রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১২

‘পরিচালকদের শেয়ার ধারণে এসইসির প্রজ্ঞাপন কেন অবৈধ নয়’

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

রোববার বিচারপতি ফরিদ আহাম্মদ ও বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বেঞ্চ এই রুল জারি করে।

সকালে ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক লিমিটেডের (এনসিসিবিএল) পরিচালক হতে আবেদন করা শেখ আব্দুল মোমিনের দায়ের করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি করে আদালত এই রুল জারি করে।

চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে আবেদনকারী পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার ফিদা কামাল। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার মো. রিয়াজ উদ্দিন। সরকার পক্ষে ছিলেন, সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল সমরেন্দ্র নাথ।

রিয়াজ উদ্দিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, গত ২২ নভেম্বর এসইসি তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ওই কোম্পানির নূন্যতম ২ শতাংশ শেয়ার রাখা বাধ্যতামূলক করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে বলা হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করতে পারলে তারা পরিচালক পদ হারাবেন।

তিনি বলেন, “রিট আবেদনকারী মোমিনের স্ত্রী মাসুদা বেগম এনসিসিবিএলের পরিচালক ছিলেন। গত ২ নভেম্বর তার মৃত্যুর পর তার শেয়ার স্বামী, তিন কন্যা ও মার মধ্যে বণ্টনের করা হয়। তার স্বামী মোমিনের ভাগে যে শেয়ার আসে তা কোম্পানির মোট শেয়ারের ২ শতাংশের কম। ওই প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি আর পরিচালক হতে পারবেন না।”

“পরিচালক পদে থাকার জন্য এসইসি এভাবে শেয়ার থাকার শর্ত জুড়ে দিতে পারেন না। কে পরিচালক থাকবে, আর কে থাকবে না, তা নির্ধারিত হয় কোম্পানি অ্যাক্ট, ব্যাংক কোম্পানি অ্যাক্ট অনুযায়ী। সেখানে এ ধরণের কোনো কথা বলা নাই। তাই এটা আইনসম্মত নয়। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকও জনস্বার্থে কাউকে পরিচালক পদ থেকে অব্যহতি দিতে পারে। তাই এসইসির প্রক্রিয়াটি অবৈধ”, যোগ করেন তিনি।

রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ওই প্রজ্ঞাপন স্থগিত করতে আমরা আদালতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাইনি। চেয়েছি, আগামী পরিচালকদের শেয়ার কেনার সময়সীমা ২২ মের আগেই মামলাটির যেন শুনানি হয়। আদালত আমাদের আবেদনে সম্মতি দিয়ে বিবাদিদের কাছে বিশেষ বার্তা বাহকের মাধ্যমে আদেশের অনুলিপি পাঠাতে বলেছেন এবং ওই তারিখের মধ্যে শুনানি করতে রাজি হয়েছেন।

গত ৪ এপ্রিল সিকিউরিটিজ অ্যান্ড কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা মেনে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুঁজিবাজার থেকে শেয়ার কেনার বাধ্যবাধকতার কথা উদ্যোক্তা-পরিচালকদের মনে করিয়ে দেয় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।

তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) কাছে বুধবার পাঠানো একটি চিঠিতে ডিএসইর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এসইসির এ নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানান।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণের বিষয়ে গত ২২ নভেম্বর একটি আদেশ জারি করে এসইসি।

ওই আদেশে বলা হয়, একটি কোম্পানির মোট পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ৩০ শতাংশ ওই প্রতিষ্ঠানের উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের হাতে থাকতে হবে। আর ব্যক্তিগতভাবে প্রত্যেকে পরিচালকের হাতে ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে, তা না হলে তিনি পরিচালক পদ হারাবেন।

এসইসির এই আদেশের কথা উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, আগামী ২১ মে শেয়ার কেনার সময়সীমা শেষ হবে। উদ্যোক্তা-পরিচালকদের যারা এখনও ২ শতাংশ ও ৩০ শতাংশের কোটা পুরণ করেননি, তাদের এ সময়ের মধ্যে শেয়ার কেনা শেষ করার কথা মনে করিয়ে দিতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের অনুরোধ করা হয়েছে ডিএসইর এই চিঠিতে।

‘আদালতের নির্দেশনায় প্রভাব পড়বে না পুঁজিবাজারে’

পরিচালকদের ন্যূনতম শেয়ার ধারণ নিয়ে এসইসির প্রজ্ঞাপনের ওপর হাই কোর্টের রুল জারির ফলে পুঁজিবাজারে লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ।

