পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন জানানো এ্যাপালো ইস্পাত কমপ্লেসের প্রাথমিক গণ-প্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন নামঞ্জুর করেছে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। সম্প্রতি এসইসি’র ৪২৫তম নিয়মিত কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
কমিশন সভা সূত্রে আরো জানা যায়, এ্যাপালো ইস্পাত কমপ্লেস আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ লক্ষ্যে একটি নথি এসইসি’র এনফোর্সমেন্ট বিভাগে প্রেরনের লক্ষ্যে ক্যাপিটাল ইস্যু বিভাগকে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
এসইসি কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে এ্যাপোলো ইস্পাতের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর গত ২৯ মার্চ একটি চিঠি পাঠায় এসইসি। এসইসি’র পরিচালক আবুল কালাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আইপিও আবেদন নামঞ্জুর করার কারণ সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে, এপালো ইস্পাতের জমা দেয়া প্রসপেক্টাস অনুসারে পাবলিক ইস্যু রলস ২০০৬, ১৮ এর ৫ ধারা বলে ১৪.৯১১৫ একর জমির কাগজ পত্র দাখিল করেছেন। ওই জমির মধ্যে ০.১৮ একর জমি অগ্রীম ক্রয় করা হয়েছে এবং ১১.৩২ একর জমির ভাড়া কোম্পানি পাচ্ছে হিসেবে দেখানো হয়েছে। কিন্তু এছাড়াও যে অন্যান্য জমির পরিমান কতো তা প্রসপেক্টাসে দেখানো হয়নি। এছাড়া .৯৯৪০ একর এবং ০.৫৪৭৫ একর মোট ১.৫৪১৫ একর জমির মালিক যথাক্রমে এ্যাপোলো পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি এবং মো. আনসার আলী এ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স। এ জমি ১৪.৭৩১৫ একর (১৪.৯১১৫ একর থেকে ০.১৮ একর বাদ দিয়ে) এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ অন্যের জমি যা প্রসপেক্টাসে এ্যাপোলো ইস্পাতের নামে দেখানো হয়েছে।
এছাড়া দাখিলকৃত প্রসপেক্টাস থেকে দেখা গেছে, ১৪.৭৩১৫ একর জমিকে পুন:মূল্যায়ন করে ১৫৭ কোটি ২৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা (প্রায়) ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে। জমির মূল্যায়নকারী সংস্থার নাম- মাশিস মুহিত হক এন্ড কোম্পানি চাটার্ড এ্যাকাউনটেন্ট।
দেখা যাচ্ছে, ওই জমি পুন:মূল্যায়নের পর ১২৫ কোটি বেশি দেখানো হয়েছে এবং ৩০ জুন ২০১১ সালের সমাপ্ত আর্থিক প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনটি অডিট করেছে জোহা জামান কবির রশিদ এন্ড কোম্পানি চাটার্ড এ্যাকাউনটেন্ট। ১৪.৭৩৪৫ একর জমির পুন:মূল্যায়নের বিষয়টি অডিটকৃত প্রতিষ্ঠান এ্যাপোলো ইস্পাতের আর্থিক প্রতিবেদনে ভূমি ও ভূমি উন্নয়নমূলক কাজ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যদিও জমিটি এ্যাপোলো ইস্পাতের নয়।
যার প্রেক্ষিতে কোম্পানির সম্পদ অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। ফলে আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটির সত্য ও স্বচ্ছ আবস্থা তুলে ধরা হয়নি। একই সঙ্গে কোম্পানিটির সাধারণ কার্যপ্রনালী ও নগদ আয় অর্জন করার ক্ষমতাকে অতিমূল্যায়িত করে দেখানো হয়েছে। এমনকি বিষয়গুলো প্রসপেক্টাস ও আর্থিক প্রতিবেদনে গোপন রাখা হয়েছে।
যা থেকে প্রতিয়মান হয় যে, এ্যাপোলো ইস্পাত ইচ্ছাকৃত ভাবে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার লক্ষ্যে ভুল তথ্য উপাত্ত দাখিল করেছে কমিশনের কাছে। ফলে এপালো ইস্পাত কমপ্লেস আইপিও আবেদনে অসত্য তথ্য প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট অডিটর, মূল্য নিরূপক (ভ্যালুয়ার), ইস্যুয়ার ও ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা উচিত বলে মনে করছে কমিশন। কোম্পানিটির ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে আইসিবি ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।
বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২
এ্যাপোলো ইস্পাতের আইপিও আবেদন নামঞ্জুর অডিটর-ইস্যু ম্যানেজারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে এসইসি
Posted by Ultra News Update on ১০:৫৭ AM