শেয়ারবাজার থেকে বণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং (সংরক্ষিত আয়) হিসেবে রাখা তা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে ব্যাংক বাধ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্রমতে, ভয়াবহ ধসের পূর্বে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আইন ভঙ্গ করে শেয়ারবাজারে বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করে। এরপর ২০১০ সালে বাজার থেকে বিপুল অংকের মুনাফা হাতিয়ে নিয়ে বাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ন হয়। ফলে ধারাবাহিক পতনের মুখে পতিত হয় শেয়ারবাজার।
শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হয়। সেই সঙ্গে শেয়ারবাজার থেকে বাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা তুলে নিয়েছে তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এক পর্যায়ে নানামুখী চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার টাকা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্মেলিতভাবে ৩৪’শ কোটি টাকার ওপর আয় করে। এর মধ্যে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) সাড়ে ২২’শ কোটি টাকার মতো সংরক্ষিত আয় (রিটেন্ আর্নিং) হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয় বলে বিবি সূত্রে জানা গেছে।
বিবি সূত্রমতে, রিটেন্ আর্নিং হচ্ছে মুনাফার সেই অংশ যা ব্যাংক সংরক্ষরিত আয় হিসেবে রাখে। এ অংশ লভ্যাংশ ঘোষণার সময় সমন্বয় করা হয় না। তবে পরবর্তী বছর তুলনামুলক কম মুনাফা হলে ওই অর্থ সমন্বয় করতে পারে। রিটেন্ আর্নিং ব্যাংকের ক্যাপিটালের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে ব্যাংক এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। সে হিসেবে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রেখেছিল তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। তবে কোন খাতে কি পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে তা সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, ২০১০ সালে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে যে মুনাফা করে তা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। রিটেন্ আর্নিং যেহেতু ক্যাপিটালের অংশ সেহেতু ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানান তিনি।
সুধীর চন্দ্র জানান, শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে আছে তা বাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ টাকা শেয়াবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশও দেয়া হয়নি।
তার মতে, শেয়ারবাজার হলো ঝুঁকিপূর্ণ একটি জায়গা। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে না। কারণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়লে তখন তারা এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করবে।
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ. এম. অবদুল ওয়াদুদ ও চৌধুরী মো. ফিরোজ বিন আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে না। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিক। কিন্তু একটি ব্যাংক কোন খাতে বিনিয়োগ করবে আর কোন খাতে করবে না তা ওই ব্যাংকের উপর নির্ভর করে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ধারা ভঙ্গ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারে।
ডিএসই সূত্রমতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে বাজার থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নেয় এবি ব্যাংক। ব্যাংকটি ওই বছর শেয়ারবাজার থেকে ৪৩২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওপর মুনাফা করে। এছাড়া ৪’শ কোটি টাকার ওপর মুনাফা করে ন্যাশনাল ব্যাংক ও আল-আরাফা ব্যাংক। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ওপরে ও আল-আরাফা ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ওপরে।
২০১০ সালে শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা করেছে তার তালিকা নিচে দেওয়া হলো :-শেয়ারবাজারের ধারাবাহিক পতনের জন্য বিভিন্ন পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হয়। সেই সঙ্গে শেয়ারবাজার থেকে বাংকগুলো যে পরিমাণ মুনাফা তুলে নিয়েছে তা ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। এক পর্যায়ে নানামুখী চাপে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার টাকা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্মেলিতভাবে ৩৪’শ কোটি টাকার ওপর আয় করে। এর মধ্যে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি) সাড়ে ২২’শ কোটি টাকার মতো সংরক্ষিত আয় (রিটেন্ আর্নিং) হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয় বলে বিবি সূত্রে জানা গেছে।
বিবি সূত্রমতে, রিটেন্ আর্নিং হচ্ছে মুনাফার সেই অংশ যা ব্যাংক সংরক্ষরিত আয় হিসেবে রাখে। এ অংশ লভ্যাংশ ঘোষণার সময় সমন্বয় করা হয় না। তবে পরবর্তী বছর তুলনামুলক কম মুনাফা হলে ওই অর্থ সমন্বয় করতে পারে। রিটেন্ আর্নিং ব্যাংকের ক্যাপিটালের একটি অংশ হিসেবে গণ্য হয়। এ টাকা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে ব্যাংক এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। সে হিসেবে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রেখেছিল তা ইতিমধ্যে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করেছে। তবে কোন খাতে কি পরিমাণ বিনিয়োগ করা হয়েছে তা সূত্রটি নিশ্চিত করতে পারেনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সুধীর চন্দ্র দাস শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, ২০১০ সালে ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজার থেকে যে মুনাফা করে তা রিটেন্ আর্নিং হিসেবে রাখার নির্দেশ দেয়া হয়। রিটেন্ আর্নিং যেহেতু ক্যাপিটালের অংশ সেহেতু ব্যাংকগুলো বিনিয়োগ যোগ্য যে কোনো খাতে এ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে বলে জানান তিনি।
সুধীর চন্দ্র জানান, শেয়ারবাজার থেকে ব্যাংকগুলোর অর্জিত মুনাফার যে অংশ রিটেন্ আর্নিং হিসেবে আছে তা বাংকগুলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করতে বাধ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ টাকা শেয়াবাজারে বিনিয়োগের জন্য নির্দেশও দেয়া হয়নি।
তার মতে, শেয়ারবাজার হলো ঝুঁকিপূর্ণ একটি জায়গা। সে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক এ খাতে বিনিয়োগের জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দিতে পারে না। কারণ শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ব্যাংকগুলো ক্ষতির মুখে পড়লে তখন তারা এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করবে।
ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক এ. এম. অবদুল ওয়াদুদ ও চৌধুরী মো. ফিরোজ বিন আলম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংককে কোনো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বিনিয়োগের নির্দেশ দিতে পারে না। তাদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে ঠিক। কিন্তু একটি ব্যাংক কোন খাতে বিনিয়োগ করবে আর কোন খাতে করবে না তা ওই ব্যাংকের উপর নির্ভর করে। তবে এ ক্ষেত্রে আইনের কোনো ধারা ভঙ্গ হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সে হিসেবে ব্যবস্থা নিতে পারে।
ডিএসই সূত্রমতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে ২০১০ সালে বাজার থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নেয় এবি ব্যাংক। ব্যাংকটি ওই বছর শেয়ারবাজার থেকে ৪৩২ কোটি ৬৩ লাখ টাকার ওপর মুনাফা করে। এছাড়া ৪’শ কোটি টাকার ওপর মুনাফা করে ন্যাশনাল ব্যাংক ও আল-আরাফা ব্যাংক। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ওপরে ও আল-আরাফা ব্যাংক মুনাফা করে ৪১৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকার ওপরে।