বিনিয়োগকারীদের আতংকিত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়ে ডিএসই সভাপতি রকিবুর রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “হাই কোর্ট এসইসির প্রজ্ঞাপন স্থগিত করেনি। তারা শুধু এসইসির কাছে এ প্রজ্ঞাপন জারির কারণ জানতে চেয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের আতংকিত হওয়ার কারণ নেই।”

ডিএসই সভাপতি জানান, সোমবার সকাল ৯টায় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের সঙ্গে বৈঠকে বসবে ডিএসই নেতারা।

“এসইসির প্রজ্ঞাপন সম্পর্কে অ্যাটর্নি জেনারেলকে বোঝাবো আমরা। এসইসির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতেই হবে।”

আদালতের নির্দেশনার কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের লেনদেনে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে আশা প্রকাশ করছেন ডিএসই পরিচালক আহসানুল ইসলামও। বাজারে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন চলবে বলেও তিনি জানান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “উচ্চ আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে রোববার আমরা বোর্ড সভায় আলোচনা করেছি। এতে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যেহেতু বাজার বন্ধের বিষয়ে আদালত কোন নির্দেশ দেননি, তাই বাজারে স্বাভাবিকভাবেই লেনদেন হবে।”

তবে আইনের বিষয়টি স্পষ্ট করতে ডিএসই সভাপতির নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে দেখা করবে বলে তিনি জানান।

রোববার এক আদেশে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর পরিচালকদের ন্যূনতম ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।

চার সপ্তাহের মধ্যে অর্থ সচিব, বাণিজ্য সচিব, এসইসি চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, এনসিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, জয়েন্ট স্টক কোম্পানি অ্যান্ড ফার্মের রেজিস্ট্রার, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এই আদেশের পর করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকে বসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। সেখানে প্রথমে বাজার বন্ধ রাখার বিষয়ে আলোচনা হলেও, পরে বাজার স্বাভাবিকভাবে চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

জিএইচপি ইস্পাত ও পদ্মা ইসলামী লাইফ

পুঁজিবাজারে পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং জিএইচপি ইস্পাতকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। আজ ডিএসইর বোর্ড সভায় এ দুটি প্রতিষ্ঠানকে তালিকাভুক্তির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুুটি বিনিয়োগকারীদের বিও একাউন্টে  শেয়ার পাঠানোর পর তা ডিএসইকে অবহিত করতে হবে।  এরপর ডিএসই কোম্পানি দুটি শেয়ারহোল্ডারদের একাউন্টে শেয়ার পাঠিয়েছি কিনা তা যাচাই করে লেনদেনে সময় জানিয়ে দেবে।

এর আগে প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের আইপিও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে।

ছয় পরিচালকের সাড়ে ১৫ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের ছয় জন পরিচালক শেয়ারবাজার থেকে ৫১ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যা আজকের সর্বশেষ দর অনুযায়ী এ সকল শেয়ারের মূল্য দাঁড়ায় ১৫ কোটি ৫১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।


এর মধ্যে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের দুই পরিচালক আলহাজ্ব মো: হারুন-অর-রশিদ এ প্রতিষ্ঠানের ৭ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ও আলহাজ্ব আব্দুল মালেক মোল্লা ৫ লাখ শেয়ার ক্রয় করবেন। যার বাজার দর দাঁড়ায় ৪ কোটি ১৫ লাখ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক খন্দকার সাকিব আহমেদ এ প্রতিষ্ঠানের ১ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার টাকার মোট ৫ লাখ শেয়ার, স্টান্ডার্ড ব্যাংকের পরিচালক অশোক কুমার শাহ এ প্রতিষ্ঠানের ৫ লাখ ৯০ হাজার শেয়ার যার বাজার দর দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যাংকের পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী সিকদার এ প্রতিষ্ঠানের ১৪ লাখ ৫০ হাজার শেয়ার ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যার আজকের বাজার দর দাঁড়ায় ৫ কোটি ৩ লাখ ১৫ হাজার টাক এবং এনসিসি ব্যাংকের পরিচালক এস এম আবু মহসিন ৩ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার টাকার  এ প্রতিষ্ঠানের মোট ১৪ লাখ শেয়ার আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে বর্তমান বাজার দরে ক্রয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। ডিএসই সূত্রে জানা গেছে।

প্রবাসীদের নিয়ে ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে রক এসেট ম্যানেজমেন্ট

