্ট সুপারিশ করেছে তা কবে নাগাদ অনুমোদিত ও কার্যকর হবে তা জানা দরকার। বিশেষ করে এডিবি’র প্রতিবেদনে বলা,
(ক) ইন্ডেপেন্ডেন্ট ব্যক্তিবর্গ সহকারে আলাদা নমিনেশন ও রিমিউনারেশন কমিটি গঠন।
(খ) ঢাকা চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জসহ অন্যান্য সংস্থায় ইন্ডেপেন্ডেন্ট পরিচালকগণের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিতকরণ।
(গ) সিইও এবং সিএফও পদে দুটোতে বস্তুনিষ্ঠ কাজ করতে পারার নিশ্চয়তাও চেক/ব্যালেন্স।
(ঘ) বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থার পরিচালক পর্ষদে ইন্ডেপেন্ডেন্ট পরিচালক নিয়োগ এবং অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ ঐ ক্যাটাগরির পরিচালকদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার বিধান কবে নাগাদ কার্যকর হবে তা জানার প্রয়োজন।

৫। মার্চেন্ট ব্যাংকের নিজস্ব পুঁজির একটি ব্যাপার রয়েছেই, আর তার সঙ্গে বড় হয়ে উত্থাপিত হয়েছে অমনিবাস অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কথিত লুকোচুরি, কারচুপি ও অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ। এসইসি এ বিষয়ে দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে দৃঢ় ও আশু সিদ্ধান্ত গ্রহনে করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারে।

৬। বলা হচ্ছে যে পুঁজিবাজারে স্বয়ংক্রিয়তা (অটোমেশন) এসে গেছে, তাহলে ঘটা করে ইন্টারনেটের ম্যাধ্যমে সকল লেনদেন হবার তারিখ বার বার পিছিয়ে যাচ্ছে কেন। এ বিষয়টা জানা দরকার।


উল্লেখ্য প্রায় ৭ মাস পর আগামী ২৫ এপ্রিল অর্থমন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজার বিষয়ক গঠিত উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠক হবে  ।


এর  আগে ২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর উপদেষ্টা কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ফরাস উদ্দিনকে আহবায়ক করে এ কমিটি করা হয়। এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, এসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিএ ২১৮২ মেজর জেনারেল রেজানুর রহমান এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের যুগ্নসচিব।

মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

নর্দান ইন্সুরেন্সের ১৫% লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে নর্দান জেনারেল ইন্সুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার জানানো হয়, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপনী বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

নর্দান জেনারেল ইন্সুরেন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ১৩ জুন বেলা সাড়ে ১০টায় কাকরাইলের আইডিইবি ভবনের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল।

ডিএসই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সমাপনী বছরে নর্দান জেনারেল ইন্সুরেন্সের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৫১ পয়সা। শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১২ টাকা ৯ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১০ সালের সমাপনী বছরে ১২ শতাংশস্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

প্রগতি ইন্সুরেন্সের লভ্যাংশ ঘোষণা

শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে প্রগতি ইন্সুরেন্সের পরিচালনা পর্ষদ।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে মঙ্গলবার জানানো হয়, ২০১১ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপনী বছরের জন্য এ লভ্যাংশ ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রগতি ইন্সুরেন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) আগামী ৩১ মে বেলা সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের ভূয়াপুরের যমুনা রিসোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ এপ্রিল।

ডিএসই ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছে, সমাপনী বছরে প্রগতি ইন্সুরেন্সের ১০ টাকার প্রতিটি শেয়ারে আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ টাকা ৩৬ পয়সা। শেয়ারপ্রতি মোট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৮ টাকা ৩৪ পয়সা।

কোম্পানিটি ২০১০ সালের সমাপনী বছরে ১৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ ঘোষণা করেছিল।

ডিএসই: সূচক ও লেনদেন বেড়েছে

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের তৃতীয় দিন সূচকের সঙ্গে লেনদেনও বেড়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেন শুরুর পর পাঁচ মিনিটে সাধারণ সূচক বাড়ে ৬৮ পয়েন্ট। এরপর ধাপে ধাপে সূচক বাড়ে। লেনদেন শেষে ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় ১১৫ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২১৪ পয়েন্ট হয়েছে।

হাতবদল হওয়া কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দাম বেড়েছে ২২০টির, কমেছে ৩১টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টির দাম। লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯২৯ কোটি টাকার শেয়ার যা গত দিনের চেয়ে প্রায় ২০২ কোটি টাকা বেশি।

