উদ্যোক্তা পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে বিষয়ে আদালতে রিটের পর রুল জারি করেছে আদালত। এ বিষয়ে অতিসত্তর আদালতের রুলের জবাব দেয়া হবে বলে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ডিএসই ও সিএসইর এক বৈঠকে রিটের জবাবের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আজ বুধবার বিকেলে ডিএসই ও সিএসইর পক্ষ থেকে এক যৌথ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানানো হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সভাপতি রকিবুর রহমান বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত দিয়ে রিটের জবাব দেয়া হবে। তিনি বলেন, গত ২২ নভেম্বর এসইসি পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ ও একক ভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে জন্য প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা জাতি ও বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত আলোচনা জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল ডিএসইতে বৈঠক করা হবে। তিনি বলেন, এসইসির ওই নির্দেশনা জারির পর থেকে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে থাকে। তাই এসইসির এ নির্দেশনা যাতে বহাল থাকে সেজন্য এ পক্ষে সকল যুক্তি তুলে ধারা হবে।
সিএসইর প্রেসিডেন্ট আল মারুফ খান বলেন, গত রোববারের আদালতের রিটের ব্যাপারে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। রিটের জবাবের বিষয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আদালতে তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে আরো আলোচনার জন্য আগামী ১৬ এপ্রিল সিএসইতে বৈঠক করা হবে। সেখানে আইন বিশেষজ্ঞের সহায়তায় কিভাবে রিটের জবাব সঠিক ভাবে দেয়া যায় সে বিষয়েও ওই বৈঠকের আলোচনা হবে বলে তিনি জানান।
এ ছাড়া আজকের যৌথ সভায় করপোরেট গভর্নেন্স শক্তিশালীকরণ, কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের ভূমিকা, লেনদেনের সময় কমিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
উল্লেখ্য, গত রোববার পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানিগুলোর উদ্যোক্তা পরিচালকদের এককভাবে ২ শতাংশ শেয়ার ধারণের বিষয়ে এসইসি যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে হাইকোর্ট রুল জারি করেছে। রিটে বলা হয়, পরিচালক পদে থাকার জন্য এসইসি এভাবে শেয়ার থাকার শর্ত জুড়ে দিতে পারেন না। কে পরিচালক থাকবে, আর কে থাকবে না, তা নির্ধারিত হয় কোম্পানি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী। সেখানে এ ধরণের কোন কথা বলা নাই। তাই এটা আইনসম্মত নয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও জনস্বার্থে কাউকে পরিচালক পদ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে। তাই এসইসির প্রক্রিয়াটি অবৈধ।
ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের পরিচালক শেখ আব্দুল মোমিন এ সংক্রান্ত এক আবেদন করলে বিচারপতি ফরিদ আহমেগদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ গত রোববার প্রাথমিক শুনানী শেষে এ রুল জারি করেন।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন ও ব্যারিস্টার ফিদা কামাল এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।
এতে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ডিএসই ও সিএসইকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
গত ২২ নভেম্বর এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ওই কোম্পানির ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করতে পারলে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।
বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২
ডিএসই ও সিএসইর বৈঠকে সিদ্ধান্ত অতিসত্বর রিটের জবাব দেয়া হবে
Posted by Ultra News Update on ১০:৫৯ AM