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি শত ভাগ যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশীদের (এনআরবি) নিয়ে ফান্ড বা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানিটির নাম হলো- রক এসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। গত ৫ এপ্রিল বিকেলে কোম্পানিটি সম্পদ ব্যবস্থাপক কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন পায়।

এর আগে প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ ব্যবস্থাপক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে কি না এবং অফিসের স্থানসহ অন্য বিষয় যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণ করে সন্তুষ্ট হয়ে এসইসি অনুমোদন ও সনদ প্রদান করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এর সনদের কোর্ড নম্বর হলো- এসইসি/এ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট/২০১২০/৩৪।

এ বিষয়ে এসইসি’র পরিচালক (প্রশাসন) শেখ মাহাবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উল্লেখ করা রয়েছে, রক এসেট ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের সম্পদ ব্যবস্থাপক কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা রয়েছে এবং অফিসের স্থানসহ অন্যান্য বিষয় যথাযথভাবে পর্যবেক্ষণে সন্তুষ্ট হয়ে এসইসি প্রতিষ্ঠানটিকে সনদ প্রদান করেছে। সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মিউচ্যুয়াল ফান্ড) বিধিমালা, ২০০১ অনুসারে রককে নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হলো।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে রক এসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জি আর চৌধুরী ও পরিচালক বশির আহমেদ শেয়ারনিউজ২৪কে বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই ফান্ড গঠনের কাজ শুরু করেছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে আমরাই প্রথম সম্পদ ব্যবস্থাপক কোম্পানি হিসেবে শত ভাগ যুক্তরাজ্য প্রবাসীদেও নিয়ে ফান্ড বা তহবিল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছি। আর এ জন্য তরুণ বাংলাদেশী পেশাদার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোম্পানির পরিচালক এবং শেয়ারহোল্ডার গ্রেট ব্রিটেনে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি সঙ্গে কাজ করে ব্যাপক অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।

রিট করলেও স্থগিতাদেশ দেয়নি হাইকোর্ট

দেশের পুঁজিবাজারের স্থিতিশীলতা আনয়ন ও এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ৭টি পরামর্শ  দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। মার্চ মাসের ৮ তারিখে আবুল মাল আবদুল মুহিতের সিল সম্বলিত এক চিঠিতে এসব পরামর্শ উল্লেখ করা হয়। পুঁজিবাজাকে কেন্দ্র করে এসব পরামর্শ বাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে সম্প্রতি প্রেরণ করা হয়েছে বলে বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে।

অর্থমন্ত্রীর পরামর্শগুলো হলো-
১. শেয়ারবাজারের বর্তমান অবস্থা এখনও নাজুক। এখনও বাজারের সূচক এবং লেনদেন উভয়ই যে কোনো সময় যে কোনো কারণেই অধিক পতনমুখী হতে দেখা যায়। কিছু ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী এর স্বপক্ষে যুক্তি দেখান যে, অসাধু একটি চক্র প্রায়ই তাদের ইচ্ছেমত বাজার নিয়ে খেলা করে। বাজারের প্রতি পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ এবং নজরদারির মাধ্যমে তাদের প্রভাব কমাতে হবে। এজন্য ট্রেডিং নিদর্শন এবং কিছু আপাতত সন্দেহজনক বড় বিনিয়োগকারীদের ট্রেডিং অবস্থান খুব ঘনিষ্ঠভাবে নিরীক্ষণ করা উচিত। বিশেষ করে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্ভিলেন্সকে শক্তিশালী করা দরকার। তাদের সার্ভিলেন্স টিমকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত না সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) সার্ভিলেন্স সফটওয়্যার স্থাপন করা হয়। এজন্য ডিএসই’র দৈনিক বা সাপ্তাহিক লেনদেনের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। এ কাজটা করতে হবে খুব সুকৌশলে, যাতে কোন ভাবেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বাজার নিয়ে কোনো ধরনের গুজব বা ভীতির সৃষ্টি না হয়।

২. কিছু মার্চেন্ট ব্যাংক সঠিক এবং যথাযথ তথ্য না জেনে গ্রাহকদের মার্জিন ঋণ সুবিধা প্রদান করেছে। এ ক্ষেত্রে গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধ করার যোগ্যতা রয়েছে কি না বা গ্রাহককে ঋণ প্রদান করা যায় কি না? এসব তথ্য না জেনে ঋণ দেয়া হয়েছে। মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে এখন থেকে গ্রাহকদেরকে ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে সকল প্রকার তথ্য জেনে ঋণ সুবিধা প্রদান করতে হবে।

