বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর, ২০১১

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে প্রণোদনা চায় ব্যাংকগুলো

বিদেশি বিনিয়োগ আনতে ভূমিকা রাখতে আগ্রহী এবিবি

নগদ অর্থের সংকট সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বলে দাবি করেছেন ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহীরা। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ওই বিনিয়োগ কম স্বীকার করে তাঁরা এর পরিমাণ বাড়াতে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে শেয়ারে বিনিয়োগসীমা নির্ধারণ, বিধিবদ্ধ নগদ জমা কমানো ও মুনাফার ওপর কর কমানোসহ বেশ কিছু প্রণোদনা দাবি করেন। শেয়ারবাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সক্রিয় ভূমিকা রাখার ঘোষণাও দেন তাঁরা।
সুযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে না_এমন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) সভাপতি কে মাহমুদ সাত্তার। বাণিজ্যিক ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় নির্বাহী কর্মকর্তাদের এ সংগঠনের নেতারা এর আগে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বাড়াতে তাঁদের প্রস্তাবনা পেশ করেন।
অব্যাহত দরপতনে শেয়ারবাজারে দৈনিক লেনদেন নেমে এসেছে ৩০০ কোটি টাকার নিচে। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি তালিকাভুক্ত ৩০টি ব্যাংক গড়ে পাঁচ কোটি টাকা করেও শেয়ারে বিনিয়োগ করত, তাহলে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ ১৫০ কোটি টাকা বাড়ত। এ ছাড়া ৪২টি বীমা, ১৯টি আর্থিক ও ৩০টি বিনিয়োগ কম্পানিরও দিনে অন্তত ১৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগের সক্ষমতা রয়েছে।
অবশ্য গতকাল সংবাদ সম্মেলনে মাহমুদ সাত্তার বলেন, নগদ অর্থের সংকটের কারণে অধিকাংশ ব্যাংকের পক্ষেই কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় শেয়ার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তার পরও সাধ্যমতো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। আগে কেনা শেয়ারে লোকসানে থাকলেও বর্তমানে বাজার থেকে শেয়ার কেনা অব্যাহত রেখেছে ব্যাংকগুলো। এর বিপরীতে আপাতত কোনো শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে না। এবিবি সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। তবে পরিমাণে তা কম। কোনো কোনো ব্যাংক কলমানি মার্কেট থেকে ১৮ থেকে ২০ শতাংশ সুদে টাকা নিয়েও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করছে। এ অবস্থায় বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাজারে বিদ্যমান পরিস্থিতির কারণে প্রবাসী বাংলাদেশিরা বিনিয়োগে অনীহা প্রকাশ করছেন। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রতিটি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এবিবির সদস্য ৩০টি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীরা এসইসিকে জানান, বর্তমান বাজার বিনিয়োগের অনুকূল। ভালো কম্পানির শেয়ারের দর যেখানে নেমেছে, তাতে বিনিয়োগ করলে মুনাফা করা সম্ভব। বর্তমানে ব্যাংকগুলো বাজারে ক্রেতার ভূমিকায় রয়েছে এবং বিক্রি একেবারেই বন্ধ রেখেছে। ব্যাংকগুলোর সদিচ্ছা ও সর্বোচ্চ চেষ্টা রয়েছে।
কে মাহমুদ সাত্তার আরো বলেন, ব্যাংকে তারল্য সংকট রয়েছে। বর্তমানে কলমানি মার্কেটে সুদের হারও অনেক বেশি। তাই এ অবস্থায় তারল্য সংকট কাটাতে এসইসির কাছে কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে কিছু প্রণোদনা দেওয়ারও সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে মুনাফার ওপর কর ছাড় দেওয়া হলে ব্যাংকগুলো বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবে। পাশাপাশি ব্যাংকের বিনিয়োগসীমা হিসাবের ক্ষেত্রে বাজারমূল্যের পরিবর্তে ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে অথবা 'নেট অফ'-এর সুযোগ দেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।
এবিবি সভাপতি বলেন, শেয়ারবাজারে অর্থপ্রবাহ বাড়াতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে কিছু সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হলে তাঁরা বিনিয়োগে আকৃষ্ট হবেন। এ ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা থাকলে তা দূর করার বিষয়েও এসইসিকে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে বাজারে নতুন অর্থ আসবে। প্রতিটি ব্যাংকেরই নিজস্ব কিছু যোগাযোগ রয়েছে। এসইসি ও কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশ্বাস দিলে এ বিষয়ে তারা পদক্ষেপ নিতে পারবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকের তারল্য সংকট দূর করা এবং শেয়ারবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবিবির পক্ষ থেকে সিআরআর (ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও) ও এসএলআর (স্ট্যাটুটরি লিকুইডিটি রেশিও) কমানোসহ বেশ কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে এসইসি চেয়ারম্যান বাংলাদেশ ব্যাংক ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। শেয়ারবাজারে ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে বৈঠকে নীতিগতভাবে ঐকমত্য সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গতকাল সন্ধ্যার বৈঠকে এসইসি চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন এ বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন বলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে।