দেশের পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনয়ন ও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ৭টি পরামর্শ দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মার্চ মাসের ৮ তারিখে আবুল মাল আবদুল মুহিতের সিল সম্বলিত এক চিঠিতে এসব পরামর্শ উল্লেখ করা হয়। পুঁজিবাজাকে কেন্দ্র করে এসব পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সম্প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।
অর্থমন্ত্রীর পরামর্শগুলো হলো-
১. শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা এখনও নাজুক। এখনও বাজারের সূচক এবং লেনদেন উভয়ই যে কোনো সময় যে কোনো কারণেই অধিক পতনমুখী হতে দেখা যায়। কিছু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখান যে, অসাধু একটি চক্র প্রায়ই তাদের ইচ্ছেমত বাজার নিয়ে খেলা করে। বাজারের প্রতি পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ এবং নজরদারির মাধ্যমে তাদের প্রভাব কমাতে হবে। এজন্য ট্রেডিং নিদর্শন এবং কিছু আপাতত সন্দেহজনক বড় বিনিয়োগকারীদের ট্রেডিং অবস্থান খুব ঘনিষ্ঠভাবে নিরীক্ষণ করা উচিত। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভিলেন্সকে শক্তিশালী করা দরকার। তাদের সার্ভিলেন্স টিমকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সার্ভিলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়। এজন্য ডিএসই’র দৈনিক বা সাপ্তাহিক লেনদেনের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এ কাজটা করতে হবে খুব সুকৌশলে, যাতে কোন ভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা ভীতির সৃষ্টি না হয়।
২. কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক সঠিক এবং যথাযথ তথ্য না জেনে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ সুবিধা প্রদান করেছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধ করার যোগ্যতা রয়েছে কি না বা গ্রাহককে ঋণ প্রদান করা যায় কি না? এসব তথ্য না জেনে ঋণ দেয়া হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে গ্রাহকদেরকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার তথ্য জেনে ঋণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।
৩. এখনও লক্ষ্য করা যায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ শুধুমাত্র একটি বা দুটি শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকে। এটা শেয়ারবাজারের মৌলভিত্তির চারিত্রিক গাইডলাইনের পরিপন্থী। বিনিয়োগকারীরা বড় পোর্টফোলিওতে একাধিক কোম্পানির (যেমন- ৩টি, ৫টি,৭টি, ১১টি) শেয়ার ধারণ করতে পারে। যেমন- ১০ লাখ ক্ষমতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ ধরনের কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা উচিত, ২৫ লাখ ক্ষমতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ বা ৭ ধরনের কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা উচিত ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংগুলো এসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।
৪. সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে মার্চেন্ট ব্যাংগুলোতে শক্তিশালী গবেষণা বিভাগ রাখা দরকার। তবে এ বিভাগ পৃথক খাতের কোম্পানির শেয়ারের উপর বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট প্রকাশ করবে। তবে কোনো ধরনের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় বা শেয়ার ধারনের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিতে পারবেনা।
৫. সাম্প্রতিক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে এক তৃতীয়াংশ স্বাধীন বা ইনডিপেনডেন্ট পরিচালকের পদ থাকতে হবে। কিন্তু এটা করতে গেলে এক পর্যায়ে স্বাধীন পরিচালক নাও পাওয়া যেতে পারে।
তাই এসইসি ও সরকার স্বাধীন পরিচালক নির্বাচনের জন্য সমৃদ্ধ একাডেমিক বা পেশাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের তালিকা প্রস্তুত করতে পারে। এ জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে একটি কমিটি গঠন করে স্বাধীন পরিচালকদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
৬. ইদানিং ফেইসবুকে কিছু কারসাজি চক্র পুঁজিবাজারের সূচক এবং ব্যক্তিগত শেয়ারের উপর দৈনিক ভুয়া বা জাল তথ্য প্রকাশ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে এসব নিষিদ্ধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের জন্য বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।
৭. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষিতসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন বা অন্য সব প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া সময় নষ্ট না করে ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং আইন ও ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং কাউন্সিল গঠন করা উচিত।