৩. এখনও লক্ষ্য করা যায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি বড় অংশ শুধুমাত্র একটি বা দুটি শেয়ারে বিনিয়োগ করে থাকে। এটা শেয়ারবাজারের মৌলভিত্তির চারিত্রিক গাইডলাইনের পরিপন্থী। বিনিয়োগকারীরা বড় পোর্টফোলিওতে একাধিক কোম্পানির (যেমন- ৩টি, ৫টি,৭টি, ১১টি) শেয়ার ধারণ করতে পারে। যেমন- ১০ লাখ ক্ষমতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৩ ধরনের কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা উচিত, ২৫ লাখ ক্ষমতা সম্পন্ন বিনিয়োগকারীদের জন্য ৬ বা ৭ ধরনের কোম্পানির শেয়ার ধারণ করা উচিত ইত্যাদি। এ ক্ষেত্রে মার্চেন্ট ব্যাংগুলো এসব বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।

৪. সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে মার্চেন্ট ব্যাংগুলোতে শক্তিশালী গবেষণা বিভাগ রাখা দরকার। তবে এ বিভাগ পৃথক খাতের কোম্পানির শেয়ারের উপর বিশ্লেষণধর্মী রিপোর্ট প্রকাশ করবে। তবে কোনো ধরনের শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় বা শেয়ার ধারনের বিষয়ে বিনিয়োগকারীদের পরামর্শ দিতে পারবেনা।

৫. সাম্প্রতিক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) নির্দেশনা অনুসারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোতে এক তৃতীয়াংশ স্বাধীন বা ইনডিপেনডেন্ট পরিচালকের পদ থাকতে হবে। কিন্তু এটা করতে গেলে এক পর্যায়ে স্বাধীন পরিচালক নাও পাওয়া যেতে পারে।
তাই এসইসি ও সরকার স্বাধীন পরিচালক নির্বাচনের জন্য সমৃদ্ধ একাডেমিক বা পেশাদারী প্রতিষ্ঠান থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের তালিকা প্রস্তুত করতে পারে। এ জন্য অর্থমন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে থেকে একটি কমিটি গঠন করে স্বাধীন পরিচালকদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

৬. ইদানিং ফেইসবুকে কিছু কারসাজি চক্র পুঁজিবাজারের সূচক এবং ব্যক্তিগত শেয়ারের উপর দৈনিক ভুয়া বা জাল তথ্য প্রকাশ করে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। অবিলম্বে এসব নিষিদ্ধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এ ধরনের অপকর্মের জন্য বিশেষ নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে।

৭. পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিরীক্ষিতসহ সব ধরনের আর্থিক প্রতিবেদন বা অন্য সব প্রতিবেদন স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকাশ করতে হবে। এছাড়া সময় নষ্ট না করে ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং আইন ও ফাইন্যান্সিয়াল রির্পোটিং কাউন্সিল গঠন করা উচিত।

স্থগিতাদেশ না দেয়ায় লেনদেন চলবে-রকিব

উদ্যোক্তা  পরিচালকদের শেয়ার ক্রয় নিয়ে হাইকোর্টে রিট করলেও কোর্ট স্থগিতাদেশ না দেয়াতে আগামীকালের (সোমবার) লেনদেন চলবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি রকিবুর রহমান।

এর আগে হাইকোটের দেয়ার রুলের প্রেক্ষিতে আগামিকাল সোমবার লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ডিএসই পরিচালনা পর্ষদ।

তবে পরবর্তীতে হাইকোর্টের রুলের বিষয়ে বিস্তারিত জানার পরে লেনদেন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ডিএসই বোর্ড।

ফলে আগামীকাল লেনদেন চলবে।

এ বিষয়ে রকিবুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পুঁজিবাজার অত্যন্ত সংবেদনশীল, তাই এ উচ্চ আদালতের দেয়া চার সপ্তাহের রুলের বিষয় বিস্তারিত জানার জন্য এ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে আগামীকাল সোমবার দেখা করবে ডিএসই বোর্ড।

 রকিবুর রহমান আরো বলেন, স্থগিত আদেশ না দেয়ায় বাজারে কোন প্রভাব পড়বে না। বিনিয়োগকারীদের আতংকিত না হওয়ার অনুরোধ করেন তিনি ।