পরিচালকদের শেয়ার ধারণ সম্পর্কিত প্রজ্ঞাপন নিয়ে হাই কোর্টের রুলের পরদিন সোমবার ডিএসই সাধারণ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে। লেনদেন হয় প্রায় ৬৮৮ কোটি টাকার শেয়ার। রোববার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাধারণ সূচকে যোগ হয়েছিল প্রায় ৭ পয়েন্ট।

গত সপ্তাহে ডিএসই সাধারণ সূচক প্রায় ১০৯ পয়েন্ট বা ২.১৮ শতাংশ বাড়ে। গত সপ্তাহে গড়ে দৈনিক লেনদেন ছিল ৭২৭ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে ডিএসই সাধারণ সূচকে যোগ হয় ২৩১ পয়েন্ট। তারও আগের দুই সপ্তাহেও সাধারণ সূচকও বেড়েছিল।

রোববার এক আদেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাই কোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনটি গত ২২ নভেম্বর জারি করেছিল এসইসি।

ওই আদেশে বলা হয়, একটি কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকতে হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকে পরিচালকের হাতে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে, তা না হলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন।

গত ৪ এপ্রিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কেনার বাধ্যবাধকতার কথা উদ্যোক্তা-পরিচালকদের একটি চিঠি দিয়ে মনে করিয়ে দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

এসইসির এই আদেশের কথা উলে¬খ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২১ মে শেয়ার কেনার সময়সীমা শেষ হবে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের যারা এখনও ২ শতাংশ ও ৩০ শতাংশের কোটা পুরণ করেননি, তাদের এ সময়ের মধ্যে শেয়ার কেনা শেষ করার কথা মনে করিয়ে দিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের অনুরোধ করা হয়েছে ডিএসইর এই চিঠিতে।

এসইসিতে প্রবেশে বাধা, কাল সাংবাদিকদের প্রতিবাদ

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনে (এসইসি) গত রোববার এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে এসইসির কার্যালয়ে প্রবেশে বিশেষ অনুমতি লাগবে। এদিকে এসইসিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণমাধ্যমকর্মীরা। তারা এর প্রতিবাদে আগামীকাল বুধবার কমিশনের চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করবেন বলে জানিয়েছেন।
দায়িত্বপালনরত গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, কমিশন কর্মকর্তারা এ ব্যবস্থা প্রবর্তনের কারণ হিসেবে সাধারন মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার দোহাই দিচ্ছেন। অথচ সুনির্দিষ্ট কাজ ছাড়া কোন ব্যক্তিই এসইসি কার্যালয়ে যান না। তাই সাধারন মানুষের জন্য এই ব্যবস্থা চালুর যুক্তি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বরং এসইসিতে সাংবাদিকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।
কমিশনের অদক্ষতা ও দুর্নীতি আড়াল করার তাদের উদ্দেশ্য হিসেবে এই এক্সেস কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করা হয়েছে বলে মনে করেন গণমাধ্যমকর্মীরা।
এ বিষয়ে এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা হলেও তিনি দেখা না করে নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমানের মাধ্যমে জানান, কোনো সাংবাদিক, এসইসির কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, তিনি অনুমতি প্রদান করলে তবেই ঢুকতে পারবেন। তবে অনুমতি পাওয়ার আগ পর্যন্ত গেটে অপেক্ষা করতে হবে। অথবা মুখপাত্র সাইফুর রহমানের মাধ্যমে কারো সাক্ষাৎ করার অনুমতি চাইতে হবে।
গণমাধ্যমকর্মীরা বলছেন, এ বিষয়ে এখনই প্রতিবাদ না করলে এসইসি সংবাদ মাধ্যমের ওপর চেপে বসবে। এখন সংবাদ সংগ্রহে পরোক্ষ বাধা প্রদান করছে। এসইসির দুর্নীতিবাদ কর্মকর্তারা এই পদক্ষেপে সফল হলে ভবিষ্য সংবাদ পরিবেশনের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের সাহস দেখাবে।
এ জন্য বুধবার দুপুর ১২টায় প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সকলে এসইসি চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে এর সুষ্ট সমাধানের অনুরোধ জানাবে সাংবাদিকরা। এতে কাজ না হলে পরবর্তিতে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।

