শেয়ারবাজারে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা গত তিন মাসে ৮৮ হাজার ৩১৭টি কমে গেছে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে এলে বাজারে নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে গত ৬ ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সূচক ৩ হাজার ৬১৬ পয়েন্টে নেমে এলে বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এতে করে অনেক বিনিয়োগকারী আরও লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হয়ে যান। আবার অনেক বিনিয়োগকারী ফোর্সড সেলের আওতায় পড়ে বাজার থেকে বের হতে বাধ্য হয়েছেন। এতে করে শেয়ারধারী বেনিফিশিয়ারি ওনার অ্যাকাউন্টের (বিও) সংখ্যা কমে গেছে।
সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর পুঁজিবাজারে মোট বিও সংখ্যা ছিল ২৮ লাখ ৫ হাজার ৬২৮টি। যার মধ্যে ১৮ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬টি হিসাবে শেয়ার ছিল। অবশিষ্ট ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯২টি বিও হিসাবে কোনো শেয়ার ছিল না। শেয়ার না থাকা বিও হিসাবের মধ্যে ৪ লাখ ১ হাজার ২১০টিতে কখনোই শেয়ার ছিল না এবং বাকি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ১৮২টি হিসাবে এক সময় শেয়ার থাকলেও গত ডিসেম্বর মাসে কোনো শেয়ার ছিল না।
অন্যদিকে গত ৩ এপ্রিল বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৮ লাখ ১৬ হাজার ৯১৩টি। যার মধ্যে শেয়ারধারী হিসাবের সংখ্যা ১৭ লাখ ৮১ হাজার ৯১৯টি। ফলে মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজারে শেয়ারধারী বিও হিসাবের সংখ্যা ৮৮ হাজার ৩১৭টি কমে যায়। অবশিষ্ট হিসাবের মধ্যে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৬৭০টিতে এক সময় শেয়ার থাকলেও বর্তমানে নেই। বাকি ৪ লাখ ৬ হাজার ৩২৪টি বিও হিসাবে কখনও কোনো শেয়ার ছিল না।
সিডিবিএল সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১০ সালের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুঁজিবাজারে মোট বিও সংখ্যা ছিল ৩২ লাখ ৮৩ হাজার ৭৪৮টি। ওই বছরের ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাজারে বড় ধরনের দরপতন শুরু হলে অনেক বিনিয়োগকারী বাজার থেকে বড় ধরনের মুনাফা নিয়ে বের হয়ে যায়। ফলে ওই সময় পর্যন্ত মোট বিও হিসাবের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭৫টি হিসাবে শেয়ার ছিল। অবশিষ্ট ২০ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৩টি বিও হিসাবে ছিল না। শেয়ার না থাকা এসব বিওর মধ্যে ১২ লাখ ২৬ হাজার ৮২৮টিতে কখনোই কোনো শেয়ার ছিল না এবং বাকি ৮ লাখ ৫৯ হাজার ৭৪৫টি বিও হিসাবে এক সময় শেয়ার থাকলেও ডিসেম্বর মাসে এসব বিও হিসাব থেকে সব শেয়ার বিক্রি করে দেওয়া হয়।
সোমবার, ৯ এপ্রিল, ২০১২
তিন মাসে শেয়ারধারী বিও হিসাব কমেছে ৮৮ হাজার
Posted by Ultra News Update on ৯:৩১ AM