আবারো পুঁজিবাজারে সক্রিয় হয়ে উঠছেন সব শ্রেণীর বিনিয়োগকারীরা। এর ফলে বাজারে তারল্য প্রবাহ বাড়তে শুরু করেছে। ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ। সব মিলিয়ে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে স্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আস্থা সঙ্কট কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ অব্যাহত রাখলে বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা সম্ভব হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের তৎপরতা বাড়লে বাজারে চাঙ্গাভাব ফিরে আসবে। এতে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হয়ে লেনদেনে সক্রিয় হবেন।
সামগ্রিকভাবে হতাশা কাটিয়ে নতুন আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। দীর্ঘ বিপর্যয়ের রেশ না কাটলেও শেয়ারের বর্তমান দর বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হওয়ায় এখান থেকেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশা করছেন তারা। বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারের দিক থেকে প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ এবং উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময় শেষ হয়ে আসায় বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন তারা।
জানা গেছে, দীর্ঘ বিপর্যয়ের মধ্য দিয়ে অধিকাংশ শেয়ারের দর ক্রয়যোগ্য অবস্থানে নেমে আসায় গত মার্চ মাস থেকেই প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হতে শুরু করে। সেই সঙ্গে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ শুরু করে। বিশ্বের নামী-দামী বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ ফান্ড বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে সক্রিয় রয়েছে। সেইসঙ্গে স্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান, মিউচ্যুয়াল ফান্ডসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরাও বাজারে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। বাজারের সামগ্রিক লেনদেনেও এর ইতিবাচক প্রতিফলন দেখা গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের এই তৎপরতা অব্যাহত থাকলে দীর্ঘ মন্দা কাটিয়ে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর আগে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপে তেমন কোনো কাজ না হলেও ডিএসইর নেতৃত্বে পরিবর্তন আসার পর বাজারের ভবিষ্যত সম্পর্কে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, সরকার ইতিমধ্যে বাজারের জন্য যেসব সুবিধা ঘোষণা করেছে ডিএসইর বর্তমান নেতারা সেগুলো কার্যকর করতে পারবেন। পাশাপাশি বাজারের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের উপরও প্রভাব রাখতে পারবেন। এর ফলে বাজারে বড় কোনো পতন হবে না। গত রোববার উদ্যোক্তা-পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণ নিয়ে উচ্চ আদালতে রিটের পর এসইসি ও ডিএসইর উদ্যোগে সামগ্রিক পরিস্থিতি সামাল দিতে সফল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে আরো বেশি আশাবাদী হয়ে উঠেছে।
বিভিন্ন ব্রোকারেজ হাউজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আগের লোকসান পুষিয়ে নিতে অনেক ব্যক্তি বিনিয়োগকারী নতুনভাবে বিনিয়োগ করছেন। পাশাপাশি শেয়ারের দর বৃদ্ধির ফলে অনেক বিনিয়োগকারীর মার্জিন ঋণ নেয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ধিত ক্রয়ক্ষমতা ব্যবহার করে তারা শেয়ার কিনলে সামগ্রিকভাবে বাজার চাঙ্গা হয়ে উঠবে।
বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২
সক্রিয় হচ্ছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারীরা
Posted by Ultra News Update on ১১:০০ AM