আট পরিচালকের প্রায় ২২ কোটি টাকা শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাত প্রতিষ্ঠানের আটজন পরিচালক শেয়ারবাজার থেকে ৩৩৭ লাখ ৫ হাজার ৫০০টি শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যার আজবের বাজার মূল্য দাড়ায় ২১ কোটি ৯১ লাখ ৭০ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রতিষ্ঠান সাতটি হলো-ব্যাংকিং খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, বীমা খাতের ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, সন্ধানী লাইল ইন্স্যুরেন্স এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স।

ব্যাংকিং খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের দুই পরিচালক মো: জাহাঙ্গীর আলম খান ও মো: তানভির খান এ প্রতিষ্ঠানের ১০ লাখ করে মোট ২০ লাখ শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন যার আজকের বাজার দর দাড়ায় ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা, উত্তরা ব্যাংকের পরিচালক মিস বদরুন্নেচ্ছা (শারমিন) ইসলাম এ প্রতিষ্ঠানের ২ কোটি ৯৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার মোট ৫ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার এবং শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচারক তোফাজ্জল হোসেন আজকের বাজার দর অনুযায়ী ১ কোটি ৫৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার এ প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ শেয়ার, বীমা খাতের ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচারক মো: মোকাদ্দেছ হোসেন ৮ কোটি ৬৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার এ প্রতিষ্ঠানের ৪ লাখ ৪০ হাজার শেয়ার, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক একেএম সরওয়ার্দী চৌধুরী ৩৮ লাখ ৩০ হাজার টাকার এ প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ শেয়ার, সন্ধানী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক কাজী মাহাবুব ১ কোটি ৯৬ লাখ ৬০ হাজার টাকার এ প্রতিষ্ঠানের ১ লাখ শেয়ার এবং প্রভাতী ইন্স্যুরেন্সের পরিচালক শাহজাহান কবির আজকের দর অনুযায়ী ৬ লাখ ৮০ হাজার ৪৫০ টাকার এ প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার ৫০০টি শেয়ার বর্তমান বাজার দরে আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

লেনদেনে প্রাণ চাঞ্চল্য, শেষ ২৩ মিনিটে দেড়শত কোটি টাকার লেনদেন

আজ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) শেষ ২৩ মিনিটে দেড়শত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। বাজারের ইতিবাচক প্রবণতায় সূচকের সঙ্গে সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও ক্রমানয়ে বাড়তে শুরু করেছে।

আজ বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিএসইর শেষ এক ঘন্টায় লেনদেন হয়েছে ২৭৫ কোটি টাকা। শেষ ৩০ মিনিটে লেনদেন হয়েছে ১৭৮ কোটি টাকা। আর শেষ ২৩ মিনিটে লেনদেন হয়েছে ১৫০ কোটি টাকা। এতে দেখা যায়, ডিএসইতে শুরু থেকে শেষের দিকে লেনদেনের পরিমাণ বেশি হয়েছে।

পতনের ধারা থেকে এরই মধ্যে বেরিয়ে এসেছে পুঁজিবাজার। আর ১৫ মার্চের ডিএসই প্রেসিডেন্ড নির্বাচন নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্য বাজার নিয়ে খুবই আশাবাদী ছিলো। যা ধীরে ধীরে তা পূরণ হচ্ছে। এর ফলে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থাও ফিরতে শুরু করেছে। যার কারণে লেনদেনে ফিরে আসছে প্রাণ।

বিনিয়োগকারীরা জানান, মনের মধ্যে একটা ভয় ছিল যদি উদ্যোক্তারা রিট করে শেয়ার সংরক্ষণের কোটা পূরণের বিষয়টা স্থগিত করে দেন। উদ্যোক্তারা তা করতে না পারায় সে ভয়টা কেটে গেছে। আর এ কারণই স্বতস্ফূর্তভাবে লেনদেন করতে পারছি। তাছাড়া ডিএসই’র জোড়ালো পদক্ষেপ বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাজার স্বাভাবিক করার জন্য রিট করার পরের দিন ডিএসই ও সিএসই আদালতে যান। যা বিনিয়োগকারীদের মনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এদিকে আজ মতিঝিল এলাকায় বিনিয়োগকারীদের সরব উপস্থিতি ছিল।

উল্লেখ্য ডিএসইতে ১৫ মার্চ নতুন প্রেসিডেন্ড হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বাজার স্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা করে আসছেন। এদিকে ৩১ মার্চ ডিএসই ও সিএসই এবং ২ এপ্রিল এসইসি ও ডিএসই’র বৈঠকে পরিচালকদের শেয়ার ক্রয়ে সময় না বাড়ানোর বিষয়ে জোড়ালোভাবে বলে আসছে ডিএসইর প্রেসিডেন্ড রকিবুর রহমান।

