অর্থ পাচার ও আত্মসাতের অভিযোগে শেয়ারবাজারের তালিকাভুক্ত কোম্পানি পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ায় ব্যক্তিগতভাবে হয়রানিমূলক মামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান এম শেফাক আহমেদ।
গত রোববার ৮ এপ্রিল ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে (আইজিপি) সামগ্রীক বিষয় অবহিত করে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি এ অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে।
আইজিপিকে দেয়া চিঠিতে আইডিআরএ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন, একদিকে সরকারী জমি (বিটিসিএল-এর বরাবরে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণকৃত) জবরদখলে যোগসাজসী, বানোয়াট ও ভুয়া দলিল (নং- ৯৫৬০ তারিখ ৫/৯/২০১০) তৈরি এবং অন্যদিকে শেয়ার হোল্ডারদের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বীমা আইনের আওতায় তদন্ত করে পপুলার লাইফের সংশ্লিষ্ট এমডি ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হিসেবে ১১৮ কোটি টাকা সুদসহ জমা দেয়ার কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। এরপর হতেই স্বার্থান্বেষী মহল হয়রানি ও নাজেহাল করার জন্য তার বিরুদ্ধে ঝালকাঠি, বরগুনা, ভোলা, পটুয়াখালি, বরিশাল ও ঢাকার দারুসসালাম থানায় মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা করে।
পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্সের সরকারী জমি জবরদখল এবং শেয়াহোল্ডারদের অর্থ পাচার, অপচয় ও আত্মসাতের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য নূরুল ফারুক অ্যান্ড কোং নামক একটি চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট ফার্মকে দায়িত্ব দেয়া হয় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তদন্তে সরকার অধিগ্রহণকৃত বিটিসিএল’র জমি পপুলার লাইফের এমডি ও পরিচালকরা ভূঁয়া দলিলের মাধ্যমে ক্রয় দেখিয়ে ১১৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এজন্য তারা ফজলুল করিমের ভূঁয়া ওয়ারিশ ওসমান গনি ও নাজমা বেগমকে জমির মালিক সাজায়। যার প্রেক্ষিতে আইডিআরএ পপুলারকে গত ৭ মার্চ কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। এর পর থেকেই আইডিআরএ চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত নাম ঠিকানায় একের পর এক প্রতারনার মামলা করা হয় বলে চিঠিতে দাবি করে শেফাক আহমেদ।
চিঠিতে সংযুক্ত হিসেবে দেয়া মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ঝালকাঠি থানায় গত ১২ মার্চ আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা করেন জনৈক মো. রাশেদ তালুকদার। মামলার এজাহারে রাশেদ তালুকদার অভিযোগ করেন গ্রীসে পাঠানোর নাম করে শেফাক আহমেদ তার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৯ মার্চ টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অসম্মতি জানান শেফাক আহমেদ।
শেফাক আহমেদর বিরুদ্ধে অপর একটি মামলা করেন পটুয়াখালি জেলার কালিপুর বাজারের ফারুক হোসেন (৩৩)। এ মামলাটি দায়ের করা হয় গত ১৪ মার্চ। মামলার এজাহারে ওই ব্যাক্তি দাবি করেন, শেফাক আহমেদ আমেরিকা পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছেন।
এসব মামলার তদন্তাকারি পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে হয়রানি হওয়ারও অভিযোগ করেন শেফাক আহমেদ। পুলিশের হযরানি সম্পর্কে চিঠিতে শেফাক আহমেদ দাবি করেন, তদন্তকারি কর্মকর্তাদের পরিচয় দেয়ার পরও অফিসে না গিয়ে গুলশানে তার নিজস্ব বাসায় গিয়ে তারা অসৌজন্যমুলক আচরণ করেন। এছাড়া বাড়ির দারোয়ান ও কেয়ারটেকারের সঙ্গে দূর্ব্যবহার করেছেন তারা।
এর মধ্যে গুলশান থানার এসআই পরিচয়ে ওবায়দুর রহমান (মোবাইল নাম্বার ০১৭১৮৮৬০০৯৭) তিন চার বার তার বাসায় যান। গত ৬ এপ্রিল শুক্রবার এসআই ওবায়দুর রহমান সন্ধা ৬-৪৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তার বাসায় অবস্থান করে। এ সময় ওবায়ুৃর রহমান উচ্চস্বরে কথা বলে ও অসৌজন্যমুল আচরণ করে লোকজন জড়ো করেন। এ বিষয়ে গুলশান থানার এডিসি নিজাম উদ্দিনকে জানানো হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয় চিঠিতে। হয়রানি করা অন্যন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মধ্যে রযেছে, গুলশান থানার এসআই মাহবুব ( মোবাইল নাম্বার-০১৭১৮৭৬২৬৯৯ এসআই কামাল, মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৯১৫৪৯২ ও এসআই শহিদুল মোবাইল নাম্বার ০১৭১৬৯২৩৭৬০।
মামলার চুড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলসহ এজাহারকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য শেফাক আহমেদ আইজিপিকে দেয়া চিঠিতে অনুরোধ করেন। এছাড়া তার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা দেয়া ও কোন তথ্যের জন্য মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাদের অফিস চলাকালীন সময়ে মতিঝিলের আইডিআরএ কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে নির্দেশ দেয়ার জন্য আইজিপিকে অনুরোধ করেন।
এ ব্যাপারে পপুলার লাইফের চেয়ারম্যান,ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন ধরেন নি।
মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২
আইডিআরএ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা
Posted by Ultra News Update on ৮:৩৭ AM


