ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের চূড়ান্ত তালিকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) জমা দেবে বিশেষ স্কিম কমিটি। তবে তালিকা জমা দেয়ার শেষ সময় আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার স্কিম কমিটির এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) সম্মেলন কক্ষে বিশেষ স্কিম প্রণয়ন কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে কমিটির আহ্বায়ক আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামান সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ফায়েকুজ্জামান বলেন, গত ১ এপ্রিল ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল। এ সময়ের মধ্যে সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ তথ্য জমা দিতে না পাড়ায় গত ২ এপ্রিল ১৫ দিন সময় বাড়ানো হয়েছিলো। এ পনের দিন সময়ের মধ্যেই প্রায় সব মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজ কমিটির কাছে তথ্য সরবরাহ করেছে। তাদের দেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে এসইসিতে জমা দেয়া হবে। তবে এ সময় থাকবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা আইপিওতে কোটা বরাদ্দ পেতে চাইলে কেবল সংশ্লিষ্ট কোটায় আবেদন করতে হবে। কোনো বিনিয়োগকারী একই সঙ্গে সাধারণ ও কোটায় আবেদন করতে পারবেন না বলে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ফায়েকুজ্জামান আরো বলেন, কতিপয় হাউজ থেকে পরিপূর্ণ তথ্য আসেনি। আগামী ৭ দিনের মধ্যে যদি বাকি তথ্যগুলো আসে তবে সেগুলো যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকায় সংযোজন করা হবে।
এর আগে স্কিম কমিটি একাধিকবার ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য চায় মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউসগুলোর কাছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও সূত্র জানায়।
এর আগের গত ১৯ মার্চ বিশেষ স্কিম কমিটির প্রধান মো. ফায়েকুজ্জামানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে ১ এপ্রিলের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীর তালিকা প্রণয়নের হিসাব দিতে বলা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের তালিকা প্রণয়নের জন্য এ-১ ও বি-১ দুইটি ফরম পাঠানো হয়। এতে মার্জিন ঋণ নেয়া বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-১ ও নন মার্জিন বিনিয়োগকারীদের হিসাব চিহ্নিত করার জন্য ফরম এ-২ বিতরণ করা হয়। এ দু’ধরনের বিনিয়োগকারী চিহ্নিত করে চূড়ান্ত হিসাব করার জন্য আরেকটি ফরম এ-২ ও বি-২ পূরণ করতে বলা হয়।
১৯ মার্চ এ চিঠি দুই স্টক এক্সচেঞ্জ, মার্চেন্ট ব্যাংকার্স এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানি এসোসিয়েশনের কাছে পাঠানো হয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর এসইসির চেয়ারম্যান পুঁজিবাজারের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। এর আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিশেষ স্কিম প্রণয়নের ঘোষণা দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৪ মার্চ ১০ লাখ টাকার নিচে শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের ৫০ শতাংশ সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। পাশাপাশি আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্তদের ২০ শতাংশ কোটা বরাদ্দেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মঙ্গলবার, ১৭ এপ্রিল, ২০১২
৭ দিনের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা জমা দেবে স্কিম কমিটি
Posted by Ultra News Update on ১২:০৪ PM