আগামীকাল ডিএসই ও সিএসইর বৈঠক

আগামীকাল বুধবার হাইকোর্টের রিটের জবাবের বিষয়ে দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকটি বিকাল ৪ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশনের (এসইসি) জারি করা উদ্যোক্তা পরিচালকদের নিজ নিজ ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে এক পরিচালকের রিট করার পর হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছে তার জবাব কিভাবে দেয়া হবে তা নির্ধারনেই দুই স্টক এক্সচেঞ্জ আগামীকাল বৈঠকে বসছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে এসইসি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রিটে বলা হয়, পরিচালক পদে থাকার জন্য এসইসি এভাবে শেয়ার থাকার শর্ত জুড়ে দিতে পারেন না। কে পরিচালক থাকবে, আর কে থাকবে না, তা নির্ধারিত হয় কোম্পানি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী। সেখানে এ ধরণের কোন কথা বলা নাই। তাই এটা আইনসম্মত নয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও জনস্বার্থে কাউকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। তাই এসইসির প্রক্রিয়াটি অবৈধ।

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের পরিচালক শেখ আব্দুল মোমিন এ সংক্রান্ত এক আবেদন করলে বিচারপতি ফরিদ আহমেদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ গত রোববার  প্রাথমিক শুনানী শেষে এ রুল জারি করেন।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফিদা কামাল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।

এতে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ডিএসই ও সিএসইকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ২২ নভেম্বর এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ওই কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করতে পারলে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।

জোরদার হচ্ছে সরকারি শেয়ার ছাড়ার কাজ

প্রায় এক মাস ধরে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় চাহিদার সঙ্গে যোগানের সমন্বয় রক্ষার জন্য জোরদার করা হচ্ছে সরকারি কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া। এখন থেকে নিয়মিতভাবে পর্যায়ক্রমে ২৫টি সরকারি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন জমা দিয়েছে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমেটেড ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। চলতি মাসেই এ দু’টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেয়া হতে পারে। এছাড়া বাকি ২১টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে আসার জন্য প্রতিটি কোম্পানিরই প্রস্তুতি কাজ চলছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির আইপিও আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিবরণী (প্রসপেক্টাস) তৈরি করা হচ্ছে। বাকিগুলোর হিসাব নিরীক্ষা, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসবে। তবে কিছু কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সঙ্গে অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার চলে এলে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে যোগানের সামঞ্জস্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই একটির পর একটি কোম্পানির শেয়ার ছাড়া হবে। প্রতিটি কোম্পানির কর্মকর্তারাই শেয়ার ছাড়ার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে এ কাজে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট না কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সরকারি কোম্পানিগুলোর প্রতিটিই অত্যন্ত শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি সম্পন্ন। এসব কোম্পানির সম্পদের পরিমানও অনেক। ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার কিনলে ভালো ফল পাবেন। সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, নির্ধারিত ২৫টি সরকারি কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) আগে থেকেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। গত নভেম্বরে আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আরও ৬২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার ছাড়া হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলস ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার বরাদ্দের জন্য আইপিও আবেদন জমা নিয়েছে। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও আবেদন এসইসির বিবেচনাধীন রয়েছে। বাকি ২১টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। কোম্পানিগুলো হলো টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) লিমিটেড, চিটাগং ড্রাইডক, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পঞ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল (সোনারগাঁও হোটেল), বাংলাদেশ ইনস্যুলেটর অ্যান্ড স্যানেটারিওয়ার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি, কর্ণফুলী পেপার মিলস, জিইএমকো, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ক্যাবলস শিল্প লিমিটেড।

বিনিয়োগকারীদের উপচে পড়া ভিড়

বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আজ মঙ্গলবার লেনদেন চলাকালীন হাউজগুলোতে বিনিয়োগকারীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পুঁজিবাজারের ইতিবাচক প্রবণতায় আস্থা ফিরে পাওয়ায় আবার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আবার লেনদেনে আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে পুঁজিবাজারের টানা পতনের কবলে পড়ে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারিয়ে বাজার থেকে নিজেদেরকে গুটিয়ে নেয়। মার্চ মাসের শুরু থেকেই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায় আর ১৫ মার্চের ডিএসই প্রেসিডেন্ড নির্বাচন এই দুইয়ে মিলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সরেজমিনে দেখা গেছে বিনিয়োগকারীদের উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া সারাদেশের তথ্য মতে ঢাকার মতো অন্যান্য স্থানেও ছিল বিনিয়োগকারীদের চোখে পড়ার মতো উপস্থিতি।

