বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নির্দেশ লঙ্ঘন করে বাকিতে লেনদেন করায় চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে ২৬টি সাধারণ বীমা কোম্পানিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
সূত্র জানায়, জরিমানার শিকার হওয়া কোম্পানিগুলো লেনদেনের ক্ষেত্রে চলতি বছরে মোট ৩৯ বার আইন লঙ্ঘন করেছে। এর মধ্যে ৪ বার ও ৩ বার করে আইন লঙ্ঘন করেছে একটি করে কোম্পানি। দুইবার আইন লঙ্ঘন করা কোম্পানির সংখ্য ৮টি এবং বাকি ১৬টি কোম্পানি একবার করে আইন লঙ্ঘন করেছে।
সূত্র মতে, আইন লঙ্ঘন করাই আইডিআরএ কোম্পানিগুলোকে শুনানিতে ডেকে ২১ বারের জন্য ১৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। বাকি ১৮ বার আইন লঙ্ঘনের জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
লেনদেনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক ৪ বার আইন লঙ্ঘন করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভূক্ত কোম্পানি পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স। এর মধ্যে ৩ বার আইন লঙ্ঘন করায় কোম্পানিটিকে চলতি বছর আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আরও একটি প্রক্রিয়াধিন রয়েছে।
তিনবার আইন লঙ্ঘন করে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মেঘনা ইন্স্যুরেন্স। এ মধ্যে দুটির শুনানী শেষ হয়েছে এবং অপরটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুইবারে কোম্পানিটিকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
দুইবার আইন লঙ্ঘন করা কোম্পানির মধ্যে রয়েছে গ্রীণ ডেল্টা, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স, ক্রিষ্টাল ইন্স্যুরেন্স, স্ট্যান্ডার্ড ও বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি)।
এর মধ্যে আইডিআরএ দুই বার আইন লঙ্ঘন করায় গ্রীণ ডেল্টা, ক্রিষ্টাল, বিজিআইসি ও প্রগতি প্রত্যেকে মোট ১ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। ফেডারেলের জরিমান বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া এশিয়াকে এক বার আইন লঙ্ঘন করার জন্য দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অপরটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্ট্যান্ডার্ডকে একবারের জন্য জরিমানা করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা এবং অপরটি প্রক্রিয়াধীন করয়েছে। প্রাইমের দু’টিই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
একবার আইন লঙ্ঘন করাই দেড় লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে ইস্টল্যান্ড, ইউনিয়ন ও প্রভাতী ইন্স্যুরেন্স। আর ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে গ্লোবাল, ফনিক্স ও পিপলস ইন্স্যুরেন্সকে। বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এ্যাসোসিয়েশনের (বিআইএ) চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেনের বীমা কোম্পানি সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে একবার আইন লঙ্ঘনের জন্য জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এছাড়া একবার করে আইন লঙ্ঘন করার অভিযোগে জরিমানার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে রিলায়েন্স, এশিয়া প্যাসেফিক, ইস্টার্ণ, রূপালী, জনতা, ইউনাইটেড, রিপাবলীক, নর্দান, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর আইডিআরএ সাধারণ বীমা কোম্পানিগুলোর প্রিমিয়াম সংক্রান্ত লেনদেনের বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৫ হাজার টাকার বেশি প্রিমিয়াম হলে বীমা কোম্পানিকে অবশ্যই ডিডি, পে-অর্ডার, ক্রেডিট অ্যাডভাইজ, ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার, অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকের মাধ্যমে তা গ্রহণ করতে হবে। এসব ক্ষেত্রে বীমা দলিলাদি অবশ্যই চেকের অর্থ পাওয়ার পরে ইস্যু করতে হবে।
পরিপূর্ণ প্রিমিয়াম গ্রহণের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে কভার নোট, পলিসি, এনডোর্সমেন্ট অথবা অন্য যে কোনো বীমা বিষয়ক অংশজুড়ে দেয়ার আগে নিতে হবে। এছাড়া ডিডি, পে-অর্ডার অথবা চেক নম্বর এবং তারিখ মানি রিসিপ্টে উল্লেখ করতে হবে। যে কোনো ধরনের প্রিমিয়াম ফেরত (রিফান্ড) দেয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই গ্রাহকের জ্ঞাতসারে অ্যাকাউন্টপেয়ি চেকে দিতে হবে।
এছাড়া বীমা দাবি পরিশোধের ক্ষেত্রে একমাত্র দাবিদারের ব্যাংক হিসাবে অ্যাকাউন্টপেয়ি চেক দিতে হবে। যা গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে।
বুধবার, ১১ এপ্রিল, ২০১২
বাকিতে লেনদেন করায় ২৬ কোম্পানিকে ১৬ লাখ টাকা জরিমানা
Posted by Ultra News Update on ১১:০১ AM