পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
রোববার বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ এই রুল জারি করে।
সকালে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (এনসিসিবিএল) পরিচালক হতে আবেদন করা শেখ আব্দুল মোমিনের দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে আদালত এই রুল জারি করে।
চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা কামাল। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন। সরকার পক্ষে ছিলেন, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।
রিয়াজ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২২ নভেম্বর এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ওই কোম্পানির নূন্যতম ২ শতাংশ শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করতে পারলে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।
তিনি বলেন, “রিট আবেদনকারী মোমিনের স্ত্রী মাসুদা বেগম এনসিসিবিএলের পরিচালক ছিলেন। গত ২ নভেম্বর তার মৃত্যুর পর তার শেয়ার স্বামী, তিন কন্যা ও মার মধ্যে বণ্টনের করা হয়। তার স্বামী মোমিনের ভাগে যে শেয়ার আসে তা কোম্পানির মোট শেয়ারের ২ শতাংশের কম। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি আর পরিচালক হতে পারবেন না।”
“পরিচালক পদে থাকার জন্য এসইসি এভাবে শেয়ার থাকার শর্ত জুড়ে দিতে পারেন না। কে পরিচালক থাকবে, আর কে থাকবে না, তা নির্ধারিত হয় কোম্পানি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী। সেখানে এ ধরণের কোনো কথা বলা নাই। তাই এটা আইনসম্মত নয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও জনস্বার্থে কাউকে পরিচালক পদ থেকে অব্যহতি দিতে পারে। তাই এসইসির প্রক্রিয়াটি অবৈধ”, যোগ করেন তিনি।
রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ওই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করতে আমরা আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাইনি। চেয়েছি, আগামী পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময়সীমা ২২ মের আগেই মামলাটির যেন শুনানি হয়। আদালত আমাদের আবেদনে সম্মতি দিয়ে বিবাদিদের কাছে বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে আদেশের অনুলিপি পাঠাতে বলেছেন এবং ওই তারিখের মধ্যে শুনানি করতে রাজি হয়েছেন।
গত ৪ এপ্রিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কেনার বাধ্যবাধকতার কথা উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মনে করিয়ে দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে বুধবার পাঠানো একটি চিঠিতে ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এসইসির এ নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানান।
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে গত ২২ নভেম্বর একটি আদেশ জারি করে এসইসি।
ওই আদেশে বলা হয়, একটি কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকতে হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকে পরিচালকের হাতে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে, তা না হলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন।
এসইসির এই আদেশের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২১ মে শেয়ার কেনার সময়সীমা শেষ হবে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের যারা এখনও ২ শতাংশ ও ৩০ শতাংশের কোটা পুরণ করেননি, তাদের এ সময়ের মধ্যে শেয়ার কেনা শেষ করার কথা মনে করিয়ে দিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের অনুরোধ করা হয়েছে ডিএসইর এই চিঠিতে।