আজ মতিঝিল এলাকার বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজ ঘুরে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ ব্যাপকহারে বেড়েছে। সব হাউজের চেয়ারগুলো ছিল পরিপূর্ণ। অনেক বিনিয়োগকারী আবার বসার জায়গা না পেয়ে দাঁড়িয়ে লেনদেন করছেন। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, বিনিয়োগকারীরা আবার পুঁজিবাজারের উপর আস্থা ফিরে পেয়েছে। তাই তাদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

ডিএসই ভবনের সামনে বিনিয়োগকারীদের রাখা যানবাহনের জন্য ফাঁকা জায়গা নেই বললেই চলে। এদিকে পুঁজিবাজারের উর্ধ্বমূখীতার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি বাড়ছে মতিঝিল এলাকার চা বিক্রেতাদের। বিক্রেতা আবুল জানান, আগে দৈনিক ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার চা-পান বিক্রি করতাম। আজ এরই মধ্যে প্রায় ১২০০ টাকার চা-পান বিক্রি করে ফেলেছি।

বিনিয়োগকারী জামাল জানান, দীর্ঘদিন বিনিয়োগকারীদের এমন উপস্থিতি ছিল না। বিনিয়োগকারীদের এতো উপস্থিতি দেখে ভালো লাগছে। আরেক বিনিয়োগকারী সেলিম আহমেদ জানান, উদ্যোক্তা পরিচালকরা রিট করা সত্ত্বেও স্থগিতাদেশ না আসায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফিরে এসেছে। যার কারণে বিনিয়োগকারীদের এ উপস্থিতি। তবে আশা করছি রায় বিনিয়োগকারীদের পক্ষেই আসবে।

তিন কোম্পানির পরিচালককে জরিমানা : এসইসি

সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন দাখিলে ব্যর্থ হওয়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটের তিন কোম্পানির প্রত্যেক পরিচালককে ১ লাখ টাকা করে এবং বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন কোম্পানিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (এসইসি)।

আজ মঙ্গলবার এসইসির ৪২৮ তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ জরিমানার সিদ্ধান্ত গৃহীয় হয়। কমিশনের সভা শেষে এসইসির নির্বাহী পরিচালক মো: সাইফুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতের এ তথ্য জানা গেছে।

ওটিসির তিন কোম্পানি হলো- বস্ত্র খাতের মিতা টেক্সটাইল, চিক টেক্সটাইল এবং এম হোসেন গার্মেন্টস ওয়াসিং অ্যান্ড ডাইং লিমিটেড।

৩০ জুন ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেনদ সময় মতো দাখিলে ব্যর্থ হওয়ায় বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশকে ও ওটিসির তিন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেক পরিচালককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

রিটেন আর্নিং শেয়াবাজারে বিনিয়োগ বাধ্যতামূলক নয়- বিবি

শেয়ারবাজার থেকে বণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং (সংরক্ষিত আয়) হিসেবে রাখা তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে ব্যাংক বাধ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, ভয়াবহ ধসের পূর্বে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আইন ভঙ্গ করে শেয়ারবাজারে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে। এরপর ২০১০ সালে বাজার থেকে বিপুল অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিয়ে বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়। ফলে ধারাবাহিক পতনের মুখে পতিত হয় শেয়ারবাজার।

শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হয়। সেই সঙ্গে শেয়ারবাজার থেকে বাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা তুলে নিয়েছে তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এক পর্যায়ে নানামুখী চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার টাকা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্মেলিতভাবে ৩৪’শ কোটি টাকার ওপর আয় করে। এর মধ্যে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) সাড়ে ২২’শ কোটি টাকার মতো সংরক্ষিত আয় (রিটেন্ আর্নিং) হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয় বলে বিবি সূত্রে জানা গেছে।

