উদ্যোক্তা পরিচালকদের পক্ষে একজন উদ্যেক্তা পরিচালক গতকাল সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন। রিটকারী তার আবেদনে উদ্যোক্তা শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ (এসইসি) এর প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করার আবেদন করেন এবং প্রজ্ঞাপনটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতার উপর নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানান। বিজ্ঞ আদালত রিট আবেদনকারীর আবেদন আমলে না নিয়ে আদালতের স্বাভাবিক প্রথা অনুযায়ী কেবল ‘কারণ দর্শানো’ নোটিশ জারী করেছেন।
রিটকারী তার আবেদনে উদ্যেক্তা শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত এসইসি’র প্রজ্ঞাপনটি বাতিলের আবেদন করেছিলেন এবং প্রজ্ঞাপনটি বাতিল না হওয়া পর্যন্ত এর কার্যকারিতার উপর স্থগিতাদেশ প্রার্থনা করেছিলেন। কিন্তু বিজ্ঞ আদালত রিট আবেদনকারী উদ্যোক্তা পরিচালকের কোন আবেদনেই সাড়া দেননি । এসইসি’র প্রজ্ঞাপনটিও বাতিল করেননি কিংবা প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতাও স্থগিত করেননি। বিজ্ঞ আদালত পক্ষান্তরে লাখ লাখ নিঃস্ব বিনিয়োগকারীদের প্রাণের দাবীকেই সমর্থন করেছেন। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তাই আজ স্বস্তির নিঃশ্বাস দেখা দিয়েছে। তারা বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশানাকে যথার্থ ও সুবিচারের প্রকৃষ্ট উদাহরণ বলে এর প্রশংসা করছে।
এদিকে উদ্যোক্তা পরিচালকের করা রিট আবেদনটি বিজ্ঞ আদালতের গুরুত্ব না পাওয়ায় উদ্যোক্তা পরিচালকদের মধ্যে এখন শংকা তৈরী হচ্ছে। উদ্যোক্তা পরিচালকদের আকাশে এখন কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিয়েছে। তারা বড় আশায় ছিলেন, এসইসি’র প্রজ্ঞাপনটি হয়তো বাতিল হবে কিংবা এর কার্যকারিতা স্থগিত হবে। দু’টির একটি অন্তত পাওয়া যাবেই যাবে। কিন্তু কোনটিই হয়নি। ফলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর পরিচালক থাকতে চাইলে তাদেরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদেরকে প্রয়োজনীয় শেয়ার কিনতেই হবে। কারণ তারাও জানেন, মূল মামলায় তাদের জেতার কোন সম্ভাবনা নেই। প্রজ্ঞাপনটি জারীর ফলে তাদের কোন অধিকার ক্ষুন্ন হয়নি। প্রজ্ঞাপনটির সারমর্ম হচ্ছে: যদি কোন ব্যক্তি তালিকাভুক্ত কোম্পানীর পরিচালক থাকতে চান তাহলেই তাকে প্রয়োজনীয় শেয়ার ধারণ করতে হবে। কোন উদ্যোক্তা পরিচালক যদি পরিচালক থাকতে না চান, তাহলে প্রজ্ঞাপনটি তার উপর প্রযোজ্য নয়। এছাড়া, তালিকাভুক্ত কোম্পানীর উদ্যোক্তা শেয়ার তালিকাভুক্তির সময়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অধিকাংশ শেয়ার উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ছিল। পরবর্তীতে তারা বেশী লাভে উচ্চ মূল্যে তাদের শেয়ার বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাজারে যে পরিমাণ শেয়ার তারা বিক্রি করেছেন, প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তাদের বিক্রিত শেয়ারের অনেক কম শেয়ার অনেক কম দামে এখন কিনতে হবে। সুতরাং এ প্রজ্ঞাপন কোন দিক থেকেই উদ্যোক্তা পরিচালকদের অধিকার ক্ষুন্ন হয়নি। তবে তারা আদালতের শরনাপন্ন হয়ে প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করেছিলেন মাত্র। তাও শেষমেষ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। সময়ক্ষেপনের কৌশলেও শেষ পর্যন্ত তারা হেরে গেলেন। এখন আর বাজারমুখী না হয়ে তাদের কোন গতান্তর নেই।
এ বিষয়ে আইনগত মতামত জানতে চাইলে সুপ্রীম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ব্যারিস্টর মোহাম্মদ আলী শেয়ারনিউজ২৪ডটকম-কে বলেন, আদালত প্রজ্ঞাপনটি ‘কেন অবৈধ হবে না’ তা জানতে চেয়েছেন। প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেননি। সুতরাং প্রজ্ঞাপনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে আইনগত কোন বাধা নেই।
সুতরাং উদ্যোক্তা শেয়ার ধারণ সংক্রান্ত এসইসি’র প্রজ্ঞাপনটির বিষয়ে আদালতের বিচার যদি সুবিচার হয় তাহলে তা উদ্যোক্তাদের জন্য ‘ফোঁড়ার উপর বিষফোঁড়া’ হিসেবে দেখা দেয় কিনা তাই তাদের জন্য এখন আশংকার বিষয়।
সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১২
উদ্যোক্তাদের আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা, কারণ দর্শানো নোটিসে রিটকারী হতাশ
Posted by Ultra News Update on ৯:২০ AM