মঙ্গলবার, ১০ এপ্রিল, ২০১২

জোরদার হচ্ছে সরকারি শেয়ার ছাড়ার কাজ

প্রায় এক মাস ধরে পুঁজিবাজারে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকায় চাহিদার সঙ্গে যোগানের সমন্বয় রক্ষার জন্য জোরদার করা হচ্ছে সরকারি কোম্পানিগুলোর তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া। এখন থেকে নিয়মিতভাবে পর্যায়ক্রমে ২৫টি সরকারি কোম্পানির আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির জন্য সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) আবেদন জমা দিয়েছে এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমেটেড ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ। চলতি মাসেই এ দু’টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার অনুমোদন দেয়া হতে পারে। এছাড়া বাকি ২১টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে, শেয়ারবাজারে আসার জন্য প্রতিটি কোম্পানিরই প্রস্তুতি কাজ চলছে। এর মধ্যে কোনো কোনোটির আইপিও আবেদন জমা দেয়ার জন্য বিবরণী (প্রসপেক্টাস) তৈরি করা হচ্ছে। বাকিগুলোর হিসাব নিরীক্ষা, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন, ক্রেডিট রেটিংসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রস্তুতি চলছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই আইপিওর মাধ্যমে বাজারে আসবে। তবে কিছু কিছু কোম্পানি শেয়ারবাজারে সরাসরি তালিকাভুক্ত হবে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক সঙ্গে অনেকগুলো কোম্পানির শেয়ার চলে এলে শেয়ারবাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে চাহিদার সঙ্গে যোগানের সামঞ্জস্য রক্ষার বিষয়টি মাথায় রেখেই একটির পর একটি কোম্পানির শেয়ার ছাড়া হবে। প্রতিটি কোম্পানির কর্মকর্তারাই শেয়ার ছাড়ার জন্য আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তবে এ কাজে আগে থেকে সংশ্লিষ্ট না কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, শেয়ার ছাড়ার জন্য নির্ধারিত সরকারি কোম্পানিগুলোর প্রতিটিই অত্যন্ত শক্তিশালী আর্থিক ভিত্তি সম্পন্ন। এসব কোম্পানির সম্পদের পরিমানও অনেক। ফলে বিনিয়োগকারীরা এসব শেয়ার কিনলে ভালো ফল পাবেন। সরকারি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হলে পুঁজিবাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

জানা গেছে, নির্ধারিত ২৫টি সরকারি কোম্পানির মধ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) আগে থেকেই শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত। গত নভেম্বরে আইপিওর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির আরও ৬২ লাখ ৭৪ হাজার শেয়ার ছাড়া হয়েছে। সাবমেরিন ক্যাবলস ৩ কোটি ১০ লাখ শেয়ার বরাদ্দের জন্য আইপিও আবেদন জমা নিয়েছে। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি ও প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের আইপিও আবেদন এসইসির বিবেচনাধীন রয়েছে। বাকি ২১টি কোম্পানির শেয়ার ছাড়ার প্রস্তুতি চলছে। কোম্পানিগুলো হলো টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল), লিক্যুইফাইড পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) লিমিটেড, চিটাগং ড্রাইডক, বাংলাদেশ সার্ভিসেস, টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস), বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেমস, রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমস লিমিটেড, পঞ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি, সিলেট গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কোম্পানি, হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল (সোনারগাঁও হোটেল), বাংলাদেশ ইনস্যুলেটর অ্যান্ড স্যানেটারিওয়ার ফ্যাক্টরি লিমিটেড, ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি, কর্ণফুলী পেপার মিলস, জিইএমকো, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি লিমিটেড এবং বাংলাদেশ ক্যাবলস শিল্প লিমিটেড।