বিবি সূত্রমতে, রিটেন্ আর্নিং হচ্ছে মুনাফার সেই অংশ যা ব্যাংক সংরক্ষরিত আয় হিসেবে রাখে। এ অংশ লভ্যাংশ ঘোষণার সময় সমন্বয় করা হয় না। তবে পরবর্তী বছর তুলনামুলক কম মুনাফা হলে ওই অর্থ সমন্বয় করতে পারে। রিটেন্ আর্নিং ব্যাংকের ক্যাপিটালের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে ব্যাংক এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। সে হিসেবে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রেখেছিল তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। তবে কোন খাতে কি পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে তা সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, ২০১০ সালে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে যে মুনাফা করে তা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। রিটেন্ আর্নিং যেহেতু ক্যাপিটালের অংশ সেহেতু ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানান তিনি।

সুধীর চন্দ্র জানান, শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে আছে তা বাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ টাকা শেয়াবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশও দেয়া হয়নি।

তার মতে, শেয়ারবাজার হলো ঝুঁকিপূর্ণ একটি জায়গা। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে না। কারণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়লে তখন তারা এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করবে।

ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ. এম. অবদুল ওয়াদুদ ও চৌধুরী মো. ফিরোজ বিন আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে না। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিক। কিন্তু একটি ব্যাংক কোন খাতে বিনিয়োগ করবে আর কোন খাতে করবে না তা ওই ব্যাংকের উপর নির্ভর করে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ধারা ভঙ্গ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারে।

ডিএসই সূত্রমতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে বাজার থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নেয় এবি ব্যাংক। ব্যাংকটি ওই বছর শেয়ারবাজার থেকে ৪৩২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওপর মুনাফা করে। এছাড়া ৪’শ কোটি টাকার ওপর মুনাফা করে ন্যাশনাল ব্যাংক ও আল-আরাফা ব্যাংক। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ওপরে ও আল-আরাফা ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ওপরে।
২০১০ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা করেছে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো :-

সিএসইর ট্রেন্ডসেটের শেয়ার উধাও, এসইসির তদন্ত কমিটি গঠন

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটিজ হাউস থেকে বিনিয়োগকারীর ১০ লাখ শেয়ার উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা তদন্ত করবে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এ জন্য এসইসি দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আজ মঙ্গলবার এসইসি’র নির্বাহী পরিচালক সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এসইসির পরিচালক মীর মোশারফ হোসেন চৌধুরীর নের্তৃত্বে দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি অপর সদস্য হলো এসইসির উপ-পরিচালক ওহিদুল ইসলাম।

জানা গেছে, সিএসইর অনুমোদিত প্রতিনিধি ট্রেন্ডসেট সিকিউরিটির হাউজের এম কবিরুজ্জামান ইয়াকুব নামের এক বিনিয়োগকারীর বিও একাউন্ট থেকে পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের ১০ লাখ শেয়ার উধাও হয়েছে। ট্রেন্ডসেট হাউজ থেকে কিভাবে এ শেয়ার উধাও হয়েছে তা যাচাইয়ের জন্য এসইসি এ হাউজ পরিদর্শনেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিনিয়োগকারীর বিও হিসাব নম্বর- ১২০২৫৭০০০৪০৩৩২৭৯।

এছাড়া সংশ্লিষ্ট স্টক ডিলার, স্টক ব্রোকার বা অনুমোদিত প্রতিনিধিরা তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করছে কিনা তা যাচাই করবে এসইসি।

স্কয়ার টেক্সটাইল এর ডিভিডেন্ড ঘোষণা

শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত টেক্সটাইল খাতের স্কয়ার টেক্সটাইল শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ২০ শতাংশ স্টক ও ১৬ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে।   ৩১ ডিসেম্বর ২০১১ সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালনা পর্ষদ এ ডিভিডেন্ড ঘোষণা করেছে।

আজ কোম্পানিটির বোর্ড মিটিংএ এসিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

কোম্পানিটি এর আগের অর্থবছরেও শেয়ারহোল্ডারদের ১৬ শতাংশ নগদ ও ২০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড প্রদান করে। ওই সময় কোম্পানিটির শেয়ার প্রতি আয় হয় ৮.৭৯ টাকা।

‘এ’ ক্যাটাগরির এই কোম্পানিটি ২০০২ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। এর ৯৭৪০৫৯৯২টি শেয়ারের মধ্যে ৬১.৩১ শতাংশ পরিচালকদের কাছে, ১৭.১৪ শতাংশ জনগনের কাছে, ৫.৪৯ শতাংশ বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে  আর বাকি  ১৬.০৬ শতাংশ বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে রয়েছে।

আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা

অর্থ পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ব্যক্তিগতভাবে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ।

গত রোববার ৮ এপ্রিল ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে (আইজিপি) সামগ্রীক বিষয় অবহিত করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।

আইজিপিকে দেয়া চিঠিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, একদিকে সরকারী জমি (বিটিসিএল-এর বরাবরে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত) জবরদখলে যোগসাজসী, বানোয়াট ও ভুয়া দলিল (নং- ৯৫৬০ তারিখ ৫/৯/২০১০) তৈরি এবং অন্যদিকে শেয়ার হোল্ডারদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বীমা আইনের আওতায় তদন্ত করে পপুলার লাইফের সংশ্লিষ্ট এমডি ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে ১১৮ কোটি টাকা সুদসহ জমা দেয়ার কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। এরপর হতেই স্বার্থান্বেষী মহল হয়রানি ও নাজেহাল করার জন্য তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালি, বরিশাল ও ঢাকার দারুসসালাম থানায় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা করে।

পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সরকারী জমি জবরদখল এবং শেয়াহোল্ডারদের অর্থ পাচার, অপচয় ও আত্মসাতের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য নূরুল ফারুক অ্যান্ড কোং নামক একটি চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

তদন্তে সরকার অধিগ্রহণকৃত বিটিসিএল’র জমি পপুলার লাইফের এমডি ও পরিচালকরা ভূঁয়া দলিলের মাধ্যমে ক্রয় দেখিয়ে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এজন্য তারা ফজলুল করিমের ভূঁয়া ওয়ারিশ ওসমান গনি ও নাজমা বেগমকে জমির মালিক সাজায়। যার প্রেক্ষিতে আইডিআরএ পপুলারকে গত ৭ মার্চ কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। এর পর থেকেই আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত নাম ঠিকানায় একের পর এক প্রতারনার মামলা করা হয় বলে চিঠিতে দাবি করে শেফাক আহমেদ।

চিঠিতে সংযুক্ত হিসেবে দেয়া মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঝালকাঠি থানায় গত ১২ মার্চ আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করেন জনৈক মো. রাশেদ তালুকদার। মামলার এজাহারে রাশেদ তালুকদার অভিযোগ করেন গ্রীসে পাঠানোর নাম করে শেফাক আহমেদ তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ মার্চ টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অসম্মতি জানান শেফাক আহমেদ।

শেফাক আহমেদর বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা করেন পটুয়াখালি জেলার কালিপুর বাজারের ফারুক হোসেন (৩৩)। এ মামলাটি দায়ের করা হয় গত ১৪ মার্চ। মামলার এজাহারে ওই ব্যাক্তি দাবি করেন, শেফাক আহমেদ আমেরিকা পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন।

এসব মামলার তদন্তাকারি পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানি হওয়ারও অভিযোগ করেন শেফাক আহমেদ। পুলিশের হযরানি সম্পর্কে চিঠিতে শেফাক আহমেদ দাবি করেন, তদন্তকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় দেয়ার পরও অফিসে না গিয়ে গুলশানে তার নিজস্ব বাসায় গিয়ে তারা অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। এছাড়া বাড়ির দারোয়ান ও কেয়ারটেকারের সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেছেন তারা।

এর মধ্যে গুলশান থানার এসআই পরিচয়ে ওবায়দুর রহমান (মোবাইল নাম্বার ০১৭১৮৮৬০০৯৭) তিন চার বার তার বাসায় যান। গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার এসআই ওবায়দুর রহমান সন্ধা ৬-৪৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার বাসায় অবস্থান করে। এ সময় ওবায়ুৃর রহমান উচ্চস্বরে কথা বলে ও অসৌজন্যমুল আচরণ করে লোকজন জড়ো করেন। এ বিষয়ে গুলশান থানার এডিসি নিজাম উদ্দিনকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। হয়রানি করা অন্যন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে রযেছে, গুলশান থানার এসআই মাহবুব ( মোবাইল নাম্বার-০১৭১৮৭৬২৬৯৯ এসআই কামাল, মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৯১৫৪৯২ ও এসআই শহিদুল মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৯২৩৭৬০।

মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলসহ এজাহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শেফাক আহমেদ  আইজিপিকে দেয়া চিঠিতে অনুরোধ করেন। এছাড়া তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়া ও কোন তথ্যের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অফিস চলাকালীন সময়ে মতিঝিলের আইডিআরএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেয়ার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করেন।

এ ব্যাপারে পপুলার লাইফের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেন নি।